Published : 02 Sep 2025, 08:52 AM
“আসলে ভাইয়া, আমরা তো অ্যাটাকিং ক্রিকেট খেলছি, আরও কি অ্যাটাকিং চাচ্ছেন?”, তানজিদ হাসানের মুখে হাসি, কিন্তু তার কণ্ঠেই ফুটে উঠছিল, প্রশ্নটা হয়তো ঠিক পছন্দ হয়নি তার। পাল্টা প্রশ্ন করে বাংলাদেশের ওপেনার বোঝাতে চাইলেন, যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই তারা খেলছেন এখন।
এমন এক দিনে তানজিদ কথাটি বললেন, যেদিন এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ছক্বার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, এ দিনই রেকর্ডটি আগে গড়েছিলেন তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী পারভেজ হোসেন ইমন। তাওহিদ হৃদয় আর জাকের আলির গত বছরের ২১ ছক্কা ছাড়িয়ে এবার ২২ ছক্কা মারেন পারভেজ। পরে দুটি ছক্কা মেরে পারভেজকে পেরিয়ে ২৩ ছক্কা হয়ে যায় তানজিদের।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আগের চেয়ে ছক্কা মারার প্রবণতা ও সামর্থ্য বেড়েছে, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের তাড়না বেড়েছে এটি নিয়েও সন্দেহ নেই। পরিসংখ্যানও সেটির প্রমাণ মেলে ধরবে।
এই বছর ১৪ টি-টোয়েন্টিতে ওভারপ্রতি ৮.৩৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালের স্রেফ একটি টি-টোয়েন্টিকে বিবেচনার বাইরে রাখলে এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের ওভারপ্রতি রান এবারের চেয়ে বেশি ছিল ্রেফ ২০১৩ সালে। সেবার চার ম্যাচ খেলে ওভারপ্রতি রান ছিল ৮.৭৫।
লিটন কুমার দাসের দলের উন্নতি নিয়ে তাই সংশয় নেই। তবে বিশ্ব ক্রিকেট এখানে যে গতিতে ছুটে চলছে, বাংলাদেশ তো এখনও সেখানে অনেক অনেক পেছনে। এই বছরই যেমন, পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ওভারপ্রতি রানে বাংলাদেশ আছে আট নম্বরে।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত স্ট্রাইক রেট এ বছর এখনও পর্যন্ত ১৩১.৫৯। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তানজিদ-লিটনদের অবস্থান এখানে নবম।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শেষে তানজিদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাদের উন্নতি নিয়েই, আগের চেয়ে বেশি আগ্রাসন দেখানোর কৌশল দল হিসেবেই নেওয়া হয়েছে কি না। তানজিদ হয়তো প্রশ্ন বুঝতেই ভুল করেই জবাব দিলেন, “আসলে ভাইয়া, আমরা তো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছি, আরও কি আক্রমণাত্মক চাচ্ছেন? আমি এটা আসলে…।”
পরে তাকে প্রশ্ন আবার বুঝিয়ে দেওয়ার পর অবশ্য উত্তর দিলেন অন্যভাবে।
“আমাদের পুরো দলকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, যে যার মতো খেলতে পারবে। যার যে ভূমিকা আছে, তা মাঠে কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তা পরিষ্কার করে দেওয়া আছে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।”
তানজিদের নিজের উন্নতি অবশ্য চোখে পড়ার মতোই। গত বছর ১৮ ম্যাচ খেলে তিন ফিফটি করেছিলেন তিনি। ব্যাটিং গড় ছিল ২১.৫৬, স্ট্রাইক রেট ১১৪.২৩। এ বছর এখনও পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে ফিফটি ৩টি। ব্যাটিং গড় ৩৫.৭২, স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৫৫।
তিনি অবশ্য এখনও নিজেকে হার্ড হিটার মনে করেন না। তবে সম্প্রতি পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের সঙ্গে কাজ করার পর এখানেও সামনের পথচলায় উন্নতি করতে পারবেন বলেই আশা ২৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের।
“আমি যে ধরনের ব্যাটসম্যান, আমার জন্য হার্ড হিটিং করাটা কঠিন। আমি চেষ্টা করছি… উডের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। এখান থেকে কীভাবে আরেকটু ভালো হিটিং করতে পারি, সেটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। তবে তিনি খুব বেশি নড়াচড়া করছেন না আমাকে (ব্যাটিংয়ের ধরন)। শুধু এখান থেকে কীভাবে আরও ভালো শেইপ নিয়ে, আরও ভালো ব্যালান্স নিয়ে কীভাবে আমি আরও ভালো করতে পারি, এটা নিয়েই কাজ করছি তার সঙ্গে।”