Published : 10 Jun 2026, 07:37 PM
ন্যাথান এলিসের ডেলিভারিটি পিচ করে একটু বেরিয়ে যাচ্ছিল। সাইফ হাসানকে বিপাকে ফেলার জন্য ওইটুকুই যথেষ্ট। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে গেল দ্বিতীয় স্লিপে মার্নাস লাবুশেনের হাতে। সাইফ ৫ রান করে ফিরলেন মাথা নিচু করে। বাংলাদেশের শুরুর জুটি থেমে গেল ১০ রানে। উল্লেখযোগ্য কিছু অবশ্য নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের এই চিত্রই বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির নিয়মিত ছবি।
সাইফ দ্রুত ফিরছেন, তাই জমে উঠছে না উদ্বোধনী জুটি। দলের সাফল্যে এটি কিছুটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। তবে সত্যি বলতে, সাইফ ধুঁকছেন।
প্রথম দফায় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর বেশ লম্বা সময় বাইরে থেকে গত বছর দলে ফেরেন সাইফ। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আশা জাগানিয়া পারফরম্যান্সও করেন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। এই সংস্করণে দলের সহ-অধিনায়কও করা হয় তাকে। পরে ওয়ানডেতে কিছুটা আশার ঝিলিক দেখান। কিন্তু সেই সময়টা দীর্ঘায়িত হয়নি খুব একটা।
সময়ের সঙ্গে মলিন হয়েছে তার পারফরম্যান্স। দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না ঠিকঠাক। তাতে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশ নিয়মিত পাচ্ছে না বড় কোনো জুটি।
সাইফ কিছুটা ভালো খেললে যে উদ্বোধনী জুটিও হৃষ্টপুষ্ট হয়, সেটির স্বাক্ষ্য দেবে পরিসংখ্যানও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে ওপেন করেছেন তিনি। এর দুটিতেই কেবল বড় জুটি হয়েছে। একটিতে তিনি করেছিলেন ৮০ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচে সৌম্য সরকার করেছিলেন ৮৬। শুরুর জুটিতে রান এসেছিল ১৭৬। আরেক ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাইফ করেছিলেন ৩৬। তানজিদ হাসানের ব্যাটে সেদিন এসেছিল শতরান। দল পেয়েছিল ১০৭ রানের জুটি।
কিন্তু সেই সহায়তা তিনি বেশির ভাগ ম্যাচেই করতে পারছেন না সঙ্গীকে।
চোখে পড়ার মতো ব্যাপার তার আউটের ধরনগুলি। একই ধরনের ডেলিভারিতে বা একইভাবে আউট হচ্ছেন তিনি বারবার। তীক্ষ্নভাবে ভেতরে ঢোকা বলে, অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে তার দুর্বলতা এখন এতটাই দৃশ্যমান যে, প্রকিপক্ষ তাকে নিয়মিতই সেখানে ‘টার্গেট’ করছে। তিনি আউটও হচ্ছেন বারবার। তার পায়ের কাজ তো বরাবরই দু্র্বল, মাথার পজিশনও নড়ে যায় বেশ। তার টেকনিকে বা এই ঘাটতিগুলোয় উন্নতির ছাপ নেই ততটা।
মাঝেমধ্যে দু-একটি ফিফটি তিনি করে ফেলেন বটে, তবে ধারাবাহিকভাবে কতটা সফল হতে পারবেন, সেই প্রশ্ন এখন উচ্চকিত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, সৌম্য সরকারের মতো অভিজ্ঞ একজন যখন স্কোয়াডে থেকেও জায়গা পাচ্ছেন না একাদশে।
ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান ও তিনে নাজমুল হোসেন শান্ত বাঁহাতি হওয়ায় সাইফ একটু বাড়তি ‘পয়েন্ট’ পাচ্ছেন। সুযোগটা হয়তো এই কারণেই একটু বেশি পাচ্ছেন। কিন্তু সেটিরও তো শেষ আছে!
হাবিবুল বাশার অবশ্যই এখনই ‘শেষ’ করতে চান না। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ের পর জয়ী একাদশ পরির্তন আনার পক্ষপাতী নন তিনি। যদিও সিদ্ধান্তটা শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকেই আসবে বলে জানালেন।
“আমরা খুব ভালো একটা ম্যাচ জিতেছি। যখন ভালো ম্যাচ যায়, তখন এই কম রান আসলে ব্যাপার হয় না। দেখা যাক টিম ম্যানেজমেন্ট কী চিন্তা করছে।”
“আমরা তো চাই সুযোগ পেয়ে সে কাজে লাগাক। সাইফ অনেকদিন ধরে আছে। তার কাছ থেকে কিছু বড় ইনিংস দেখা দরকার।”
সাইফের কাছে বড় ইনিংসের আশা থাকলেও তার পক্ষে কথা বলার যুক্তি খুব বেশি নেই। ওয়ানডে অভিষেকের পর প্রতিটি ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমেছেন। ১৩ ম্যাচে তার ব্যাটে এসেছে মোটে দুইটি হাফ সেঞ্চুরি। সবশেষ ১০ ম্যাচের ৮টিতেই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। এর ৫টিতে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ইনিংসের প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হ বাংলাদেশ। সাইফ থাকছেন হয়তো এই ম্যাচেও। কিন্তু এ দিনও যদি ব্যর্থ হন, ‘জয়ী একাদশ’ কিংবা ‘ডানহাতি’ ব্যাটসম্যানের যুক্তিগুলোও তখন আরও ঠুনকো হয়ে উঠবে।