Published : 16 Jan 2026, 01:37 PM
মিকি আর্থার সংবাদ সম্মেলনে এলেন লিটন কুমার দাসকে সঙ্গে নিয়ে। রংপুর রাইডার্সের মিডিয়া ম্যানেজার বললেন, “আমাদের কোচের একটি ঘোষণা দেওয়ার আছে…।” তখনই একরকম নিশ্চিত হয়ে গেল, কোন ঘোষণা আসছে। কোচ আর্থার জানালেন রংপুরের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। তার জায়গায় বেছে নেওয়া হয়েছে লিটনকে।
সবশেষ তিন ম্যাচে টানা পরাজয়ের পর নেতৃত্বের এই পরিবর্তন এলো। তারকায় ঠাসা দল নিয়ে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে আসর শুরু করেও আট ম্যাচের চারটিতে হেরে তারা এখন আছে পয়েন্ট তালিকার চারে।
নেতৃত্বের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট শোনালেন কোচ আর্থার।
“দিন দুয়েক আগে সোহান আমার কাছে এসে বলেছে, সে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চায়। আমার মনে হয়েছে, সে নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিতে চায়। এটিই তুলে ধরছে, মানুষ হিসেবে সে কেমন। সে কোনোভাবেই স্বার্থপর নয়, ব্যক্তিগত লক্ষ্যের ওপরে দলকে রাখতে চায় সে। তবে তার মনে হয়েছে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে পারফর্ম করার সেরা সুযোগটা সে নিজেকে দিতে চায়। এজন্য সে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
“সৌভাগ্যবশত জাতীয় দলের অধিনায়ককে আমরা পেয়েছি। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, টুর্নামেন্টের বাকি সময়টায় সে আমাদের নেতৃত্ব দেবে।”
দল যেমন ভালো করছে না, সোহানের নিজের ফর্মও যাচ্ছেতাই। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটার ৬ ইনিংস খেলে রান করেছেন ৩০। কোনো ইনিংসেই দু অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। স্ট্রাইক রেট মোটে ৯০.৯০।
জাতীয় দলের নেতৃত্বে লিটন নিজের ছাপ রাখতে পেরেছেন দারুণভাবেই। এখনও পর্যন্ত তাকে বেশ সফলই বলতে হবে। সামনে বিশ্বকাপে তিনি নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশকে।
এই কিপার-ব্যাটসম্যান অবশ্য বললেন, আপাতত শুধু বিপিএলেই সবটুকু মনোযোগ দিতে চান।
“এই মুহূর্তে তো বিশ্বকাপের চিন্তা মাথায় নেই। যেহেতু একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে খেলছি। সম্পূর্ণ নিবেদন এখানে আমার ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যই থাকবে। তারা যখন নিজেদের ইচ্ছেয় এই জিনিসটা চেয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন এই জিনিসটা আপনার কাছে চায়, আমার দায়িত্ব এটা গ্রহণ করা। আমার মনে হয় আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।”
লিটন যখন দায়িত্ব নিচ্ছেন, টুর্নামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ তখন পেরিয়ে গেছে। এখান থেকে নেতৃত্ব শুরু করার কাজটি সহজ হওয়ার কথা নয়।
২২২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৪৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া ক্রিকেটার অবশ্য এটিকে খুব কঠিন মনে করছেন না।
“আমার কাছে মনে হয় না খুব একটা চ্যালেঞ্জিং। কারণ এই মুহূর্তে আমরা যদি একটা ম্যাচ জিতি, তাহলেই কোয়ালিফাই করব সুপার ফোরে (প্লে-অফে)। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। এরপর আমরা যদি ওখানে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে পারি, তাহলে তো অবশ্যই….।”
“কাজেই সুযোগ এখনও হাতে আছে। এমন না যে আমি এমন একটা সময় হাতে নিয়েছি যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। এখনও অনেক অপশন আছে, যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি তো, সুযোগ আসবে।”
লিটনের নিজের পারফরম্যান্সও এখনও পর্যন্ত খুব দারুণ কিছু নয় এবারের বিপিএলে। ৮ ইনিংসে কোনো ফিফটি করতে পারেননি। ১৬২ রান করেছেন ২০.২৫ গড়ে।
“চেষ্টার তো কখনো কমতি থাকে না। ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন খেলেছি, শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অধিনায়ক হিসেবে আরেকটু দায়িত্ব বেশি থাকবে। ব্যাটিং করার সময় আমি শুধুই ব্যাটসম্যান। তখন আমার কাজটা থাকবে রান করার। চেষ্টা করব এখান থেকে শতভাগ করার।”
“এখন আমি নিজের প্রতি যে প্রত্যাশা রাখি, সবাই যে প্রত্যাশা রাখে, ওই জিনিসটা এখনও পূরণ করতে পারিনি। তবে কমতি কখনোই ছিল না। চেষ্টা করব ওখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রংপুরে যেন ভালো কিছু দিতে পারি।”
বিপিএলে রংপুরের পরের ম্যাচ ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে শনিবার।