Published : 19 May 2026, 10:03 PM
ভারতের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর কঠিন সময়ে ক্রিকেট খেলার আনন্দ পুনরায় খুঁজে পেতে সাহায্য করায় সাবেক প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড় ও সাবেক ব্যাটিং কোচ ভিক্রাম রাঠোরের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই ভিরাট কোহলির। এই ব্যাটিং গ্রেট বললেন, তারা সত্যিকার অর্থেই মানসিকভাবে তার যত্ন নিয়েছিলেন।
ভারতের ইতিহাসের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক কোহলি। ব্যাট হাতেও তিনি সেই সময়টায় নিজেকে তুলে নেন নতুন উচ্চতায়। তবে নেতৃত্বের সময়টার শেষ দিকে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছিল তাকে। টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া আর ওয়ানডের অধিনায়কত্ব হারানোর কিছুদিনের মধ্যে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে টেস্ট দলের অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেন কোহলি। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে যান তিনি, এই সংস্করণে টানা তিন বছর কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর তিনি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের সেরা ফর্মের সেই অভাবনীয় উচ্চতায় পুরোপুরি ফিরতে না পারলেও, ২০২৩ সালে তার পারফরম্যান্সে লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যায়। ওই বছর টেস্টে ৫৪.৭৩ গড়ে রান করার পথে সেঞ্চুরির দেখা পান দুটি। বছরের শেষ দিকে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বইয়ে দেন রানের স্রোত।
বেঙ্গালুরুর সেন্টার ফর স্পোর্টস এক্সিলেন্স-এ মঙ্গলবার ‘আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিট’ অনুষ্ঠানে টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরের সময়টা নিয়ে বলতে গিয়ে দ্রাবিড় ও রাঠোরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কোহলি।
“রাহুল ভাই ও ভিক্রাম রাঠোরের ব্যাপারে এই কথা অনেকবার বলেছি…যখনই তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়, আমি মন থেকে তাদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ তারা এমনভাবে আমার যত্ন নিয়েছিলেন যে, মনে হয়েছিল আমি যেন তাদের জন্যই খেলতে চাই।”
“আমি ভালো খেলতে, কঠোর পরিশ্রম করতে চেয়েছি, কারণ তারা খুব যত্ন নিতেন। আমি তখন পর্যন্ত যা যা করেছি, তার সবকিছু আমাকে তারা মনে করিয়ে দিতেন, এমন কিছু যা একজন খেলোয়াড় হিসেবে কেউ সাধারণত বসে ভাবে না।”
ক্যারিয়ারে ‘ইম্পোস্টার সিনড্রোম’-এর সঙ্গে লড়াই করার কথা জানালেন কোহলি। ‘ইম্পোস্টার সিনড্রোম’ এমন এক ধরনের মানসিক অবস্থা যে, একজন মানুষ নিজের যোগ্যতা বা অর্জনকে সন্দেহের চোখে দেখে ও নিজেকে অযোগ্য মনে করে এবং যথেষ্ট ভালো না হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয় পায়।
কোহলি স্বীকার করে নিলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় দুই দশক কাটানোর পরও সেই নিরাপত্তাহীনতাগুলো এখনও তার রয়ে গেছে।
“খেলোয়াড় হিসেবে সবসময় সতর্ক থাকা ও নিরাপত্তাহীনতার এক সূক্ষ্ম সীমারেখায় চলতে হয়। সারাক্ষণ মনে হয় আপনি কখনোই যথেষ্ট ভালো নন- এই ইম্পোস্টার সিনড্রোমটা সবসময়ই থাকে। এমনকি আজও যখন আমি নেটে যাই, এখনও ভাবি: এই তরুণরা দেখছে। যদি আমার একটি সেশন খারাপ যায়, তারা হয়তো ভাববে, ‘এই কি সেই লোক যে ২০ বছর ধরে খেলছে?’ এই চিন্তাটা সবসময়ই থাকে।”
“রাহুল ভাই বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন, কারণ তিনি নিজে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। ভিক্রামও বহু বছর ধরে ছিলেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন আমি কী অনুভব করছিলাম এবং মানসিক দিক থেকে আন্তরিকভাবে আমার যত্ন নিয়েছিলেন। যেটা আমাকে এমন একটি মানসিক অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল, আমি আবার ক্রিকেট উপভোগ করতে পারছিলাম।”
প্রায় এক দশক ধরে সব সংস্করণে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় মানসিকভাবে কীসের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন, তা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন ৩৭ বছর বয়সী কোহলি।
“এটা (অধিনায়কত্ব) করার জন্য, সারাক্ষণ এমন একটি মানসিক অবস্থায় থাকতে হয় যেখানে নিজের ওপর মনোযোগ দেওয়া যায় না। কেউ আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কি না, ‘আপনি ঠিক আছেন তো?’- এই কথা আপনি ভাবেনও না। চিন্তাটা এমনকি আপনার মাথায়ও আসে না।”
অধিনায়কত্বের শেষের দিকেই কোহলি বুঝতে পেরেছিলেন, দায়িত্বটি তার জন্য কতটা ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছিল, “আমি পেছনে ফিরে তাকিয়ে উপলব্ধি করেছি যে, প্রায় ৯ বছর ধরে কেউই আমাকে সেই প্রশ্নটা করেনি- ‘আপনি কেমন আছেন?”
তবে কোহলি জোর দিয়ে বললেন, এসব নিয়ে তার কখনও কোনো অভিযোগ ছিল না। বরং সুযোগ পেলে আবারও একইভাবে নেতৃত্ব দেবেন।
“যখন আমি কাজের মধ্যে পুরোপুরি ডুবে ছিলাম, তখন আমার কখনও মনে হয়নি যে কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করবে, সবকিছু মিলে আমি কেমন আছি। সবকিছু নিজেই সামলে নিতে পেরেছিলাম। আর সত্যি বলতে, আমি আবারও একইভাবে কাজটা করব।”
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে এখন শুধু ওয়ানডেতে খেলছেন কোহলি।