ভেনেজুয়েলায় তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই বালক
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের পর ৮৫ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবে উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তুপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের আশা ছাড়েনি।
ভেনেজুয়েলায় প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ বছর বয়সী দুই বালককে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
মোইসেস নামের প্রথম বালককে উদ্ধারের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে দুমড়ানো-মুচড়ানো ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে বের করে আনা হচ্ছে। এ সময় উদ্ধারকারীদের হাততালি দিতে দেখা যায়। আরও দেখা যায় বালকটির চোখ ঢেকে রাখা হয়েছে সূর্য থেকে বাঁচাতে।
এর কয়েক ঘন্টা পরই আরেকজন ১১ বছরের বালক উদ্ধার হওয়ার ঘোষণা দেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে বালকটিকে বিশাল ধ্বংসস্তুপের মধ্য থেকে স্ট্রোচারে করে বের করে আনতে দেখা যায়।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হওয়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয় গত বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে।
১২৬ বছরের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল এটি। এ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৩০ জন নিহত হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ।
ভূমিকম্পের পর ৮৫ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবে উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তুপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের আশা ছাড়েননি। তারা বলছেন এখনও অনেক মনিুষ জীবিত থাকতে পারেন যদি ধ্বংসস্তুপের নিচে তাদের কাছে পানি ও খাবার থাকে।
গত বুধবার মূল ভূমিকম্প দুটির পর থেকে কয়েকশ পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। লা গুয়াইরা রাজ্যের উপকূলীয় শহর কারাবালেদা অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। এখানে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো উদ্ধারকারী দলগুলোকে এনে নামিয়েছে।
দেশটির সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। কিন্তু দেশটির বিরোধীদলীয় ওয়েবসাইটে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আর জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) হিসাবে শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
