Published : 21 Apr 2026, 08:03 PM
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি করা আবু হায়দার রনির সামনে সংখ্যাটা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার দারুণ এক সুযোগ। তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল তার সতীর্থ আশিকুর রহমান শিবলিরও।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) উদ্বোধনী দিনে মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিং করেন আবু হায়দার ও শিবলি। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬ উইকেটে ২৭২ রান করেছে মধ্যাঞ্চল।
তিনটি ছক্কা ও ১০টি চারে ১১০ বলে ৯০ রান করে অপরাজিত আছেন আবু হায়দার। এক ছক্কা ও আট চারে ৭৫ রানে খেলছেন শিবলি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনটি সেঞ্চুরি আছে ২০ বছর বয়সী এই কিপার-ব্যাটসম্যানের নামের পাশে।
মধ্যাঞ্চলের হয়েই ১০ চারে ৫৬ রান করেছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে মধ্যাঞ্চল। পরপর দুই ওভার মাহফিজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাঈম শেখকে ফিরিয়ে দেন পেসার ইবাদত হোসেন।
জিশান আলমকে নিয়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন সাদমান। একপ্রান্তে ধৈর্যশীল ব্যাটিং করেন আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত জিশান। মুখোমুখি প্রথম ৫১ বলে রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। ৮০ বলে ১৮ রান করা ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ৫৭ রানের জুটি ভাঙেন তোফায়েল আহমেদ। নিজের পরের ওভারে মধ্যাঞ্চলের অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুবকেও বিদায় করেন এই পেসার।
৯৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করা সাদমান ইনিংস বড় করতে পারেননি। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট পূর্ণ করেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান।
বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ টিকতে দেননি মোসাদ্দেক হোসেনকে। ১২৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কাঁপতে থাকা দলের হাল ধরেন শিবলি ও আবু হায়দার। মুরাদকে ছক্কায় রানের খাতা খোলা আবু হায়দার দ্রুত রান বাড়ান। আরেক প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিয়ে যান শিবলি।
৬৯ বলে প্রথম শ্রেণিতে অষ্টম ফিফটি স্পর্শ করেন আবু হায়দার। শিবলির পঞ্চম ফিফটি আসে ১১৮ বলে। ২২৫ বলে ১৪৭ রানের যুগলবন্দীতে দিন শেষ করেন তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মধ্যাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৮১ ওভারে ২৭২/৬ (মাহফিজুল ১, সাদমান ৫৬, নাঈম শেখ ৪, জিশান ১৪, মার্শাল ৬, শিবলি ৭৫*, মোসাদ্দেক ৯, আবু হায়দার ৯০*; খালেদ ১৯-৩-৬৬-০, ইবাদত ১৪-৫-৩৩-২, তোফায়েল ১৭-৫-৩১-২, নাঈম ১৩-১-৪৬-১, মুরাদ ১৬-১-৬৫-১, মুমিনুল ২-০-২১-০)
সবার অবদানে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১৪
ভালো শুরু পেলেন দলের সাতজন। কিন্তু ফিফটি করতে পারলেন কেবল একজন। সম্মিলিত চেষ্টায় তবুও ৩১৪ রানের পুঁজি গড়তে পারল দক্ষিণাঞ্চল। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে উত্তরাঞ্চল।
দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন মিঠুন। একটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৫৩ রান করেন তিনি। ওপেনার ইফতেখার হোসেন একটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৪৯ রানে আউট হন। ৪৭ রান করতে দুটি ছক্কা ও চারটি চার মারেন রিজান হোসেন।
সিলেট একাডেমি মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম তিনজনই ভালো শুরু পান। ১৮তম ওভারে এনামুল হকের বিদায়ে ভাঙে ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। তিনে নেমে ফজলে মাহমুদ ৬ চারে করেন ৩৪ রান।
পঞ্চম উইকেটে রিজানকে নিয়ে ১০৬ রানে জুটি গড়েন মিঠুন। রিজানের বিদায় ভাঙে তাদের বন্ধন। পরের ওভারে আবদুল্লাহ আল মামুনকে চার মেরে ৬৮ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি। ওই ওভারেই দুই বল পর ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
সামিউন বাশির, মইন খান মিলে দলের রান তিনশ পর্যন্ত নিয়ে যান।
উত্তরাঞ্চলের হয়ে তিনটি উইকেট নেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। মামুনের প্রাপ্তিও তিনটি। দুই শিকার ধরেন সানজামুল ইসলাম।
দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে উত্তরাঞ্চলকে কোনো বিপদ পড়তে দেননি মামুন ও সাব্বির হোসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৮০.২ ওভারে ৩১৪ (ইফতেখার ৪৯, এনামুল ৩১, ফজলে মাহমুদ ৩৪, কালাম ১, মিঠুন ৫৩, রিজান ৪৭, সামিউন ২৬, মইন ৩৬, আশরাফুল ৯, আবু জায়েদ ৭, সফর ০*; রবিউল ১৪-২-৪৩-১, মুশফিক ১৪-১-৪৮-০, তাইজুল ২২-১-৮৫-৩, সাব্বির ৫-০-২৩-০, মেহরব ৫-০-৩৭-১, মামুন ১২-১-৩৭-৩, সানজামুল ৮.২-১-২৬-২)
উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৪ ওভারে ১৬/০ (মামুন ৬*, সাব্বির ১০*; আবু জায়েদ ২-০-৬-০, সফর ১-০-১০-০, মইন ১-১-০-০)