Published : 11 Jun 2026, 11:50 AM
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের ওসিসহ পাঁচ সদস্য এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে।
বুধবার রাত ৮টার দিকে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ।
দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্থানীয় কমলপুর ও ভৈরবপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দার মধ্যে রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ সময় দুটি মহাসড়কের চারপাশে অন্তত দুই কিলোমিটার করে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এক দিক থেকে যানজট নরসিংদীর নারায়ণপুর পর্যন্ত পৌঁছায়; অপর দিকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত জট সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ভৈরব বাসস্ট্যাণ্ডে মাইক্রোস্ট্যান্ডের একটি কার্যালয় আছে। ভৈরব পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সিয়াম মাইক্রোস্ট্যাণ্ডের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তার বাড়ি কমলপুর এলাকায়। তবে ভৈরবপুর এলাকার কিছু মানুষ স্ট্যান্ডে নিজেদের আধিপত্য বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে মাইক্রোস্ট্যান্ডে ভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ উঠেছে ভৈরবপুর এলাকার কিছু মানুষ মাইক্রোস্ট্যান্ডে ভাঙচুর চালায়।
পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে সভাপতির পক্ষ ধরে কমলপুর এলাকার লোকজন ভৈরবপুর এলাকার লোকজনকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসে। এ সময় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের ওপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের হামলার মাঝে পড়ে ওসি নিজেসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এছাড়াও সংঘর্ষ আরো অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ওসি বলেন, চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দু্ই মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে। দুর্জয়মোড় ও কমলপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি।
এর আগে ৪ জুন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ভৈরবের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের কারণে সাড়ে চার ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলীয় জোনে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। স্টেশনে ট্রেন পরিচালনা কক্ষ ও রেলওয়ে থানায়ও ভাঙচুর হয়। আহত হয়েছিল ছয় পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন।
আরও পড়ুন
খেলার মাঠের বিবাদ ভৈরব বাজার স্টেশনে: সংঘর্ষে আহত ৩০, ট্রেন বন্ধ ৫ ঘণ্টা