Published : 28 Jan 2026, 11:22 PM
শিভাম দুবে যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, জয়ের আশা ভালোভাবেই জিইয়ে ছিল ভারতের। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ফিফটি করা এই অলরাউন্ডার দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটে বিদায় নেওয়ার পর, আর পেরে উঠল না তারা। বড় জয় পেল নিউ জিল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর চতুর্থটিতে নিউ জিল্যান্ডের জয় ৫০ রানে।
ভিসাখাপাত্নামে বুধবার ২১৫ রানের পুঁজি গড়ে স্বাগতিকদের ১৬৫ রানে গুটিয়ে দিয়েছে কিউইরা।
৫০ বলে ১০০ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটির পর, ৬৩ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউ জিল্যান্ড, নইলে সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত তাদের।
৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ বলে ৬২ রান করে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ টিম সাইফার্ট। আরেক ওপেনার ডেভন কনওয়ে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ২৩ বলে ৪৪ রান।
রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে একাদশ ওভারে ভারতের স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৮২। ছয় নম্বরে নেমে স্রেফ ১৫ বলে ফিফটি করেন দুবে।
৫ উইকেট হাতে নিয়ে ভারতের প্রয়োজন যখন ৩১ বলে ৭১ রান, তখনই আউট হয়ে যান দুবে। ৭ ছক্কা ও ৩ চারে ২৩ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
দারুণ বোলিংয়ে ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের সফলতম বোলার অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে টানা তিনটি চার মেরে ডানা মেলে দেন সাইফার্ট। পরের ওভারে তিনি মারেন ছক্কা ও চার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা আসে কনওয়ের ব্যাটে।
প্রথম ৬ ওভারে নিউ জিল্যান্ড তোলে বিনা উইকেটে ৭১ রান।

ভারতের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ এটি। ২০২০ সালে অকল্যান্ডে বিনা উইকেটে ৬৮ ছিল তাদের আগের সর্বোচ্চ।
সাইফার্ট ফিফটি পূর্ণ করেন ২৫ বলে, ভারতের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে যা যৌথভাবে দ্রুততম। ২০২০ সালে অকল্যান্ডে রস টেইলর ও কেন উইলিয়ামসনও ফিফটি ছুঁয়েছিলেন ২৫ বলে।
ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে ফেরেন কনওয়ে। শতরানের জুটি থামার পর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা।
রাচিন রাভিন্দ্রা টিকতে পারেননি। ফিফটির পর সাইফার্টও বেশিদূর যেতে পারেননি। ১৬ বলে ২৪ রান করে ফেরেন গ্লেন ফিলিপস। মার্ক চ্যাপম্যান ও স্যান্টনারের দ্রুত বিদায়ে স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১৬৩।
সেখান থেকে দলের স্কোর দুইশ ছাড়ানোর কৃতিত্ব ড্যারিল মিচেলের। ছয় নম্বরে নেমে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ১৮ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
ভারতের হয়ে পাঁচ জন হাত ঘুরিয়ে ওভারপ্রতি আটের বেশি রান দেন প্রত্যেকেই। সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন আর্শদিপ সিং ও কুলদিপ ইয়াদাভ।
এই মাঠে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ২১০ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কেউ। ভারতকে গড়তে হতো তাই নতুন রেকর্ড।
কিন্তু বড় ধাক্কা খায় তারা শুরুতেই। ইনিংসের প্রথম বলে আউট হন বিস্ফোরক ওপেনার আভিশেক শার্মা। অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দেন দ্বিতীয় ওভারে।
জোড়া ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করেন সাঞ্জু স্যামসন ও রিঙ্কু সিং। জ্যাক ফোকসকে পরপর দুটি ছক্কা মারেন রিঙ্কু।

পাওয়ার প্লে শেষের পর প্রথমবার আক্রমণে এসেই স্যামসনকে (১৫ বলে ২৪) বোল্ড করে দেন স্যান্টনার। নিজের পরের ওভারে তিনি বিদায় করেন হার্দিক পান্ডিয়াকেও। রিঙ্কুকে (৩০ বলে ৩৯) ফেরান ফোকস। একশর আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে যায় ভারত।
তবে দুবে তাণ্ডব চালান শুরু থেকে। ছক্কা মারেন তিনি প্রথম বলেই। দ্বাদশ ওভারে তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন তিনি লেগ স্পিনার ইশ সোধিকে। এই ওভারে আসে ২৯ রান।
পরের ওভারে জ্যাকব ডাফিকে দুটি ছক্কা মেরে পঞ্চাশে পা রাখেন দুবে। তার ১৫ বলে ফিফটি ভারতের হয়ে তৃতীয় দ্রুততম। ১৪ বলে ফিফটি আছে আভিশেকের, ১২ বলে ইউভরাজ সিংয়ের।
পঞ্চদশ ওভারে ম্যাট হেনরিকে ছক্কা ও চার মেরে শেষ বলে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রান আউটে কাটা পড়েন দুবে। স্ট্রেইট ড্রাইভ করেছিলেন হার্শিত রানা। বোলার হেনরির হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে লাগে বল, দুবে তখন ক্রিজের অনেকটা বাইরে।
দুবের বিদায়ে ভারতের আশাও প্রায় শেষ হয়ে যায়। ৮ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে আট বল বাকি থাকতে অলআউট হয়ে যায় তারা।
শেষ ম্যাচ হবে আগামী শনিবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২১৫/৭ (কনওয়ে ৪৪, সাইফার্ট ৬২, রাভিন্দ্রা ২, ফিলিপস ২৪, চ্যাপম্যান ৯, মিচেল ৩৯*, স্যান্টনার ১১, ফোকস ১৩, হেনরি ৬*, আর্শদিপ ৪-০-৩৩-২, হার্শিত ৪-০-৫৪-০, বুমরাহ ৪-০-৩৮-১, বিষ্ণই ৪-০-৩৯-১, কুলদিপ ৪-০-৩৯-২)
ভারত: ১৮.৪ ওভারে ১৬৫ (আভিশেক ০, স্যামসন ২৪, সুরিয়াকুমার ৮, রিঙ্কু ৩৯, পান্ডিয়া ২, দুবে ৬৫, হার্শিত ৯, বিষ্ণই ১০, আর্শদিপ ০, বুমরাহ ৪, কুলদিপ ১; হেনরি ৩-০-২৪-১, ডাফি ৩.৪-০-৩৩-২, ফোকস ৩-০-২৯-১, সোধি ৪-০-৪৬-২, স্যান্টনার ৪-০-২৬-৩, ফিলিপস ১-০-৭-০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৫০ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত
ম্যান অব দা ম্যাচ: টিম সাইফার্ট