Published : 17 Sep 2025, 10:32 AM
সুনিল নারাইনের জন্য দিনটি গৌরবের। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) উইকেট শিকারের চূড়ায় পা রাখলেন তিনি। সেই স্মরণীয় দিনটিতেই অস্বস্তির ছোঁয়া মাখিয়ে তাকে এক ওভারে তুলাধুনা করলেন সাকিব আল হাসান। ক্যারিয়ারের এই গৌধূলি লগ্নে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার একটি জায়গায় ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সেই ছোট্ট ঝড় খুব একটা কাজে লাগল না দলের।
সিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের কাছে ৯ উইকেটে উড়ে গিয়ে টুর্নামেন্ট পথচলা শেষ হয়ে গেল সাকিবের অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের।
ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন সাকিব।
তার ৪৬২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে অন্তত ২০ রান করা ইনিংসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস এটিই।
তার স্ট্রাইক রেট এ দিন ২৮৮.৮৮। আগের সেরাটি অবশ্য খুব পুরোনো নয়। এই সিপিএলেই গত ৩১ অগাস্ট সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ২৬ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ছিল সেদিন ২৩৪.৬১। এছাড়া ২০২৪ বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৩১ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২২২.৫৮।
ব্যাটিংয়ে ছোট্ট তোলার পর বল হাতে দিনটি কাটেনি সাকিবের। ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন ৩৮ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
গায়ানায় বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালের এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা তৃতীয় ওভারে হারায় ওপেনার রাকিম কর্নওয়ালকে (৬)।
দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়েন আমির জাঙ্গু ও আন্দ্রিয়েস হাউস। তবে বড্ড বেশি সময় নিয়ে ফেলে এই জুটি। ১০৮ রানের জুটিতে দুজন বল খেলেন ৮৫টি!
ওপেনার জাঙ্গু ৪৯ বলে ৫৫ রান করে আউট হন সপ্তদশ ওভারে। ওই ওভারেই বিদায় নেন ৪৫ বলে ৬১ রান করা হাউস।
রান খুব বেশি বাড়ানোর সুযোগ এরপর আর ছিলই না। সেই চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন (১), ইমাদ ওয়াসিমরা (১)।

ইমাদকে বিদায় করেই ডোয়াইন ব্রাভোকে (১২৯) ছাড়িয়ে সিপিএলের সফলতম বোলার হয়ে যান নারাইন (১৩০)।
সাকিব ক্রিজে যান ছয় নম্বরে। দলের তখন দেড়শ ছোঁয়া নিয়েই শঙ্কা।
নারাইনের প্রথম বলটিতে রান করতে পারেননি তিনি। এরপরই টানা তিন বাউন্ডারি ও এক ছক্কা।
প্রথম চার মারেন তিনি ইনসাইড আউট শটে, পরেরটি স্লগ সুইপে, তৃতীয়টি প্যাডল শটে। এরপর উড়িয়ে দেন লং অনের ওপর দিয়ে।
অষ্টাদশ ওভারে দুই বল খেলে তিন রান নেন সাকিব। দলের দুই উইকেট হারানোর ওভারে তিনি স্ট্রাইক পাননি সেভাবে।
শেষ ওভারেও একই চিত্র। আন্দ্রে রাসেল শেষ ওভারটি শুরু করেন ওয়াইড দিয়ে। এরপর সিঙ্গল নিয়ে অন্যপ্রান্তে চলে গিয়ে আরও দুই সতীর্থের বিদায় দেখেন সাকিব। স্ট্রাইক পান আবার শেষ বলে। শেষটাও করেন তিনি বাউন্ডারিতে।
শেষ তিন ওভারে ৩৫ রান নিয়ে ১৬৬ রান করতে পারে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা।
সেই রান নিয়ে তারা পাত্তাও পায়নি ত্রিনবাগোর বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইন আপের সামনে। ১২ বলে ১৪ রান করা কলিন মানরোকে চতুর্থ ওভারে ফেরাতে পারেন কর্নওয়াল। সেটিই প্রথম এবং শেষ।
অ্যালেক্স হেলস ও নিকোলাস পুরান আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। ৮৬ বলে ১৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়ে দেন তারা ১৫ বল বাকি রেখেই।
৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন হেলস। তিনে নেমে অধিনায়ক পুরান ৮ ছক্কায় ৫৩ বলে ৯০ রান করে পান ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি।
ষষ্ঠ বোলার হিসেবে একাদশ ওভারে আক্রমণে এসে সাকিব প্রথম দুই ওভারে দারুণ আঁটসাঁট বোলিং করেন। প্রথম ওভারে স্রেফ দুই রান দেন তিনি, পরের ওভারে পাঁচ। তবে তৃতীয় ওভারে পুরানের দুই ছক্কা এক চারসহ রান আসে ১৭।
২০১৬ সিপিএলে জ্যামাইকা তালাওয়াহসের হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলার পর এবার অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার হয়ে ১১ ম্যাচ খেললেন সাকিব। ১০ ইনিংসে ব্যাট করে ১৮০ রান করেন তিনি ২০ গড় ও ১৩৮.৪৬ স্ট্রাইক রেটে। ১০ ইনিংস বোলিং করেই ওভারপ্রতি ৮.৩০ রান দিয়ে উইকেট শিকার করেন ছয়টি।