দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজেই নামিবিয়ার ইতিহাস
মাত্র দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে নেমেই দারুণ পারফরম্যান্সে সিরিজ জিতেছে ২০২৭ বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক দেশটি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে নামিবিয়ার পথচলা অনেক বছরের। তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ প্রথম খেলেছে তারা মাত্র কিছুদিন আগে। এবার দ্বিতীয় সিরিজ খেলতে নেমেই স্মরণীয় সাফল্য পেল তারা। আইসিসির সহযোগী দেশটি পাঁচ ম্যাচের সিরিজে হারিয়ে দিল পূর্ণ সদস্য আয়ারল্যান্ডকে।
উইন্ডহুকে রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে আইরিশদের ৫ উইকেট হারায় নামিবিয়া। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জিতে নেয় তারা ৩-২ ব্যবধানে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ডকে ১৩১ রানে গুটিয়ে দিয়েই জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যায় নামিবিয়া। ২০ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যান অব দা ম্যাচ হন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার জেজে স্মিট। ৩ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী পেসার জ্যাক ব্র্যাসেল।
রান তাড়ায় ৫ উইকেট হারালেও ২১.২ ওভারেই জিতে যায় তারা। ৪৪ বলে ৪৬ করেন ওপেনার লরেন স্টিসকাম্প, ১৮ বলে ৩০ অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস।
সিরিজে ২৬৪ রান করে ও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা সিরিজ হয় ইরাসমাস।
ওয়ানডে ক্রিকেটে নামিবিয়ার অভিষেক হয় ২০০৩ বিশ্বকাপে। সেই আসরের ছয় ম্যাচের পর আবার ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায় তারা ২০১৯ সালে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই ওমানকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় তারা। এরপর থেকে মোটামুটি নিয়মিতই এই সংস্করণে খেলেছে তারা।
তবে সেই ম্যাচগুলি ছিল আইসিসি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব বা আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ ডিভিশন টু কিংবা লিগ টু ধরনের বহুজাতিক টুর্নামেন্টে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ প্রথম খেলে তারা গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। অনুমিতভাবেই তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয় তারা।
এরপর এই সিরিজেও প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ড প্রত্যাশিতভাবে ৫৫ রানের জয় পায়। পরের ম্যাচেই আইরিশদের চমকে যায় নামিবিয়া। ইরাসমাসের ১২৫ বলে ১৫৬ রানের ইনিংসে ৩২১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় তারা ৩১ রানে।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে নামিবিয়ার প্রথম জয় সেটি। সেই সাফল্যের ধারা ধরে রাখে তারা পরের ম্যাচেও। এবার ইয়ান ফ্রাইলিঙ্কের সেঞ্চুরিতে ৩১৬ রান তুলে ৬৩ রানের জয়ে এগিয়ে যায় তারা সিরিজে।
চতুর্থ ম্যাচে ১৩০ রানের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় আইরিশরা। শেষ ম্যাচ জিতে নামিবিয়া গড়ল ইতিহাস। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি ছিল তাদের ৯১তম ম্যাচ। ৪১টি তারা জিতেছে, হেরেছে ৪৬টি।
আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্বাগতিক তিন দেশের একটি নামিবিয়া। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের মতো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না তারা। সহযোগী দেশ হওয়ায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলতে হবে তাদেরকে।
