Published : 05 Jun 2026, 12:49 AM
টস হেরে বোলিং পেয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি বললেন, ‘আমরা ভালো বোলিং করে ওদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখার চেষ্টা করব।’ বল হাতে সামনে থেকে দলকে পথ দেখালেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তার সঙ্গে স্পিনারদের দারুণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেল দেড়শ পেরিয়েই। অবশ্য অল্প পুঁজি নিয়েও আশা জাগাল তারা। তবে শাদাব খান ও আব্দুল সামাদের চমৎকার জুটিতে সিরিজ জিতল পাকিস্তান।
তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের জয় ৪ উইকেটে। তিন ম্যাচের সিরিজ আফ্রিদির দল জিতল ২-১ ব্যবধানে।
লাহোরের স্পিন সহায়ক উইকেটে বৃহস্পতিবার ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা ছিল কঠিন। শুরুতে উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিসের ফিফটিতে একপর্যায়ে ২ উইকেটে ৯৮ রানের ভালো অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ব্যাটিং ধসে তারা গুটিয়ে যায় ১৫৭ রানে।
জবাবে একপর্যায়ে পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১১২। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটিতে ৪৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন আফ্রিদি।
আফ্রিদির হাত ধরেই শুরুটা ভালো করে পাকিস্তান। সিরিজে প্রথমবার টস জয়ী অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দ্বিতীয় বলে হারায় ম্যাথু শর্টকে।
ওই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ইংলিস ও মার্নাস লাবুশেন। ইংলিস ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেলেও, লাবুশেন ছিলেন ভীষণ মন্থর। দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে লাবুশেনের (৩৯ বলে ১৯) রান আউটে ভাঙে ৪৬ রানের জুটি।
প্রথম দুই ম্যাচে ওপেন করা অ্যালেক্স কেয়ারি এবার নামেন চার নম্বরে। তার সঙ্গে পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন ইংলিস।
২২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৯৮। আড়াইশ রানে তাদের দৃষ্টি থাকার কথা তখন। কিন্তু এরপরই নামে ধস। কেয়ারিকে বোল্ড করে দেন হারিস রউফ। আফ্রিদির একই ওভারে বিদায় নেন ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন।
টানা দ্বিতীয় ফিফটিতে আট চার ও এক ছক্কায় ইংলিসের ৭১ বলে ৬৫ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কেউ ২০ পর্যন্তও যেতে পারেননি। ম্যাট রেনশ, কুপার কনোলি, অলিভার পিক কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।
১০ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেট নেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। প্রথম দুই ম্যাচে খরুচে বোলিংয়ে উইকেটশূন্য শাদাব এবার ২৮ রানে নেন ২ উইকেট।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় তৃতীয় ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে হারায় পাকিস্তান। আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত ভালো শুরু করে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি (২৬ বলে ২৭)। টিকতে পারেননি ঘাজি ঘোরি। ৬০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।
সেখান থেকে ৩৩ রানের জুটিতে দলকে টানেন বাবর আজম ও সালমান আলি আগা। এই দুজনকেই ফেরান বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু কুনেমান। ৪০ রান করতে বাবর খেলেন ৮৪ বল।
আরাফাত মিনহাসেরও দ্রুত বিদায়ে বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। তবে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান শাদাব ও সামাদ।
শাদাব ৪২ বলে ২৯ ও সামাদ ৩০ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৪২ ওভারে ১৫৭ (শর্ট ১৫ ০, ইংলিস ৬৫, লাবুশেন ১৯, কেয়ারি ১৯, গ্রিন ৭, রেনশ ৪, কনোলি ৩, পিক ৭, কুনেমান ৯* জ্যাম্পা ১০, এলিস ১; আফ্রিদি ৮-১-৩০-৩, রউফ ৭-০-৩৩-১, আবরার ১০-২-১৯-২, মিনহাস ৬-১-২৭-০, শাদাব ৯-২-২৮-২, সালমান ২-১৪-০)
পাকিস্তান: ৪১.৫ ওভারে ১৬১/৬ (সাহিবজাদা ৬, সাদাকাত ২৭, বাবর ৪০, ঘোরি ৮, সালমান ১৫, মিনহাস ৯, সামাদ ১৮*, শাদাব ২৯*; এলিস ৯-১-৪০-১, গ্রিন ১-০-৮-০, কুনেমান ১০-১-৩৮-৩, শর্ট ৭-০-২৩-১, জ্যাম্পা ৯.৫-০-৩৮-০, রেনশ ৩-১-৬-১, লাবুশেন ২-১-৪-০)
ফল: পকিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শাহিন শাহ আফ্রিদি
ম্যান অব দা সিরিজ: আরাফাত মিনহাস