ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা
Published : 15 Nov 2025, 05:48 PM
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল্পতে গুটিয়ে যে স্বস্তিতে ছিল ভারত, তা উবে গেল নতুন দিনে। সাইমন হার্মার ও মার্কো ইয়ানসেনের দারুণ বোলিংয়ে দুইশও করতে পারল না তারা। পরে বল হাতে আবার প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ে ধস নামালেন রাভিন্দ্রা জাদেজা। ম্যাচের লাগাম হাতে নিয়ে দিন শেষ করল স্বাগতিকরা।
কলকাতা টেস্টে শনিবার প্রথম ইনিংসে ভারতকে ১৮৯ রানে গুটিয়ে ব্যাটিং করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রান করা সফরকারীরা দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে ধুঁকছে আরও বাজেভাবে। ৭ উইকেটে ৯৩ রান করে ৬৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে একপ্রান্ত ধরে রেখেছেন টেম্বা বাভুমা। ৩ চারে ২৯ রান করে অপরাজিত আছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। ক্রিজে তার সঙ্গী কর্বিন বশ।
ইডেন গার্ডেন্সে এদিন উইকেট পড়েছে ১৫টি, এর ১২টিই নিয়েছেন স্পিনাররা।
দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার অফ স্পিনার হার্মার। ৩০ রানে তার প্রাপ্তি ৪ উইকেট। পেসার মার্কো ইয়ানসেন ৩৫ রানে ধরেন ৩ শিকার।
প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য জাদেজা এবার ধরেন ২৯ রানে ৪ শিকার। বাঁহাতি এই স্পিনারের সামনে টেস্ট ইনিংসে ষোড়শবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার হাতছানি।
দিনের তৃতীয় বলে চার মেরে টেস্টে ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন লোকেশ রাহুল। ওয়াশিংটন সুন্দারকে নিয়ে প্রথম ঘণ্টার কঠিন চ্যালেঞ্জ পার করে দেন তিনি।
১ উইকেটে ৩৭ রান নিয়ে খেলতে নামা ভারত এরপরই হারায় ওয়াশিংটনকে। হার্মারের বলে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি ১ ছক্কা ও ২ চারে ২৯ রান করে। ওই ওভারেই ঘাড়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন শুবমান গিল। দিনের বাকিটায় আর মাঠে নামেননি ভারত অধিনায়ক।
ক্রিজে গিয়েই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন রিশাভ পান্ত। মুখোমুখি চতুর্থ বলে মহারাজকে চার মারেন তিনি। পরের ডেলিভারি মিড-অফ দিয়ে ওড়ান ছক্কায়।
থিতু হয়ে বিদায় নেন রাহুল। ১৩ রান নিয়ে খেলতে নামা ওপেনার মহারাজের বলে স্লিপে ধরা পড়েন ৩৯ রানে। ১১৯ বলের ইনিংসে তিনি মারেন চারটি চার ও একটি ছক্কা।
মহারাজের পরের ওভারে লং-অন দিয়ে ছক্কা মেরে ভারতের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড গড়েন পান্ত। টেস্টে ৮৩ ইনিংসে তার ছক্কা এখন ৯২টি। ভিরেন্দার শেবাগের ৯১ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে দেন বাঁহাতি কিপার-ব্যাটসম্যান।
ইনিংস অবশ্য বড় করতে পারেননি পান্ত। কর্বিন বশের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান তিনি দুটি করে ছক্কা-চারে ২৭ রান করে।
জাদেজা, ধ্রুব জুরেল ও আকসার প্যাটেলও স্পর্শ করেন দুই অঙ্ক। কিন্তু কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। তাদের তিন জনকেই ফেরান হার্মার।
নিজের পরপর দুই ওভারে কুলদিপ ইয়াদাভ ও মোহাম্মাদ সিরাজকে ফিরিয়ে ভারতের ইনিংসের ইতি টেনে দেন ইয়ানসেন।
৩০ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে শুরুতে ছোবল দেন কুলদিপ; এলবিডব্লিউ হন রায়ান রিকেলটন। এইডেন মার্করামকে দিয়ে শিকার শুরু করেন জাদেজা। পরে এক ওভারে ফেরান দুজনকে; ভিয়ান মুল্ডার হন কট বিহাইন্ড আর শর্ট লেগে ধরা পড়েন টনি ডি জর্জি।
কয়েক ওভার পর দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ট্রিস্টান স্টাবসকে বোল্ড করেন জাদেজা। আকসার প্যাটেলকে সুইপ করে বোল্ড হন কাইল ভেরেইনা। বাভুমাকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেওয়া ইয়ানসেনকে ফেরান কুলদিপ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১৫৯
ভারত ১ম ইনিংস: ৬২.২ ওভারে ১৮৯ (আগের দিন ৩৭/১) (রাহুল ৩৯, ওয়াশিংটন ২৯, গিল (আহত অবসর) ৪, পান্ত ২৭, জাদেজা ২৭, জুরেল ১৪, আকসার ১৬, কুলদিপ ১, সিরাজ ১, বুমরাহ ১*; ইয়ানসেন ১৫-৪-৩৫-৩, মুল্ডার ৫-১-১৫-০, মহারাজ ১৬-১-৬৬-১, বশ ১১-৪-৩২-১, হার্মার ১৫.২-৪-৩০-৪)
দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ৩৫ ওভারে ৯৩/৭ (রিকেলটন ১১, মার্করাম ৪, মুল্ডার ১১, বাভুমা ২৯*, ডি জর্জি ২, স্টাবস ৫, ভেরেইনা ৯, ইয়ানসেন ১৩, বশ ১*; বুমরাহ ৬-১-১৪-০, আকসার ১১-০-৩০-১, কুলদিপ ৫-১-১২-২, জাদেজা ১৩-৩-২৯-৪)