Published : 06 Mar 2026, 09:20 AM
৬, ১, ০, ০, ২, ৪, ০, ০- দেখে মনে হতে পারে টেলিফোনের ডিজিট। আসলে এসব লিটন কুমার দাসের সবশেষ কিছু ম্যাচের রান সংখ্যা। শূন্য রানে ফিরেছেন ৪ ইনিংসে। ৮ ইনিংসে সাকল্যে রান ১৩। খেসারত দিতে হয়েছে দল থেকে বাদ পড়ে। সেই ব্যাটসম্যানকে আবার ফেরানো হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন নিজেই বলছেন, সিদ্ধান্তটি প্রশ্ন তোলার মতোই। তবে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ওপর আস্থা রাখছেন তারা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশ দলে যে চার ক্রিকেটারকে ফেরানো হয়েছে, তাদের একজন লিটন। দেশের জার্সিতে সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন তিনি গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে।
সবশেষ ১৪ ওয়ানডেতে তার ফিফটি নেই। বাদ পড়ার পর এমন কিছু তিনি করতে পারেননি, যেটায় তিনি দলে ফেরার দাবি জানাতে পারেন। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) একদিনের ম্যাচের আসরে তিন ম্যাচের একটিতে ফিফটি করেছেন বটে। বাকি দুটিতে হয়েছে ব্যর্থ। সবশেষ ম্যাচটিতে ফিরেছেন শূন্য রানে।
বিপিএল যদিও অন্য সংস্করণের ক্রিকেট। তবু সেখানে ভালো করলে ছন্দে ফেরার প্রমাণ মিলত। সেখানে তিনি ১১ ইনিংস খেলেও ফিফটি করতে পারেননি একটিও। স্ট্রাইক রেটও ছিল না খুব ভালো কিছু (১২৬.২৫)। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবশেষ ৯ ইনিংসে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মোটে একবার।
এমন পারফরম্যান্সের ব্যাটসম্যানকে কেন ফেরানো হলো ওয়ানডে দলে? প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যায় যুক্তির চেয়ে বেশি মিশে থাকল আশাবাদ।।
“লিটন দাসের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, তবে সে নিজের খেলা নিয়ে কোচদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আমাদের বিশ্বাস, এই সংস্করণে নিজেকে সেরাটা মেলে ধরতে পারবে সে এবং মিডল অর্ডারের শক্তি বাড়ানোর জন্য তাকে বিবেচনা করছি আমরা।”
বাদ পড়ার আগে সবশেষ ৯ ইনিংসে ৪টিতে তিনি চার নম্বরে ব্যাট করেছেন, ৩টিতে তিন নম্বরে। ওপেন করেছেন বাকি দুটিতে। রান পাননি কোনো পজিশনেই। এবারের বিসিএলেও প্রথম ২ ইনিংসে চারেই ব্যাট করেছেন। বাংলাদেশ দলে হয়তো চার নম্বরেই খেলানো হবে তাকে।
মিডল অর্ডারে ফেরানো হয়েছে আফিফ হোসেনকেও। প্রশ্ন তাকেও নিয়ে কিছু আছে। লিটনের মতো তারও সবশেষ ১৪ ওয়ানডেতে নেই ফিফটি। এই সংস্করণে সবশেষ খেলেছেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে।

এরপর গত ঢাকা প্রিমিয়ার ৩৫.২২ গড়ে ৩১৭ রান করে তিনি রান সংগ্রহের তালিকায় ছিলেন ৩৮ নম্বরে। গত বিপিএলে ১২ ইনিংস খেলে ফিফটি করতে পারেননি। কদিন আগে বিসিএলে অবশ্য প্রথম ম্যাচে দুবার জীবন পেয়ে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করেছেন। তবে পরের দুই ম্যাচে আবার ব্যর্থ।
তবে নির্বাচকদের মনে হয়েছে, আফিফ এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছে। এছাড়াও মিডর অর্ডারে অন্যদের ব্যর্থতার কথাও বললেন প্রধান নির্বাচক।
“মিডল অর্ডারে বেশ কজনকে আমরা সুযোগ দিয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকজন জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি। সেটা ভাবনায় রেখে আফিফকে ফেরানো হয়েছে। দলে মূল্যবান অভিজ্ঞতা বয়ে আনছে সে এবং মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে ভালো ছন্দে আছে।”
ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন জাকের আলি, নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেন। তবে টিকে গেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই খেলেন তিনি। পাঁচে নেমে অভিষেক ম্যাচে ৭৬ বলে ৪৬ করতে পারলেও পরের দুই ম্যাচে ভালো করতে পারেননি। তাকে নিয়েও আশার ছবি দেখালেন প্রধান নির্বাচক।
“মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে দলে রেখে দেওয়া হয়েছে এবং যে সম্ভাবনার ছাপ সে রেখেছে, সেটি মেলে ধরার দারুণ সুযোগ তার জন্য।”
পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসবে সোমবার। সিরিজের ম্যাচ তিনটি ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুরে।