Published : 01 Sep 2025, 09:21 PM
আগের ম্যাচের উইকেটেই আবার খেলা। কিন্তু সেই ম্যাচের রানের কাছাকাছিও যেতে পারল না নেদারল্যান্ডস। এশিয়া কাপের আগে ম্যাচ অনুশীলনের ভাবনায় আয়োজিত সিরিজটিতে তাই আদর্শ ব্যাটিং অনুশীলনই হলো না তেমন একটা। খুব একটা পরীক্ষাতেই যে পড়তে হলো না ব্যাটিং লাইন আপকে! বোলারদের অবশ্য আপত্তির কারণ নেই। আরেকটি সম্মিলিত পারফরম্যান্সে তারাই গড়ে দিলেন জয়ের ভিত।
তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টিতে নেদারল্যান্ডসকে ৯ উইকেটে গুঁড়িয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।
আগের ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা নাসুম আহমেদ এবার দলে ফিরেই হয়ে গেলেন জয়ের নায়ক। বাঁহাতি এই স্পিনারের তিন উইকেটের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানরাও ধরে রাখলেন ভালো বোলিংয়ের ধারা। ডাচদের ইনিংস শেষ ১০৩ রানেই।
রান তাড়ায় অনুমিতভাবেই সহজে জিতে যায় বাংলাদেশ ৪১ বল বাকি রেখে। ৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশের এটি টানা তৃতীয় সিরিজ জয়। জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে সিরিজ জয়ের পর দেশে ফিরে পাকিস্তানকেও হারায় লিটন কুমার দাসের দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সোমবার টানা দ্বিতীয় টস জিতে বোলিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন। রিশাদ হোসেনের বদলে একাদশে এসে নাসুম জোড়া উইকেট এনে দেন ম্যাচের তৃতীয় ওভারে।
প্রথম বলে বাউন্ডারিতে ম্যাচ শুরু করা মাক্স ও’ডাউড আউট হন সবার আগে। উইকেটে বল পিচ করে সামান্য থমকে আসছিল। উইকেটের সেই গতির সঙ্গে মানিয়ে না নিয়েই নাসুমকে হাঁকাতে গিয়ে বিদায় নেন অভিজ্ঞ ওপেনার।
একই ভুল করেন তিনে নামা তেজা নিদামানুরু। ক্রিজে গিয়েই শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি প্রথম বলে।
ভিক্রামজিৎ সিং এরপর চেষ্টা করেন পাল্টা আক্রমণের। শেখ মেহেদি হাসানকে চার মারার পর দুটি বাউন্ডারি মারেন তিনি নাসুমকে। তবে তার পথও শেষ হয় দ্রুত। জায়গা বানিয়ে তাসকিনকে র্যাম্প খেলে ধরা পড়েন তিনি ১৭ বলে ২৪ রান করে।

পরের বলেই জীবন পান নতুন ব্যাটসম্যান শারিজ আহমেদ। তাতে অবশ্য খুব ক্ষতি হয়নি বাংলাদেশের। কোনো ডাচ ব্যাটসম্যানই সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি।
নবম ওভারে বল হাতে নিয়ে মুস্তাফিজ ফেরান ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে। সাইফ হাসানের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে রান আউট নোয়াহ ক্রোস, তানজিম হাসানের শর্ট বলের শিকার শারিজ। ছয় বছর পর খেলতে নামা সিকান্দার জুলফিকারকে ২ রানে বোল্ড করে দেন মুস্তাফিজ।
৮১ রানে ৯ উইকেট হারানো ডাচদের জন্য তিন অঙ্ক তখন বেশ দূরের পথ। শেষ উইকেটে ড্যানিয়েল ডোরামকে নিয়ে ২৩ রানের জুটিতে দলকে একশ পার করান আরিয়ান দত্ত।
২৪ বলে ৩০ করেন ৯ নম্বরে নামা আরিয়ান, ২২ বছর বয়সী অফ স্পিনারের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস এটি।
রান তাড়ায় চ্যালেঞ্জ ছিল না তেমন, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে সুযোগ ছিল ব্যাটিং অনুশীলন সেরে নেওয়ার। পারেভজ হোসেন ইমন শুরুটা ভালো করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন ২১ বলে ২৩ করে।
তবে উইকেটে সময় কাটানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি তানজিদ। তার শুরুটা ছিল রয়েসয়ে। আট ওভার শেষেও রান ছিল ১৭ বলে ১৬। পরে অনিয়মিত বোলার ও’ডাউডকে সামনে পেয়ে তিনি জ্বলে ওঠেন। টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ ফিফটি স্পর্শ করেন ৩৯ বলে।
আগের ম্যাচে ফিফটি করা লিটন এবার স্রেফ উইকেটে টিকে থেকে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন (১৮ বলে ১৮)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নেদারল্যান্ডস: ১৭.৩ ওভারে ১০৩ (ও’ডাউড ৮, ভিক্রামজিৎ ২৪, নিদামানুরু ০, এডওয়ার্ডস ৯, শারিজ ১২, ক্রোস ২, সিকান্দার ২, ক্লেইন ৪, আরিয়ান ৩০, ফন মিকেরেন ৩, ডোরাম ২*; মেহেদি ৩.৩-০-২৪-১, তাসকিন ৪-০-২২-২, নাসুম ৪-০-২১-৩, তানজিম ৩-০-১৬-১, মুস্তাফিজ ৩-০-১৮-২)।
বাংলাদেশ: ১৩.১ ওভারে ১০৪/১ (পারভেজ ২৩, তানজিদ ৫৪*, লিটন ১৮*; আরিয়ান ৪-০-১৪-০, ক্লেইন ২.১-০-২০-১, ফন মিকেরেন ৩-০-২৮-০, ডোরাম ২-০-১৩-০, ও’ডাউড ২-০-২৬-০)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাসুম আহমেদ।