৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ফাখারের সেঞ্চুরির পর মিনহাসের ঝড়ে রেকর্ড রান তাড়ায় চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

শ্রীলঙ্কার ৩২৫ রান টপকে ওয়ানডে ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের ভারতের ২৪ বছর পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করল পাকিস্তান।

ফাখারের সেঞ্চুরির পর মিনহাসের ঝড়ে রেকর্ড রান তাড়ায় চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

সেঞ্চুরির পর ফাখার জামান (বাঁয়ে)। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 10:35 PM

Updated : 31 Oct 2026, 11:28 PM

চার ম্যাচে মোটে ৩১ রান, দুইবার আউট দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে। প্রাথমিক পর্বে এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর ফাইনালের মঞ্চে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন ফাখার জামান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রান তাড়ায় উপহার দিলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন দুই তরুণ সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাস। রান তাড়ার রেকর্ড স্পর্শ করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তান।

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শাহিন শাহ আফ্রিদির দলের জয় ৩ উইকেটে।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করে ৩২৫ রান।

জবাবে প্রথম চার ওভারের মধ্যে দুই উইকেট হারালেও, ৯ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

ওয়ানডে ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়ার জয়ের যৌথ রেকর্ড এটি। ২০২২ সালে লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ৩২৫ রান টপকে জিতে রেকর্ডটি গড়েছিল ভারত।

২০০৮ সালে মিরপুরে কিটপ্লাই কাপের ফাইনালে ভারতকে হারানোর পর, এই প্রথম কোনো ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান।

প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগে ব্যাটিংয়ে ১১০ রানে গুটিয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। সেই তারাই ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতে নিল ট্রফি।

এই জয়ের নায়ক ফাখার। দ্বিতীয় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ফাইনালে একাধিক সেঞ্চুরির কীর্তি গড়ে ৯৯ বলে ১২৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১ চার ও ছয় ছক্কায় গড়া ইনিংসটির পথে অবশ্য তিনবার জীবনও পান ৩৬ বছর বয়সি বাঁহাতি ওপেনার।

তৃতীয় উইকেটে ফাখারের সঙ্গে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের জুটিতে দলকে কক্ষপথে ফেরানো সাদ করেন ৭৫ বলে ৭৪। সাত নম্বরে চার ছক্কা ও তিন চারে ৩১ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংসে দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে ফেরেন মিনহাস। ষষ্ঠ উইকেটে হাসান নাওয়াজের সঙ্গে ৬৫ বলে ৯৪ রানের জুটিতে মিনহাসের একার অবদানই ৬১।

পাঁচ ম্যাচে দুই ফিফটিতে ১৪৯ রান ও হাত ঘুরিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন ২১ বছর বয়সি এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় ওভারে দিলশান মাদুশাঙ্কাকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় স্লিপে ধরা পড়েন মাজ সাদাকাত। মাদুশাঙ্কার পরের ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে চতুর্থ স্লিপে ক্যাচ দেন বাবর আজম। কয়েকবারের চেষ্টায় বল মুঠোয় জমান পাভান রাত্নায়াকে।

পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তখন ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পাকিস্তান।

তবে পাল্টা আক্রমণে দলের ওপর চাপ জেঁকে বসতে দেননি সাদ ও ফাখার। জমে ওঠে তাদের জুটি। সাদ প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন ৫২ বলে। ৫৯ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন ফাখার।

শ্রীলঙ্কার জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা দেড়শ কাছাকাছি জুটি ভাঙেন অফ স্পিনার মাহিশ থিকশানা। বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দেন সাদ।

একটু পর ফাখার দ্বাদশ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন আসিথা ফার্নান্দোকে চার মেরে, ৮৪ বলে। অবশেষে ৩৫তম ওভারে তাকে বোল্ড করা থামান মাদুশাঙ্কা। সালমান আলি আগা ফেরেন ১৭ রান করে।

শেষ ১০ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৮২ রান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেই ব্যবধান কমিয়ে আনেন মিনহাস। দাসুন শানাকার পর মাদুশাঙ্কাকে ছক্কায় ওড়ান তিনি। ৪৮তম ওভারে আসিথার প্রথম তিন বলে দুটি ছক্কা একটি চারের পথে তিনি ফিফটি পূর্ণ করেন ২৮ বলে এবং আউট হয়ে যান চতুর্থ বলে।

জয় থেকে তখন স্রেফ ২ রান দূরে পাকিস্তান। পরের বলে ফাহিম আশরাফ আউট হলেও, পরের ওভারে ছক্কায় জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক আফ্রিদি। দুটি চারে ৪৫ বলে ৩৭ রান করেন নাওয়াজ।

(বিস্তারিত আসছে)

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩২৫/৮ (আভিশকা ৩৮, কামিন্দু মেন্ডিস ১৩১, কুসাল মেন্ডিস ৮, রাত্নায়াকে ৭৭, শানাকা ১৭, লিয়ানাগে ৬, আরাচ্চিগে ১৫, ওয়েলালাগে ৩, থিকশানা ৯*, আসিথা ৬*; আফ্রিদি ১০-০-৫০-২, নাসিম ১০-০-৮০-২, মিনহাস ১০-০-৬৪-০, সালমান ৭-০-৪৪-২, রউফ ১০-১-৬০-২, ফাহিম ৩-০-২৩-০)

পাকিস্তান: ৪৮.৩ ওভারে ৩৩১/৭ (ফাখার ১২৭, সাদাকাত ৫, বাবর ০, সাদ ৭৪, সালমান ১৭, নাওয়াজ ৩৭*, মিনহাস ৬১, ফাহিম ০, আফ্রিদি ৬*; আসিথা ৯-১-৭২-২, মাদুশাঙ্কা ৯.৩-১-৬৩-৩, থিকশানা ১০-০-৫৭-১, লিয়ানাগে ২-০-১৫-০, আরাচ্চিগে ১-০৯-০, ওয়েলালাগে ১০-০-৫৮-১, শানাকা ৭-০-৫৭-০)

ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ফাখার জামান

ম্যান অব দা সিরিজ: আরাফাত মিনহাস