জয়সওয়ালকে নিয়ে প্রশ্নে অশ্বিন বললেন, ‘এসব শুনলে হাসি পায়’

টেস্ট ক্যারিয়ারের দারুণ শুরু করা ইয়াশাসবি জয়সওয়াল অস্ট্রেলিয়ায় সফল হতে পারবেন কি না, এমন সংশয়ের জবাব দিলেন অশ্বিন।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 March 2024, 07:43 AM
Updated : 30 March 2024, 07:43 AM

টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতেই ডানা মেলে উড়ছেন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল। ২২ গজে তার রানের জোয়ার রেকর্ডের খাতায়ও বইয়ে দিয়েছে প্লাবন। তবে তার এই স্রোত কি অস্ট্রেলিয়াতেও বইবে সমান ধারায়? প্রশ্নটি শুনেই হেসে উড়িয়ে দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এই স্পিন গ্রেটের মতে, নবীন কোনো তারকাকে নিয়ে এই ধরনের আলোচনা ভারতেই বেশি হয়।

গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে আবির্ভাব জয়সওয়ালের। অভিষেকেই ১৭১ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। পরের টেস্টে করেন ফিফটি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটি তার মোটেও ভালো কাটেনি। সেখানে চার ইনিংস মিলিয়ে মোট রান করেন ৫০। তবে সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তিনি তোলপাড় ফেলে দেন দারুণ পারফরম্যান্সে।

টানা দুই টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিসহ ৫ টেস্টের এই সিরিজে ৮৯ গড়ে ৭১২ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার। ভারতের সুদীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে এক সিরিজে ৭০০ রান করার কীর্তি ছিল আগে কেবল সুনিল গাভাস্কারের (দুই দফায়)।

সব মিলিয়ে ৯ টেস্টে তার রান এখন ৬৮.৫৩ গড়ে ১ হাজার ৬৮। ভারতের ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেছেন হাজার টেস্ট রানের সীমানা।

তবে বছরের শেষ নাগাদ তার অপেক্ষায় কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারত।

সম্প্রতি ‘ক্লাব প্রেইরি পডকাম্ট’-এ সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার মাইকেল ভন প্রসঙ্গটি তোলেন। অস্ট্রেলিয়ায় আদৌ সফল হতে পারবেন কি না জয়সওয়াল। অশ্বিন বললেন, এই ধরনের আলোচনাই তার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়।

“এসব এমন একটা ধারণা, যেটায় আমার সত্যিকার অর্থেই হাসি পায়। বিশেষ করে ভারতে কেউ যখন দারুণভাবে দৃশপটে আবির্ভুত হয়, তখন অনেক বিশেষজ্ঞই এরকম বলে থাকেন যে, ‘অপেক্ষা করুন, দেখুন সে অস্ট্রেলিয়ায় কেমন করে, দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ডে কেমন করে।’ এরকম নানা কিছু বলা হয়।”

“আমার এটা অদ্ভুতরকমের হাস্যকর লাগে। কারণ, আপনি কারও ব্যর্থতা কামনা না করলে এরকম কিছু বলার কথা নয়। এসব বলার মনে হলো, আপনি কারও ব্যর্থতার অপেক্ষায় আছেন।”

অশ্বিনের মতে, প্রতিটি সিরিজ ও সফর মানেই হলো নতুন অভিজ্ঞতা এবং শেখার সুযোগ। ক্রিকেটারদের ভেতরের তাড়নাই তার কাছে মুখ্য।

“ব্যাপারটা হলো অভিজ্ঞতার, তাই না? জীবন মানেই হলো নতুন নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং তা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। কোনো জায়গায় সফরে যাওয়া ও জয় করার মূল ব্যাপারই এটি। দিনশেষে, একজন ক্রিকেটারের মানসিকতা থাকে সবকিছু জয় করা। এই মানসিকতাই একজনকে চূড়ায় পৌঁছে দেয়।”

অস্ট্রেলিয়ায় হোক বা অন্য কোথাও বা কোনো সিরিজে, ক্রিকেটীয় নিয়মেই জয়সওয়াল একসময় ব্যর্থ হবেন বলে মনে করেন অশ্বিন। তবে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ ১০০ টেস্টে ৫১৬ উইকেট শিকারি এই স্পিনারর কাছে।

“ইয়াশাসভি সহজাত একজন বল-স্ট্রাইকার। সে এমন একজন, এখনও পর্যন্ত যেখানে হাত দিয়েছে, কেবল সোনা ফলেছে। তবে আমি নিশ্চিত, পথচলায় একটা সময় গিয়ে সে ব্যর্থ হবেই এবং তখনই শিখবে, সফল হতে কী প্রয়োজন।”

“অসাধারণ এই খেলাটির দারুণ ব্যাপার এটিই। আমার মতে, অস্ট্রেলিয়া হোক বা যে কোনো জায়গায় সফল হওয়ার উপকরণ আছে ইয়াশাসভির। তবে পথচলায় কখনও কখনও তাকে শেখার ভেতর দিয়ে যেতে হবে এবং তা হবে মহামূল্য। ব্যর্থতাও তার আসবে এবং অমূল্য অভিজ্ঞতা হবে তার। এসব অভিজ্ঞতার পর সে এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ ভালো ক্রিকেটার হয়ে উঠবে।”

আইপিএল দল রাজস্থান রয়্যালসে একসঙ্গেই খেলে থাকেন অশ্বিন ও জয়সওয়াল। অভিজ্ঞ স্পিনারের মতে, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকেই আরও বেশি ঋদ্ধ হবেন তার তরুণ সতীর্থ।

“সে কোথাও গিয়ে সফল হবে কি না, সেটা এখনই বলাটা একটু আগেভাগেই হয়ে যায়। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত, মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে তার। এখনকার মতো এত রান করতে পারবে কি না, সেটা সময়ই বলবে। আমার আশা থাকবে, সে এভাবেই করে যাবে। তবে যদি করতে না পারে, সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অনেক শেখাবে এবং ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য তা আরও উপযোগী হয়ে উঠবে।”