Published : 23 Jul 2025, 01:22 PM
ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরে গেছে বড় ব্যবধানে। ব্যাট হাতে ক্যামিও ইনিংস খেললেও বোলিংয়ে আন্দ্রে রাসেল ছিলেন খরুচে, ফিল্ডিংয়ে ছেড়েছেন দুটি ক্যাচ। শেষটা তাই রূপকথার মতো হয়নি। তবে রাসেল মানে তো স্রেফ এই একটি ম্যাচই নয়! ম্যাচের আগে যেমন, তেমনি ম্যাচের পরও সবকিছুর কেন্দ্রে ছিলেন তিনিই। ক্যারিবিয়ান নায়কের বিদায় রাঙাতে আয়োজনের কমতি ছিল না। ৩৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার নিজেও বললেন, তৃপ্ত মনেই বিদায় নিচ্ছেন।
নিজের দেশ জ্যামাইকা, ঘরের মাঠ কিংস্টনের স্যাবানাই পার্ক থেকে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন রাসেল। এজন্যই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলেই ইতি টানলেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে খেলা শুরুর আগে তাকে নিয়ে ছিল বিশেষ আয়োজন। মাঠে ঢোকার সময় দুই দলের ক্রিকেটাররা ‘গার্ড অব অনার’ দেন তাকে। উপস্থিত ছিলেন জ্যামাইকার ক্রীড়া, বিনোদন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ। জ্যামাইকার পতাকার মোড়ানো বিদায়ী উপহারের পর্দা খোলেন তারা দুজন মিলেই। সুদৃশ্য একটি স্মারক দেওয়া হয় তাকে, ফ্রেমে বাঁধাই করা ব্যাট ও বল, যেটি আসলে একটি গিটার। জ্যামাইকার ক্রিকেট আর রেগে সঙ্গীতের মেলবন্ধন সেই ফ্রেমে।
ম্যাচের পরও আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন রাসেলই। গ্যালারির কাছাকাছি গিয়ে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, কথা বলেছেন, অটোগ্রাফ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতেছে ৮ উইকেটে, দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরা হয়েছেন জশ ইংলিশ। কিন্তু খেলা শেষ হতেই উপলক্ষ হয়ে ওঠে আবার রাসেলময়। তার ক্যারিয়ার উদযাপন করেছেন সবাই।
২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষে আর ওয়ানডেতে দেখা যায়নি তাকে। এখন অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে। কিন্তু ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই অভিষেক ম্যাচই তার ক্যারিয়ারের একমাত্র টেস্ট। গত ছয় বছর ধরে রাসেলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার পরিচয় টিকে ছিল কেবল টি-টোয়েন্টিতে। সেটিরও এখন সমাপ্তি।
টি-টোয়েন্টিতেও তার ক্যারিয়ারে বিরতি পড়েছে অনেক। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিজেকে রাখছেন না অনেক বছর ধরেই। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন বেছে বেছে। কখনও ছিল অভিমান, কখনও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি টান। প্রচুর চোটাঘাত তো ছিলই। ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তাই ম্যাচ খেলতে পেরেছেন স্রেফ ৮৬টি।
২২ গড়ে ও ১৬৩.৭৯ স্ট্রাইক রেটে ১ হাজার ১২২ রান, ফিফটি তিনটি আর ওভারপ্রতি ৯.৪২ রান দিয়ে ৬১ উইকেট, সেরা বোলিং ১৯ রানে ৩ উইকেট, এই ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান আসলে রাসেলকে বোঝাচ্ছে না একটুও। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির সর্বকালের সেরাদের একজনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কেন আরও সমৃদ্ধ ও ব্যাপক হলো না, সেই প্রশ্ন-আক্ষেপও থাকবে।
তবে যারা তাকে দেখেছেন, তারা ভালো করেই জানেন একজন আন্দ্রে রাসেলকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় তার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন নিশ্চিতভাবেই।
তাকে নিয়ে ক্রিকেট অনুসারীদের আফসোস থাকতেই পারে। তবে বিদায় বেলায় রাসেল বললেন, তিনি বিদায় নিচ্ছেন সন্তুষটচিত্তে।
“আমি স্রেফ আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখানে ক্যারিয়ার শেষ করতে পেরে আমি খুবই কৃতজ্ঞ। ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে, পরিবার ও বন্ধুদের সামনে খেলেছি শেষ ম্যাচ। ফলাফল পক্ষে আসেনি, তবে শেষ পর্যন্ত আমি খুশি ও কৃতজ্ঞ। গত দুই ম্যাচে দর্শকেরা ছিলেন অসাধারণ। প্রশংসা করতেই হবে।”
আর কয়েক মাস পরই আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে তাকে নিশ্চয়ই পেতে চাইত দল। তবে রাসেল নিজের শেষ দেখে ফেলেছেন এখানেই।
“আমার মনে হয়েছে, থেমে যাওয়ার সময় এখনই। সামনে এগিয়ে চলার পথে ছেলেদের সবাইকে শুভ কামনা জানাই। স্যাবানাই পার্কে এই অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। পাশে থাকবেন সবসময়।”