Published : 04 Sep 2025, 08:32 AM
টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে এখন মোটামুটি অভিজ্ঞই বলা যায় লিটন কুমার দাসকে। এই সংস্করণে জয়ের দিক থেকে দেশের তৃতীয় সফল অধিনায়কও হয়ে গেছেন যৌথভাবে। এত পথ পেরিয়ে পুরোনো এক প্রসঙ্গ শুনে যেন একটু বিরক্তই হলেন তিনি। সেই বিরক্তির রেশ কণ্ঠে ফুটিয়ে তুলে তার পরামর্শ, ‘শোনা কথায় কান না দেওয়া ভালো।’
প্রসঙ্গটি তার নেতৃত্ব নিয়ে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কিছুটা অন্তর্মুখি হিসেবে একটা পরিচিতি তার ছিল। বিভিন্ন সময়ে তাকে অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে এটিকে বড় বাধাও মনে করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও নানা সময়ে বিসিবির দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে এরকম কথা শোনা যেত। নেতৃত্বের বাড়তি ভার লিটন খুব উপভোগ করেন না বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে, আলোচনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে খবরও হয়েছে নানা সূত্রের বরাত দিয়ে। যদিও সেসবের সত্যিকার ভিত্তি তেমন পাওয়া যায়নি। তিনি নিজেও তেমন কিছু বলেন নি।
সেই লিটনের নেতৃত্বে টানা তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে গেল বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ শেষে সেই হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গটি তুলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কতটা উপভোগ করছেন এখন। তবে প্রশ্নটি যে ঠিক তার মনে ধরেনি, এটা মিশে থাকল অধিনায়কের উত্তরেই।
“আমার মুখ থেকে কখনও কি শুনেছেন যে আমি (অধিনায়কত্ব) উপভোগ করি কী করি না? কাজেই কিছু কিছু সময় শোনা কথায় কান না দেওয়া ভালো।”
সেখানেই না থেমে সরাসরি উত্তরও দিলেন লিটন। পাশাপাশি নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়েও সন্তুষ্টিও ফুটে উঠল তার কথায়।
“আমি অনেক উপভোগ করি (অধিনায়কত্ব)। উপভোগ করি বলেই দায়িত্বটি নিয়েছি। পিঠেপিঠি কয়েকটি সিরিজ আমরা ভালো ক্রিকেটও খেলছি। আমি পারফর্ম করছি, এটাও দলের জন্য দরকার। কারণ নেতা যখন পারফর্ম করে না, দল মানসিকভাবে একটু পিছিয়ে থাকে। সেদিক থেকে বলব, আমার দলের যেহেতু সবাই পারফর্ম করছে, আমারও একটা চ্যালেঞ্জ ছিল যেন ইনপুট দিতে পারি (ব্যাট হাতে), পারফর্ম যেন করতে পারি। সেদিক থেকে আমি খুবই খুশি যে দলের একটি অংশ হিসেবে প্রভাব রাখতে পারছি।”
জুলাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও তিন ম্যাচে লিটনের মোট রান ছিল ১৭। সেটি পেছনে ফেলে ডাচদের বিপক্ষে রানে ফেরেন তিনি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিনি করেন অপরাজিত ৫৪ রান, দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে। শেষ ম্যাচে বুধবার করেন ৭৩ রান। সিরিজ সেরার স্বীকৃতি পান বাংলাদেশ অধিনায়কই।
তার নেতৃত্বে ১৯ ম্যাচের ১০টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। এই সংস্করণে অধিনায়ক হিসেবে জয়ের সংখ্যায় তিনি স্পর্শ করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। মাশরাফির নেতৃত্বে ২৮ ম্যাচে ১০ জয় ছিল বাংলাদেশের, শান্তর নেতৃত্বে ২৪ ম্যাচে ১০টি।
সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ৩৯ ম্যাচের ১৬টি জিতেছে বাংলাদেশ, মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে ৪৩ ম্যাচে ১০টি।