Published : 04 Mar 2026, 04:34 PM
অনেকটা নতুন চেহারার দল নিয়ে বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসছে পাকিস্তান। সেই দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বাবর আজম ও তরুণ অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবের।
নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও শাহিন শাহ আফ্রিদিই থাকছেন অধিনায়ক। এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে না খেলা ৬ জন ক্রিকেটার আছেন এই স্কোয়াডে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম সাহিবজাদা ফারহান।
গত এক বছরে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের ভরসা হয়ে ওঠা এই ওপেনার চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড রানের পথ ধরে জায়গা করে নিয়েছেন ওয়ানডে দলে। ২৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের লিস্ট 'এ' রেকর্ডও বেশ ভালো। ৭২ ম্যাচে প্রায় ৩ হাজার রান করেছেন ৪১.৮০ গড়ে।
এছাড়াও ওয়ানডেতে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটার আছেন আব্দুল সামাদ, মাজ সাদাকাত, মুহাম্মাদ গাজি ঘোরি, সাদ মাসুদ ও শামিল হুসাইন। তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে কেবল সামাদের। ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
দলে সুযোগ পাওয়া মাজ সাদাকাত মনে করা হয় পাকিস্তানের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভাদের একজন। ২০ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার গত বিপিএলে খেলে গেছেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে।
২০ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার গাজি ঘোরি লিস্ট 'এ' ম্যাচ খেলেছেন ১৭টি। পারফরম্যান্স বলার মতো এমন কিছু নয়। শামিল হোসেন অবশ্য দারুণ প্রতিভাবান বাঁহাতি ওপেনার। ১৩টি লিস্ট 'এ' ম্যাচ খেলে ২টি সেঞ্চুরি ৩টি ফিফটি করেছেন ২১ বছর বয়সী ক্রিকেটার। নতুনদের মধ্যে সবচেয়ে কৌতূহ জাগানিয়া নামটি সম্ভবত সাদ মাসুদ। মাত্র ৩টি লিস্ট 'এ' ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলে জায়গা পেলেন ২১ বছর বয়সী লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
বাবর ও সাইমের বাদ পড়াকে বিস্ময়করই বলতে হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুজনের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন নিয়মিতই উঠছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়েছেন দুজনই।। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে সেই প্রশ্নটা নেই। বাবরকে তো বরং এই দলের সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যানই বলা যায়। সবশেষ সিরিজেও গত নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। মিরপুরের উইকেটে তার ব্যাটিং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত।
সাইম এখনও পর্যন্ত ১৭টি ওয়ানডে খেলে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করেছেন তিনটি করে। ব্যাটিং গড় প্রায় ৪৭, স্ট্রাইক রেট একশর বেশি।
সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার খেসারত দিতে হলো তাদেরকে ওয়ানডেতে।
বাবর ও সাইম ছাড়াও লঙ্কানদের বিপক্ষে ওই সিরিজের দল থেকে বাংলাদেশ সফরের দলে নেই ফাখার জামান, হাসিবউল্লাহ খান, হাসান নাওয়াজ, মোহাম্মাদ নাওয়াজ ও নাসিম শাহ।
ফাখারের না থাকার মূল কারণ চোট হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। ক্যারিয়ারে অনেকবারই দলে আসা-যাওয়া করতে হয়েছে তাকে। ধারাবাহিকতার সমস্যা সবসময়ই ছিল। তবে সবশেষ সিরিজে তিন ইনিংসে তিনি করেন ৩২, ৭৮ ও ৫৫। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুতে ভালো না করলেও পরে শেষ ম্যাচ করেছেন ৪২ বলে ৮৪। তাকে না পাওয়াটা দলের জন্য ধাক্কা।
বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের ম্যাচ তিনটি হবে আগামী ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।
এরপর পাকিস্তান সুপার লিগ খেলে আগামী মে মাসে আবার দুটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তানিরা।
পাকিস্তান দল: শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আব্দুল সামান, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফায়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হুসাইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মাদ রিজওয়ান, মোহাম্মাদ ওয়াসিম, মুহাম্মাদ গাজি ঘোরি, সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা, শামিল হুসাইন।