‘মানসিকভাবে পীড়াদায়ক, খুব বেদনাদায়ক’, আইপিএল ছাড়ার কারণ জানালেন অশ্বিন
এখন বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চান না ভারতীয় অফ স্পিনিং গ্রেট।
আইপিএলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল রাভিচান্দ্রান অশ্বিনের। কিন্তু খেলার মতো মানসিক শক্তি তিনি পাচ্ছিলেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিকে বিদায় জানানোর সাত মাস পর ভারতের অফ স্পিনিং গ্রেট খোলাসা করলেন, কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
আইপিএলে ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেন অশ্বিন। ২০১০ ও ২০১১ আসরে দলটির শিরোপা জয়ে রাখেন অবদান। এরপর পাঞ্জাব কিংস, রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস, দিল্লি ক্যাপিটালস, রাজস্থান রয়্যালস ঘুরে ২০২৫ আসরের আগে চেন্নাইয়ে ফেরেন তিনি। সেবার নিলামে ৯ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
কিন্তু চেন্নাইয়ের চরম হতাশার আসরে ভালো করতে পারেননি অশ্বিন নিজেও। ৯ ম্যাচ খেলে স্রেফ ৭ উইকেট নিয়েছিলেন ওভারপ্রতি ৯.১২ রান দিয়ে, যা তার আইপিএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে মৌসুম। তার পরও অভিজ্ঞতা ও উপযোগিতার কারণে তার প্রতি আগ্রহীই থাকার কথা ছিল দলগুলোর।
কিন্তু গত অগাস্টে হুট করেই আইপিএল তথা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন অশ্বিন। যেমনটা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। যেখানে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলাও থেমে যায়।
স্রেফ চার জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে থেকে আইপিএলের গত আসর শেষ করা চেন্নাইয়ের এবারের মৌসুমের শুরুটাও বাজে হয়েছে। প্রথম তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে সবার নিচে আছে তারা।
রোববার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে চেন্নাইয়ের হারের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, এবারের আসরেও খেলতেই পারতেন তিনি। তবে আগের আসরটি তার জন্য মানসিকভাবে পীড়াদায়ক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব বেশি ভাবতে চান না।
“আমি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচটি দেখেছি, কিন্তু মনে রাখবেন, সম্প্রতি সিএসকের সঙ্গে একটি হতাশাজনক মৌসুম কাটিয়েছি আমি, ব্যক্তিগতভাবেও আমার জন্য হতাশাজনক মৌসুম ছিল এটি। সত্যি বলতে আমার মনে হয়েছে, আমি আরও খেলতে পারতাম, কিন্তু খেলার মতো মানসিক শক্তি আমার ছিল না।”
“আমি এসব নিয়ে বলতে চাই না, এটা মানসিকভাবে পীড়াদায়ক। এটা আমার জন্য ছিল খুব বেদনাদায়ক। আমি সেখানে যেতে চাই না। কিছুটা আলোচনা করার পর জানিয়ে দিই, আমি চেন্নাই থেকে শুরু করেছি, নিজের শহরেই শেষ করছি, ঠিক আছে। আমি নিজেই অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ আমাকে রাখা হবে নাকি ছেড়ে দেওয়া হবে, তা নিয়ে তাদের (ম্যানেজমেন্টের) ভাবতে হয়নি। আমি চলে যাওয়ায় তাদের ১০ কোটি রুপিও বেঁচে যায়। আমি এখনও হতাশ। আমার প্রত্যাশা ছিল, আশা ছিল।”
