Published : 12 Apr 2026, 08:21 PM
আম্পায়ারদের নিয়ে মজা করেই হয়তো সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যটা করেছিলেন কারান কেসি। কিন্তু তার সেই মন্তব্যই তোলপাড় ফেলে দেয় নেপালের ক্রিকেটে। ক্ষমা চেয়েও শেষ পর্যন্ত পার পেলেন না দেশটির অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। পেতে হলো নিষেধাজ্ঞা।
নেপালে চলছে একদিনের ম্যাচের প্রতিযোগিতা পিএম কাপ। গত শুক্রবার মাধেশের বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান বাগমতি অধিনায়ক ও তারকা লেগ স্পিনার সান্দিপ লামিছানে। আম্পায়ারের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে থাকেন তিনি বেশ কিছু সময় ধরে। পরে অন্য খেলোয়াড়রা সরিয়ে নেয় তাকে।
সেই মুহূর্তের ছবি শনিবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয় ‘ট্রল ক্রিকেট নেপাল’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে। সেখানেই কারান লেখেন, “কোনো খেলোয়াড় ভুলবশত কোনো আম্পায়ারকে মারলে তাকে কত ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে? শুধু জিজ্ঞাসার জন্য। খেলোয়াড়দের জানার ও সুরক্ষার জন্য।”
কারানের এই মন্তব্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় নেপালের আম্পায়ার্স ও স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশন।
পিএম কাপে নেপাল পুলিশ ক্লাবের হয়ে খেলা কারান পরে ফেইসবুকে এক পোস্টে লেখেন, স্রেফ মজা করেই অমন মন্তব্য করেছিলে তিনি।
“আমি মজা করে একটি প্রশ্ন করেছিলাম, ‘একজন খেলোয়াড় ও আম্পায়ারের মধ্যে মারামারি হলে কী হবে?’ যেহেতু ক্রিকেটে আম্পায়ার, কোচ ও খেলোয়াড়রা সবাই একটা পরিবারের মতো, তাই আমার এই রসিকতায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
তবে শাস্তি এড়াতে পারেননি নেপালের হয়ে ৬৫ ওয়ানডে ও ৮৮ টি-টোয়েন্টি খেলা এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তার ম্যাচ ফির শতভাগ জরিমানা করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল (সিএএন)।
কাঠমান্ডু পোস্ট এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সিএএন এক বিবৃতিতে বলেছে, “চলমান প্রধানমন্ত্রী কাপ একদিনের টুর্নামেন্ট চলাকালীন নেপাল পুলিশ ক্লাবের এক খেলোয়াড়ের করা মন্তব্য খেলার চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।”
সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিএএনের মুখপাত্র চুম্বি লামা।
নেপালের ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ প্রকাশের ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে নেপাল প্রিমিয়ার লিগ পর্যন্ত, এমনকি বিদেশি ক্রিকেটাররাও নেপালি আম্পায়ারদের কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বিভিন্ন সময়ে।