Published : 24 Mar 2026, 08:24 AM
“ঈদের ছুটি থেকে মাত্র ফিরলাম ঢাকায়। কুষ্টিয়া থেকে গাড়ী চালিয়ে এসেছি, খুব ক্লান্ত আছি…”, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বললেন হাবিবুল বাশার। ক্লান্তি কিছুটা ফুটে উঠছিল তার কণ্ঠেও। তবে এত বড় প্রাপ্তির দিনে তার কিছু কথা অন্তত না শুনলেই নয়, প্রধান নির্বাচক হওয়ার তাৎক্ষণিক ভাবনা তো জানতেই হবে! অনুরোধে কাজ হলো। তিনি বললেন, “অল্প করে শুধু বেসিক কিছু বলা যেতে পারে আপাতত…।”
বিসিবি সোমবার ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচক প্যানেল। আগের কমিটিতে থাকা হাসিবুল হোসেন জায়গা পেয়েছেন নতুন কমিটিতেও। নতুন মুখ নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরি। চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান হাবিবুল।
সাবেক এই অধিনায়ক নির্বাচক কমিটিতে প্রথমবার জায়গা পান ২০১১ সালে। বছর চারেক টানা কাজ করে ২০১৫ সালে দায়িত্ব নেন নারী দলের নির্বাচকের। পরের বছরই আবার তিনি ফেরেন ছেলেদের নির্বাচক কমিটিতে। সেই থেকে নির্বাচক কমিটিতে ছিলেন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর দুই বছর বিসিবিতে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করে এখন ফিরলেন আরও বড় দায়িত্বে। ৫৩ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার নতুন দায়িত্বের নানা দিকের গল্প শোনালেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে।
১২ বছরের মতো সময় নির্বাচক কমিটিতে ছিলেন। প্রধান নির্বাচক হওয়ার ইচ্ছে নিশ্চয়ই ছিল?
হাবিবুল: “হ্যাঁ, অবশ্যই… তিনটা টার্ম ছিলাম নির্বাচক কমিটিতে, মানে তিনজন প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে কাজ করেছি, আকরাম ভাই, ফারুক ভাই, নান্নু ভাই…। প্রধান নির্বাচক হওয়ার ইচ্ছে তো ছিলই। এটা অনেক বড় সম্মান ও অনেক বড় দায়িত্ব। প্রধান নির্বাচকের ব্যাপারটিই আসলে আলাদা।

কতটা আলাদা?
হাবিবুল: প্রধান নির্বাচক তো আসলে… সব নির্বাচকেরই দায়িত্ব আছে, তবে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিতে হয় সবচেয়ে বেশি। সামনে থেকেই দায়িত্ব নিতে হয়, জবাবদিহিতার ব্যাপার থাকে।
প্রধান নির্বাচকের ব্যাপার হলো, অনেক সময় সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। নির্বাচক কমিটির সদস্য থাকার সময় আমি আমার অভিমত জানাতাম, বিভিন্ন ভাবনা টেবিলে উপস্থাপন করতাম। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন প্রধান নির্বাচক। এবার সেই সুযোগটা আমার থাকবে।
এই সুযোগের অন্য দিকও তো আছে। সমালোচনার তির আপনার দিকেই ছুটবে বেশি। এই বছর আপনি এসব থেকে দূরে ছিলেন। এখন তো আবার শঙ্কার জায়গায় ফিরছেন!
হাবিবুল: আলোচনা-সমালোচনায় থাকা আমার জন্য তো নতুন কিছু নয়। যখন খেলেছি, যখন অধিনায়ক ছিলাম, এসবের মধ্যেই ছিলাম। নির্বাচক কমিটিতে যখন ছিলাম, তখনও তো এসব ছিল নিত্য সঙ্গী। জীবন তো মোটামুটি এসবকে সঙ্গী করেই কাটিয়ে দিলাম!
এখন যদিও ব্যাপারটির মাত্রা ভিন্ন। আগে তো সামাজিক মাধ্যম ছিল না। সামাজিক মাধ্যমের শুরুতেও এত বেশি কিছু ছিল না। গত ৪-৫ বছরে এটা অন্য পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সেই বাস্তবতা মানতেই হবে। সত্যি বলতে, গত দুই বছর লাইমলাইটের বাইরে ভালোই ছিলাম। চাপ-টাপ ছিল না তেমন।
তবে আমি যখনই যে কাজটা করি, একদম ভেতরে ঢুকে করার চেষ্টা করি। বাইরের আলোচনা কী হবে, কেমন হবে, এসবের চেয়ে নিজের কাজ নিয়েই আমার কনসার্ন থাকবে বেশি, কতটা কাজ করতে পারছি। আলোচনা-সমালোচনা কতটা হবে বা ট্রল করা হবে কি না, এসব ভাবনা নেই। নিজের কাজটা করতে চাই, নিজের সততা দিয়ে কাজ করতে চাই।
সেটা যদি করতে পারি এবং লোকের কাছে কাজের স্বীকৃতি মেলে, তাহলে ভালো। না পেলেও সমস্যা নেই। নিজের প্রতি সৎ থাকতে চাই, নিজের প্রতি জবাবদিহিতা রাখতে চাই, নিজের কাছে যেন পরিষ্কার থাকতে পারি।
দীর্ঘদিন নির্বাচক কমিটিতে থাকার অভিজ্ঞতায় দল নির্বাচনের ধারা বা সংস্কৃতির কোন ব্যাপারটি আপনি বদলাতে চাইবেন?
হাবিবুল: ধারাবাহিক থাকতে চাই… সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক হতে চাই…।
ক্রিকেটারদের প্রতি পরিষ্কার বার্তা বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গায় খোলামেলা ও স্বচ্ছ রাখার ক্ষেত্রে অভিযোগ চলে আসছে বছরের পর বছর ধরেই। এখানে আপনার দৃষ্টি ভঙ্গি কেমন?
হাবিবুল: এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তবে আমার মনে হয়, এটা নিয়ে এত কথা বলারও কিছু নেই। ক্লিয়ার ম্যাসেজ তো থাকবেই। কিন্তু জনে জনে গিয়ে বোঝানো তো কঠিন…
জনে জনে বোঝানোর ব্যাপার নয়। কোনো ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হলে বা বাদ দেওয়া হলে কিংবা দলে না নেওয়া হলে ওই ক্রিকেটারকে কারণগুলি বুঝিয়ে বলা এবং আপনাদের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা..
হাবিবুল: সেটা তো অবশ্যই বলা উচিত বা ব্যাখ্যা করা উচিত এবং আমরাও তা করব। ক্রিকেটাররাও যা ইচ্ছা, জিজ্ঞেস করতে পারে, সমস্যা নেই। তবে এটাকে কোনো আলাদা নর্ম মনে করি না বা হওয়া উচিত না। এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার হওয়া উচিত। আলাদা করে পরিকল্পনা করে করতে হবে, এটা আমার মনে হয় না। খুবই কমন প্র্যাকটিস হওয়া উচিত।
আপনার নির্বাচক কমিটিতে দুজন নতুন মুখ আছে। তাদের নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন…
হাবিবুল: যারা আসছে কমিটিতে, দুজনই যোগ্য। নাঈম ইসলামের তো দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনেক লম্বা ক্যারিয়ার। এত বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেললে হয় কী, দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে খুব ভালো জানাশোনা থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেও যেটা অনেক সময় হয় না। নাঈম ঘরোয়া ক্রিকেট সম্পর্কে খুব ভালো জানে, ক্রিকেটারদের নিয়ে ওর ধারণা দারুণ। আশা করি, নাঈম ভালো করবে।
নাদিফ তো জুনিয়র নির্বাচক হিসেবে কাজ করছিলই। ওর ক্যারিয়ারও অনেক দিনের ছিল, পরে জুনিয়র নির্বাচক হয়েছে। শান্ত (হাসিবুল হোসেন) আগে থেকেই কাজ করছে। সবাই ভালো করবে।
যেটা বললাম, সবাই ক্রিকেটের সঙ্গে অনেক বছর ধরে আছে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের খুব ভালো করে চেনে। এটা আমাদের কমিটির বড় সুবিধা হবে।
নির্বাচক কমিটি সাধারণত বেজোড় সংখ্যার হয়, যাতে কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ সমান সমান হলে আরেকজনের রায়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। আপনাদের সদস্য চার জন। এটিকে কিভাবে দেখছেন?
হাবিবুল: চারজনের কমিটি সমস্যা মনে হয় না আমার কাছে, কারণ সদস্য ৩ জন হোক বা ৪ বা ৬ জন্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো প্রধান নির্বাচকেরই। কাজেই এটা সমস্যা হবে না।