Published : 14 Mar 2026, 08:59 AM
সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে পাকিস্তান দলের মিডিয়া ম্যানেজার বললেন, “কত প্রশ্ন আছে আপনাদের… ওই ঘটনা নিয়ে কজন প্রশ্ন করতে চান…?” কথা শুনে সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি হেসে ফেললেন তার পাশে বসে থাকা সালমান আলি আগাও। ঘটনার কেন্দ্রে থাকা একজন যখন সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন, অনেক প্রশ্নের ভিড় তো থাকবেই। সেটা জেনেই এখানে এসেছিলেন সালমান। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান তুলে ধরলেন আলোচিত ঘটনায় তার দৃষ্টিভঙ্গি।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুক্রবার একটু অস্বাভাবিকভাবে রান আউটের শিকার হয়েছেন সালমান, রান আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
৩৯তম ওভারে মিরাজের বল মিড অনের দিকে খেলেন রিজওয়ান। নন-স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যান সালমানের দিকে যায় বল, তিনি তখন ক্রিজের বেশ বাইরে। ফিল্ডিং করতে ছুটে যান মিরাজ। কিন্তু তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সালমানের শরীর। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান চেষ্টা করছিলেন মিরাজকে আড়াল করতে। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক তবু পেছনে থেকেই পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন বল।
সালমান তখন উদ্যত হন নিচু হয়ে বল ধরতে। কিন্তু তার আগেই মিরাজ দ্রুতগতিতে বল ধরে আন্ডারআর্ম থ্রোয়ে সরাসরি স্টাম্পে লাগান বল। সালমান তখনও ক্রিজের বেশ বাইরে।
আউট হয়ে বেশ কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান সালমান। গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে মারেন এক দফায় মাঠে, আরেক দফায় মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়। মিরাজ, লিটন কুমার দাস এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয় তার।
এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে ম্যাচের সময় থেকেই। ক্রিকেট বিশ্বে অনেকেই বিভক্ত হয়ে গেছেন ক্রিকেটের আইন আর ক্রিকেটের চেতনার সেই চিরকালিন দ্বন্দ্বে।
সালমান সংবাদ সম্মেলনে বললেন, তিনি মিরাজের জায়গায় থাকলে এভাবে রান আউট করতেন না। তার প্রতিক্রিয়া অবশ্য তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় হয়ে গেছে বলে দাবি করলেন।
“আমি আপনাদের বলতে পারি ঘটনার পরে কী হয়েছে। সবাই দেখেছে কী হয়েছে। অনেকটা মুহূর্তের উত্তেজনায় ঘটে যাওয়ার মতো ব্যাপার। তবে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি ওখানে থাকলে কী করতাম, আমি ভিন্নভাবে করতাম। তবে এরপর যা হয়েছে, সবটুকুই ‘হিট অব দা মোমেন্টে’ হয়ে গেছে।”
আইন অনুযায়ী আউটে যে সমস্যা নেই, তা বলছেন সালমানও। তবে তার কাছে খেলাধুলার চেতনাই সবকিছুর ওপরে।
“অবশ্যই এটা আইনে আছে এবং আমি এমন একজন, সবসময়ই আইন অনুসরণ করতে চাই। তবে কখনও কখনও স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের ব্যাপার যখন আসে… স্পোর্টসম্যান স্পিরিট সেখানে থাকতে হবে, যা কিছুই হোক না কেন।”
“হ্যাঁ, এটা আইনে আছে। সে যদি এটাকে ঠিক মনে করে তো তার কাছে এটা ঠিক। তবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি যদি জানতে চান, আমি অবশ্যই অন্য কিছুই করতাম। স্পোর্টসম্যান স্পিরিটই বেছে নিতাম।”
সালমান ক্রিজের বাইরে গিয়ে কেন দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেন তিনি ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করলেন, কী চলছিল তার মাথায়, এমন প্রশ্নও উঠছে। সালমান শোনালেন তার ওই সময়ের ভাবনা।
“বল আমার প্যাডে লাগে, পরে ব্যাটে লাগে। আমার তখন মনে হয়েছে, এখন তো আর আউট হতে পারব না। কারণ বল এর মধ্যেই আমার প্যাডে ও ব্যাটে লেগেছে। এজন্য চেষ্টা করছিলাম তাকে (মিরাজ) বল দিতে। রান নেওয়া বা এরকম কিছুর চেষ্টা করছিলাম না। আমি সেটাই করার চেষ্টা করছিলাম, তার ভাবনা অবশ্যই ভিন্ন ধরনের ছিল।”
মিরাজ যদি তখন বলটি ফেরাতে না পারতেন এবং বল লং অনে যেত, তাহলেও সিঙ্গল নেওয়ার চেষ্টা করতেন না বলে দাবি করলেন ৩২ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“নাহ, আমি নিতাম না (রান)। আমিও তখন ভাবছিলাম… যেহেতু আমি তার পথের সামনে ছিলাম, ভাবছিলাম যে, নিশ্চিতভাবেই রান নেওয়ার চেষ্টা করতাম না।”
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক জোর দিয়েই দাবি করলেন, তারা কখনও এই ধরনের আউটের জন্ম দেবেন না।
“নাহ, কখনোই না। আগেও কখনও আমরা করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।”
ম্যাচ শেষে করমর্দন পর্বে মিরাজ ও সালমানকে হাত মেলাতে দেখা গেছে। তবে কথা হয়নি বলে জানালেন সালমান।
“এখনও কথা বলিনি… তবে চিন্তা করবেন না, ঠিক আছি আমরা…।”