১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সল্ট ও ব্রুকের তাণ্ডবের পর রাশিদের স্পিনে ইংল্যান্ডের বড় জয়

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের ৬৫ রানে হারিয়েছে ইংলিশরা।

সল্ট ও ব্রুকের তাণ্ডবের পর রাশিদের স্পিনে ইংল্যান্ডের বড় জয়
সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্রাইডন কার্স। ছবি: ইংল্যান্ড ক্রিকেট ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Oct 2025, 05:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:31 PM

ম্যাচের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ফিল সল্টের ব্যাটে ছক্কা, পরেরটিতে চার। সেই যে ছুটল ইংল্যান্ড, আর থামাথামির নাম নেই। সল্টের পাশাপাশি নিউ জিল্যান্ড বোলারদের তুলাধুনা করলেন হ্যারি ব্রুক। তাদের তাণ্ডবে বিশাল সংগ্রহ গড়ল সফরকারীরা। পরে আদিল রাশিদের চমৎকার বোলিংয়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না স্বাগতিকরা।

ক্রাইস্টচার্চে সোমবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৬৫ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। প্রথম টি-টোয়েন্টি ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে।

সল্ট ও ব্রুকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে হ্যাগলি ওভালে টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ ২৩৬ রানের পুঁজি গড়ে ইংল্যান্ড। এই মাঠে আগের সেরা ছিল ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে করা নিউ জিল্যান্ডের ২০৮।

কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এই রান ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৯ সালে নেপিয়ারে ২৪১ রান করেছিল তারা।

পরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে ১৭১ রানে থামিয়ে দলটির বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় বড় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে পথ দেখানো ব্রুক ৫ ছক্কা ও ৬টি চারে খেলেন ৩৫ বলে ৭৮ রানের খুনে ইনিংস। ৫৬ বলে ৮৫ রান করতে একটি ছক্কা ও ১১টি চার মারেন সল্ট।

অবদান কম নয় রাশিদেরও। ৩২ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। দুটি করে প্রাপ্তি ব্রাইডন কার্স, লুক উড, লিয়াম ডসনের।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন সল্ট। কিন্তু আরেক ওপেনার জস বাটলার চার রান করেই বিদায় নেন দ্বিতীয় ওভারে। দুটি করে ছক্কা-চারে ১২ বলে ২৪ রান করা জ্যাকব বেথেল ফিরে যেন পাওয়ার প্লের শেষ বলে।

এরপর শুরু হয় সল্ট ও ব্রুকের বিস্ফোরক জুটির পথচলা। যেখানে অগ্রণী ছিলেন ব্রুক। মিচেল স্যান্টনারকে টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে তাণ্ডব শুরু করেন তিনি। পরের ওভারেই ৩৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন শুরু থেকে রানের চাকায় দম দেওয়া সল্ট।

ব্রুকের পঞ্চাশ ছুঁতে বেশি সময় লাগেনি। দ্বাদশ ওভারে জেমি নিশামকে তিনটি চার মারেন তিনি। ম্যাট হেনরিকে ছক্কায় ওড়ানোর পর স্যান্টনারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ২২ বলে ফিফটিতে পা রাখেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

পঞ্চাস ছোঁয়ার পর কাইল জেমিসনের ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন ব্রুক। অন্য প্রান্তে সল্টও বাড়াতে থাকেন রান। একটা সময় মনে হচ্ছিল, দুইজনেই বোধহয় পেয়ে যাবেন সেঞ্চুরি।

কিন্তু তিন বলের মধ্যে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দেন জেমিসন। ছক্কার চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে ব্রুক ধরা পড়লে ভাঙে ৬৯ বল স্থায়ী ১২৯ রানের জুটি। লং-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সল্ট।

শেষে দ্রুত রান তোলার দাবি মেটান টম ব্যান্টন। ১৯তম ওভারে হেনরিকে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন ব্যান্টন। ১২ বলে ২৯ রানের ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি।

রান তাড়ায় জয়ের সম্ভাবনা জাগাতেই পারেনি নিউ জিল্যান্ড। তাদের ইনিংসে ৪০ রানও করতে পারেননি কেউ। দলটির ১০ ব্যাটসম্যানই আউট হন ক্যাচ দিয়ে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এমন নজির দেখা গেল ত্রয়োদশবার।

ইনিংসের চতুর্থ বলে লুক উডকে ছক্কায় ওড়ানো টিম রবিনসনকে পরের ওভারে বিদায় করে দেন কার্স। দুই বল পর রাচিন রাভিন্দ্রাকেও ফেরান এই পেসার। মার্ক চ্যাপম্যান ও টিম সাইফার্টের জুটিতে শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামলে ওঠে কিউইরা।

দুইজনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে ৬০ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের চেয়ে স্রেফ ৮ রান কম। কিন্তু পরে টানা চার ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে স্বাগতিকরা।

দশম ওভারে চ্যাপম্যানকে (১ ছক্কা ও ২ চারে ২৮) ফিরিয়ে জমে যাওয়া ৬৯ রানের জুটি ভাঙেন ডসন। পরের ওভারে রাশিদের স্পিনে লং-অনে ধরা পড়েন ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৯ রান করা সাইফার্ট।

ড্যারিল মিচেল, মাইকেল ব্রেসকে টিকতে দেননি রাশিদ ও ডসন। নিশামের সঙ্গে স্যান্টনারের ২৩ বল স্থায়ী ৫৭ রানের জুটি কেবল হারের ব্যবধানই কমায়। এই দুই ব্যাটসম্যানই রাশিদের শিকার।

তিনটি করে ছক্কা-চারে ১৫ বলে ৩৫ রান করে স্যান্টনার।

অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি আগামী বৃহস্পতিবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৩৬/৪ (সল্ট ৮৫, বাটলার ৪, বেথেল ২৪, ব্রুক ৭৮, কারান ৮, ব্যান্টন ২৯; হেনরি ৪-০-৪৫-০, ডাফি ৪-০-৪৪-১, জেমিসন ৪-০-৪৭-২, ব্রেসওয়েল ৩-০-৩৬-১, স্যান্টনার ৪-০-৪১-০, নিশাম ১-০-২০-০)

নিউ জিল্যান্ড: ১৮ ওভারে ১৭১ (সাইফার্ট ৩৯, রবিনসন ৭, রাভিন্দ্রা ৮, চ্যাপম্যান ২৮, মিচেল ৯, ব্রেসওয়েল ২, নিশাম ১৭, স্যান্টনার ৩৬, জেমিসন ৮*, হেনরি ০, ডাফি ১; উড ৪-০-৩৬-২, কার্স ৩-০-২৭-২, কারান ৩-০-৩৭-০, রাশিদ ৪-০-৩২-৪, ডসন ৪-০-৩৮-২)

ফল: ইংল্যান্ড ৬৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: হ্যারি ব্রুক