Published : 13 Jun 2026, 10:19 PM
ইনোসেন্ট কাইয়ার সেঞ্চুরিতে প্রায় তিনশ রান নিয়েও জিততে পারল না জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল। দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন ও অমিত হাসানের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস এবং মিডল অর্ডারে জাকের আলির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।
শনিবার রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডে ৪ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের ২৯৮ রান ১২ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে গেছে জাকির হাসানের নেতৃত্বাধীন দল। তিন ম্যাচের সিরিজ জিতেছে ২-০ ব্যবধানে, একটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে।
রান তাড়ায় চমৎকার জুটিতে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন শাহাদাত ও অমিত। ১৮তম ওভারে স্পিনার ভিনসেন্ট মাসেকেসার বলে ছক্কার চেষ্টায় শাহাদাত ফিরলে ভাঙে ১২২ জুটি। ৫০ বলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৫৪ রান করেন শাহাদাত।
থিতু হয়ে ফেরেন ইয়াসির আলি। একপ্রান্ত আগলে রাখা অমিত থামেন ৮০ রানে। তার ৮৪ বলের ইনিংস গড়া ৯টি চারে। সামিউন বশির রাতুল ও অধিনায়ক জাকিরের দ্রুত বিদায়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান জাকের। ঢাকা লিগে ব্যাটে-বলে ভালো করা মঈন খানের সঙ্গে তিনি গড়েন ৮২ রানের জুটি।
ম্যাচ শেষ করতে পারেননি মঈন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩৬ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৪৩ রান করে ফেরেন তিনি। আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন জাকের। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সাত চারে ৭৫ বলে করেন ৬১ রান। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাথু ক্যাম্পবেলের সঙ্গে ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে জিম্বাবুয়েকে ভালো শুরু এনে দেন ইনোসেন্ট কাইয়া। ৩৭ বলে ৪২ রান করা ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙনে মঈন।
দুই অঙ্কে গেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তারিসাই মুসাকান্দা ও অধিনায়ক রয় কাইয়া। তবে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন ইনোসেন্ট কাইয়া। তিন অঙ্ক ছুঁয়ে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। ১১০ বলে ফেরেন ১০৩ রান করে।
তার বিদায়ের পর দলকে তিনশ রানের কাছে নিয়ে যান রায়ান বার্ল। ৫৪ বলে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার করেন ৫০ রান।
৪২তম ওভারের খালেদ আহমেদের বলে হেলমেটে আঘাত পান ওয়েসলি মাধেভেরে। ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও এই অলরাউন্ডার ফিল্ডিংয়ে নামেননি। কনকাশন বদলি হিসেবে বাকি অংশে খেলেন আন্তুম নকভি।
অভিজ্ঞ পেসার খালেদ ৪৫ রানে নেন চার উইকেট। এছাড়া ৬৭ রানে তিন উইকেট নেন অলরাউন্ডার সাকলাইন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ২৯৮/৮ (ইনোসেন্ট কাইয়া ১০৩, ক্যাম্পবেল ৪২, মুসাকান্দা ১৩, রয় কাইয়া ১৮, বার্ল ৫০, মাধেভেরে ২২, মাডান্ডে ৫, আকরাম ১১*, মাপোসা ১৯, মাসুকু ০, মাসেকেসা ১*; খালেদ ৯-০-৪৫-৪, রবিউল ৮-০-৭৩-০, মঈন ৮-০-৪২-১, সাকলাইন ১০-০-৬৭-৩, হাশিম ৮-০-৩৫-০, সামিউন ৭-০-৩৩-১)
বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: ৪৮ ওভারে ৩০১/৬ (শাহাদাত ৫৪, অমিত ৮০, ইয়াসির ২২, জাকের ৬১*, সামিউন ১২, জাকির ০, মঈন ৪৩, সাকলাইন ৭*; মাসুকু ৯-০-৫৫-০, মাপোসা ৮-০-৫৪-১, আকরাম ৭-০-৪২-৩, রয় কাইয়া ৫-০-২৫-০, মাসেকেসা ১০-০-৬৪-১, বার্ল ৭-০-৪২-১, নকভি ২-০-১৪-০)
ফল: বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৪ উইকেটে জয়ী্।
ম্যান অব দা ম্যাচ: অমিত হাসান।
ম্যান অব দা সিরিজ: সামিউন বশির রাতুল।