Published : 11 Dec 2025, 11:29 PM
প্রথম ম্যাচে শূন্য রানের হতাশা পেছনে ফেলে নব্বই ছোঁয়া বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন কুইন্টন ডি কক। ডেভিড মিলার ও ডনোভান ফেরেইরার শেষের ঝড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পেল বড় পুঁজি। রান তাড়ায় লড়াই জমাতেই পারল না ভারত। দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল প্রোটিয়ারা।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৫১ রানে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
নিউ চান্ডিগাড়ে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ২১৩ রান। জবাবে ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
৫ রানের মধ্যে ভারত হারায় শেষ ৫ উইকেট। তিলাক ভার্মা (৩৪ বলে ৬২) ছাড়া দলটির আর কেউ ভালো করতে পারেননি।
৭ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৬ বলে ৯০ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান ডি কক।
ভারতের ১০ উইকেটই নেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা। সিরিজে প্রথম খেলতে নেমে ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার ওটনিয়েল বার্টমান। লুঙ্গি এনগিডি, মার্কো ইয়ানসেন ও লুথো সিপামলা ধরেন দুটি করে শিকার।
এই সংস্করণে প্রথমবার পেসারদের বিপক্ষে সবগুলো উইকেট হারাল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অর্জনও প্রথমবার।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। প্রথম ওভারে শূন্য রানে ফেরেন শুবমান গিল। দুই ছক্কা মেরে পরের ওভারে ইয়ানসেনের দারুণ ডেলিভারিতে বিদায় নেন আভিশেক শার্মা।
অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ ব্যর্থ হন আরেকবার। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় ভারত।
তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠানো আকসার প্যাটেল ব্যাটে-বলে করতে সংগ্রাম করছিলেন শুরু থেকে। তিনি বিদায় নেন ২১ বলে ২১ রান করে। অষ্টম ওভারে ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত।
সেখান থেকে ভারত ইনিংসের একমাত্র পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি পায় তিলাক ও হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাটে। পঞ্চম উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৫১ রান, তবে জুটিতে বল খেলে ফেলেন তারা ৪১টি।
আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করা পান্ডিয়া এবার ২০ রান করতে খেলেন ২৩ বল। দ্রুত রান তুলে জিতেশ শার্মা (১৭ বলে ২৭) ফেরেন অষ্টাদশ ওভারে। ততক্ষণে ম্যাচ ভারতের নাগালের বাইরে।
১৯তম ওভারে ৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন বার্টমান। পরের ওভারে প্রথম বলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিলাকের বিদায়ে ম্যাচের সমাপ্তি।
৫ উইকেটে ১৫৭ থেকে ৯ বলের মধ্যে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত।
শেষের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটাও হয় ভালো। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ডি ককের তিন ছক্কা ও রিজা হেনড্রিকসের এক ছক্কা মিলিয়ে প্রথম চার ওভারে আসে ৩৮ রান। পরের ওভারে প্রথম বলে হেনড্রিকসকে ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন রহস্য স্পিনার ভারুন চক্রবর্তি।
১ রানে জীবন পেয়ে এগিয়ে যান অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। ডি কক ফিফটি করেন ২৬ বলে। একাদশ ওভারে একশ ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওই ওভারটি শেষ করতে পেসার আর্শদিপ সিংয়ের লাগে ১৩ বল! ওয়াইড দেন তিনি সাতটি।

এই সংস্করণে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ওভারে সবচেয়ে বেশি বলের নজির এটি। অনাকাঙ্ক্ষিত এই রেকর্ডে আফগানিস্তানের নাভিন-উল-হাকের পাশে বসেছেন আর্শদিপ।
পরের ওভারে ভারুনকে দুই ছক্কা মেরে বিদায় নেন মার্করাম (২৬ বলে ২৯)। ডি কক জাগান সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। কিন্তু রান আউটে শেষ হয়ে যায় তার আশা।
ভারুনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ফলো থ্রুতে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। বল ধরেই ক্ষিপ্রতায় স্টাম্প ভেঙে দেন কিপার জিতেশ।
ডেওয়াল্ড ব্রেভিস একটি করে চার ও ছক্কায় করতে পারেন ১৪ রান। ফেরেইরা (১৬ বলে ৩০*) ও মিলারের (১২ বলে ২০*) ২৩ বলে ৫৩ রানের জুটিতে দুইশ ছাড়িয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ ৩ ওভারে আসে ৪৯ রান। সেটিই গড়ে দিল বড় পার্থক্য।
আগামী রোববার তৃতীয় ম্যাচ হবে ধারামসালায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ২১৩/৪ (ডি কক ৯০, হেনড্রিকস ৮, মার্করাম ২৯, ব্রেভিস ১৪, ফেরেইরা ৩০*, মিলার ২০*; আর্শদিপ ৪-০-৫৪-০, বুমরাহ ৪-০-৪৫-০, ভারুন ৪-০-২৯-২, আকসার ৩-০-২৭-১, পান্ডিয়া ৩-০-৩৪-০, দুবে ২-০-১৮-০)
ভারত: ১৯.১ ওভারে ১৬২ (আভিশেক ১৭, গিল ০, আকসার ২১, সুরিয়াকুমার ৫, তিলাক ৬২, পান্ডিয়া ২০, জিতেশ ২৭, দুবে ১, আর্শদিপ ৪, ভারুন ০, বুমরাহ ০*; এনগিডি ৩.১-০-২৬-২, ইয়ানসেন ৪-০-২৫-২, সিপামলা ৪-০-৪৬-২, ফেরেইরা ১-০-১৪-০, বার্টমান ৪-০-২৪-৪, লিন্ডা ৩-০-২৩-০)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫১ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুটির পর ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুইন্টন ডি কক