Published : 09 Jan 2026, 09:28 AM
ক্যাচটি ছিল অসাধারণ। সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে চমকপ্রদ মুহূর্ত ও এখনও পর্যন্ত এবারের বিপিএলের সেরা ক্যাচ। কিন্তু বড় প্রশ্ন, ক্যাচটি কি আদতে বৈধ ছিল? টিভি রিপ্লে দেখে সেই সংশয় প্রবলভাগেই জাগছে এবং তৃতীয় আম্পায়ার বড় ভুল করে ফেলেছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
বিপিএলে বৃহস্পতিবার সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালসের রান তাড়ায় নবম ওভারের ঘটনা সেটি। মইন আলির বল স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মারেন শামীম হোসেন। ছক্কা হয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু সীমানার ফিল্ডার ইথান ব্রুকস বল হাতে জমিয়ে ফেলেন। তবে ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না তিনি। শেষ মুহূর্তে বল ছুড়ে দেন তিনি শূন্যে। এরপর সীমানার বাইরে থেকে লাফিয়ে আবার বল মুঠোয় জমিয়ে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়েন।
বিগ ব্যাশে এরকম ক্যাচ হরহামেশাই দেখা যায়। আইপিএল বা অনেক জায়গাতেই দেখা যায় কিছু। কিন্তু বিপিএলে এমন ক্যাচ খুবই বিরল।
ওই সময় ব্রুকস ও সিলেটের অন্যদের উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধনহারা। টিভি আম্পায়ার গাজী সোহেলও রিপ্লে দেখে বেশ দ্রুতই আউটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
টিভি রিপ্লেতেও শুরুতে সন্দেহজনক কিছু মনে হয়নি। তবে পরে যখন দেখানো হয় আবার, সংশয়ও জাগতে শুরু করে। এই মুহূর্তের ভিডিও ক্লিপ পরে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। বল বাতাসে ছুড়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে আবার পরে যখন মুঠোয় নেওয়ার সময় বল যখন তার হাতে স্পর্শ করছে, তখনও তার একটি পা মাটিতে ছোঁয়ানো ছিল। বারবার রিপ্লে দেখে সেটি অনেকটাই নিশ্চিত মনে হয়।
এমনকি সিলেট টাইটান্সের অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতায় যে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে, সেটি দেখেও মনে হয়েছে, বল ছোঁয়ার সময় ব্রুকসের পা মাটিতে লেগে আছে।
তৃতীয় আম্পায়ারের কী মনে হয়েছে, রিপ্লের কোন জায়গাটি দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। হয়তো তার কাছে অন্যরকম মনে হয়েছে। তবে এটা অন্তত বলাই যায়, এত দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে তিনি আরেকটু সময় নিয়ে দেখতে পারতেন।
শামীম আউট হন ১ রানে। তিনি টিকে থাকলে ম্যাচের ভাগ্য ভিন্ন হতো কি না, সেই উত্তর জানা যাবে না কখনোই। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন প্রবলভাবেই থাকবে।

ওই উইকেট পাওয়া বোলার মইন ম্যাচের পর ক্যাচটিতে মুগ্ধতা জানানোর পাশাপাশি স্বদেশী উঠতি ক্রিকেটার ব্রুকসের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন।
“অসাধারণ ক্যাচ। মাঠে থাকা সবার মধ্যে একমাত্র সে-ই ক্যাচটি নিতে পারত। সে দুর্দান্ত ফিল্ডার, খুব ভালো ক্রিকেটার। খুব দর্শকপ্রিয়ও সে, সবাই তাকে দারুণ ভালোবাসে।”
“এটা তার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং সে দেখিয়েছে যে পারফর্ম করতে পারে। কারণ বাংলাদেশে প্রথমবার এসে খেলাটা সহজ নয়। উইকেট সহজ নয় এখানে। সে ভালো খেলেছে এবং তার ফিল্ডিং তো অসাধারণ। ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে তাকে নিয়ে আমি গর্বিত এবং যেভাবে সে কাউন্টি ক্রিকেট, ইংলিশ ক্রিকেটের প্রতিনিধিত্ব করে, তাতেও আমি গর্বিত, কারণ ফিল্ডার পাওয়া দারুণ।”
পরে ক্যাচের বৈধতা নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হলো মইনকে, তার কণ্ঠেও কিছুটা অনিশ্চয়তার সুর ফুটে উঠল।
“কিছু একটা আইন আছে… জানি না, সব লিগেই একই আইন কি না… আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না। আমার মনে হয়, যতক্ষণ আপনি ভেতরে বল ধরছেন, ততক্ষণ ঠিকই আছে। কাজেই ভালো ক্যাচ ছিল, অসাধারণ ক্যাচ।”
ক্যাচটি নিয়ে খানিকটা প্রতিক্রিয়া জানা গেল ব্রুকসের কাছ থেকেও। ম্যাচের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বললেন, “জানি না… আমার তো ক্যাচই মনে হয়েছিল। পরে শুনলাম আইন নাকি বদলেছে, আমার আসলে জানা ছিল না। যেটাই হোক, আউট পেয়েছি, আমার তো আপত্তি নেই…।”