Published : 11 Dec 2025, 02:03 PM
দিনজুড়ে ব্যাট-বলের লড়াই হলো তুমুল। সহায়ক কন্ডিশনে ক্যারিবিয়ান বোলাররা নিজেদের মেলে ধরলেন। কিউই ব্যাটসম্যানরা দারুণ কিছু শটের ফাঁকে নিজেদের পতন ডেকে আনলেন আলগা শটে। এর মধ্যে ওপেনিংয়ে দলকে ভরসা জোগালেন ডেভন কনওয়ে। অভিষেকে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে লিড এনে দিলেন মিচেল হে।
ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে একটু এগিয়ে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে কিউইরা তুলেছে ২৭৮ রান।
৭৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৩২ রান দিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করে ক্যারিবিয়ানরা। পিছিয়ে আছে তারা এখন ৪১ রানে।
বিনা উইকেটে ২৪ রান নিয়ে দিন শুরু করে নিউ জিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারায় দিনের পঞ্চম ওভারে। অধিনায়ক টম ল্যাথাম বোল্ড হয়ে যান কিমার রোচের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে।
সেই ধাক্কা সামলে দলকে দারুণভাবেই এগিয়ে নিতে থাকেন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসন। নান্দনিক কিছু শটে বাউন্ডারির স্রোতে ছুটতে থাকেন দুজন। বিশেষ করে উইলিয়ামসন ছিলেন দারুণ সাবলিল। ৩৭ রানের ইনিংসে সাতটি বাউন্ডারি আসে তার ব্যাট থেকে।
দারুণ খেলতে থাকা ব্যাটসম্যানকে অসাধারণ এক ডেলিভারিতে থামান অ্যান্ডারসন ফিলিপ। দেরিতে মুভ করার বলের জবাব পাননি নিউ জিল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান।
আগের টেস্টে ১৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা রাচিন রাভিন্দ্রাকে এবার ৫ রানেই থামান রোচ।
কনওয়ের ইনিংস ৬০ রানে থামে বাজে এক শটে। জাস্টিন গ্রেভসের লেগ স্টাম্পের বাইরে থাকা বলে আলগা শটে ক্যাচ দেন তিনি কিপারকে।
সেখান থেকে ড্যারিল মিচেল ও মিচেল হে দলকে টেনে নেন। পঞ্চম উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৬৩ রান।
কোট কাটিয়ে ফেরা মিচেল ২৫ রান করে আউট হন কনওয়ের মতোই লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে।
অভিষেকে দারুণ খেলে ফিফটি পেরিয়ে যান হে। ৯ চার ও ১ ছক্কায় তার ৬১ রানের ইনিংস শেষ হয় ওজে শিল্ডসের শর্ট ডেলিভারিতে।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে অভিষেকে পঞ্চাশ ছোঁয়া চতুর্থ কিপার-ব্যাটার হে। ২০১৭ সালে টম ব্লান্ডেল করেছিলেন অপরাজিত ১০৭, ২০১৫ সালে লুক রনকি করেছিলেন ৮৮, ২০০৪ সালে ৫৭ রানে আউট হয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককলাম।
এরপর দ্রুত কিছু রানের জন্য নিউ জিল্যান্ড তাকিয়ে ছিল গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটে। কিন্তু চোট কাটিয়ে ফেরা আগ্রাসী অলরাউন্ডার রস্টন চেইসকে উইকেট উপহার দেন প্রথম ওভারেই।
লোয়ার অর্ডার জ্যাক ফোকস ও অন্যরা কিছুটা বাড়ান নিউ জিল্যান্ডের লিড। প্রথম দিনে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া ব্লেয়ার টিকনার ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া পেসার এই টেস্টে বোলিংও করতে পারবেন না।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুর ধাক্কা দেন মাইকেল রাই। দারুণ ডেলিভারিতে ফেরান তিনি জন ক্যাম্পবেলকে। নাইটওয়াচম্যান ফিলিপকে টিকতে দেননি জেকব ডাফি।
টিকনার ছিটকে পড়ায় নিউ জিল্যান্ডের বোলার একজম কম। তবু ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২০৫
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭৪.৪ ওভারে ২৭৮ (আগের দিন ২৪/০) (ল্যাথাম ১১, কনওয়ে ৬০, উইলিয়ামসন ৩৭, রাভিন্দ্রা ৫, মিচেল ২৫, হে ৬১, ফিলিপস ১৮, ফোকস ২৩*, ডাফি ১১, রাই ১৩, টিকনার আহত অনুপস্থিতি; রোচ ১৬-৬-৪৩-২, সিলস ১৭.৪-২-৭২-১, শিল্ডস ১৪-১-৫০-১, ফিলিপ ১৩-০-৭০-৩, গ্রেভস ১২-৪-২৮-১, চেইস ২-০-৯-১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১০ ওভারে ৩২/২ (ক্যাম্পবেল ১৪, কিং ১৫, ফিলিপ ০, হজ ৩*; ডাফি ৫-০-৮-১, ফোকস ৩-১-২০-০, রাই ২-১-৪-১)।