এশিয়া কাপ
Published : 26 Sep 2025, 04:04 PM
স্রেফ ১৩৫ রানের পুঁজি নিয়ে যেভাবে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান, তা মনে ধরেছে শোয়েব আখতারের। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে একই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে উত্তরসূরিদের খেলার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সাবেক গতিময় পেসার।
চলতি এশিয়া কাপে সুপার ফোরের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি রূপ নেয় সেমি-ফাইনালে। দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে ১১ রানের জয়ে শিরোপার লড়াইয়ের মঞ্চে জায়গা করে নেয় পাকিস্তান।
চমৎকার বোলিংয়ে পাকিস্তানকে অল্পে আটকে রাখে বাংলাদেশ। তবে পুঁজি কম হলেও হাল ছাড়েনি সালমান আলি আগার দল। শুরু থেকে দারুণ বোলিংয়ে লড়াই চালিয়ে যায় তারা। শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১২৪ রানে বেঁধে ফেলে বাংলাদেশকে।
১৯৮৪ সালে শুরু এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১৭তম আসরে এসে প্রথমবার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান।
এমনিতে এখন আর ভারত-পাকিস্তান লড়াই জমজমাট হয় না। পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ে ভারতের একতরফা দাপট চলছে কয়েক বছর ধরেই; ২০২২ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের জয়ের পর সব সংস্করণ মিলিয়ে ভারত জিতেছে টানা সাত ম্যাচ।
এবারের আসরে গ্রুপ পর্বের পর সুপার ফোরেও ভারতের বিপক্ষে পাত্তা পায়নি পাকিস্তান। আসর জুড়ে এখন পর্যন্ত অপরাজিত সুরিয়াকুমার, আভিশেকরা আছেন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে ভারতকে নাড়িয়ে দিতে বললেন শোয়েব।
“এই মানসিকতা থেকে বেরিয় আসতে হবে, তাদের আভায় ধাঁধিয়ে গেলে চলবে না। তাদের অহম গুঁড়িয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে যেই মানসিকতা নিয়ে খেলেছো, সেভাবেই খেলো। এমন মানসিকতাই প্রয়োজন। ২০ ওভার বোলিং করার প্রয়োজন নেই, শুধু উইকেটগুলো নিতে হবে।”
দুর্দান্ত ছন্দে আছেন আভিশেক শার্মা। তার ব্যাটে বইছে রানের স্রোত। খুনে ব্যাটিংয়ে ভারতকে এনে দিচ্ছেন দারুণ শুরু। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত ম্যাচে ৩৯ বলে ৭৪ রান করা ওপেনার বাংলাদেশ ম্যাচ খেলেছেন ৩৭ বলে ৭৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস।
আসরে এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংসে ২৪৮ রান করেছেন আভিশেক। দুইশ রানও করতে পারেননি আর কেউ। তার স্ট্রাইক রেট ২০৬.৬৬, দেড়শ স্ট্রাইক রেটও নেই আর কারো।
ফাইনালে আভিশেককে যত দ্রুত ফেরাতে পারবে পাকিস্তান, তাদের জয়ের সম্ভাবনা তত বাড়বে বলে মনে করেন শোয়েব।
“লিখে রাখুন, আভিশেক শার্মা যদি প্রথম দুই ওভারের মধ্যে আউট হয়ে যায়, তাহলে তারা (ভারত) বিপদে পড়বে। তারা যে শুরুটা পাচ্ছে, আভিশেক দ্রুত ফিরে গেলে তারা ভুগবে। এমন নয় যে আভিশেক টাইমিংয়ে গড়বড় করে না, সে এমন করবে, তোমাদের স্রেফ আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হবে। এভাবে খেলতে পারলে, ভারত বুঝবে যে তাদের রান করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।”
দুবাইয়ে আগামী রোববার মাঠে গড়াবে ফাইনাল ম্যাচটি।