Published : 02 Apr 2026, 12:32 AM
প্রথম ম্যাচে টিকতে পারেন কেবল চার বল। স্বরূপে ফিরতে অবশ্য বেশি সময় নিলেন না সাহিবজাদা ফারহান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যান পরের ম্যাচেই উপহার দিলেন বিস্ফোরক সেঞ্চুরি, রেকর্ড রান তাড়ায় জেতালেন দলকে।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বুধবার মুলতান সুলতানসের ৬ উইকেটে জয়ের নায়ক সাহিবজাদা। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদ কিংসমেনের ২২৫ রান আট বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় অ্যাশটন টার্নারের দল।
এই মাঠে পিএসএলের ম্যাচে সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। চলতি আসরেই রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পেশাওয়ার জালমির জয় ছিল আগের রেকর্ড।
৫৫ বলে সেঞ্চুরি করে, আট ছক্কা ও সাত চারে ৫৭ বলে অপরাজিত ১০৬ রানের ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ সাহিবজাদা।
এবারের পিএসএলে প্রথম সেঞ্চুরি এটি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সাহিবজাদার সেঞ্চুরি হলো ৯টি। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল বাবর আজমের, ১১টি।
২০ ওভারের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডের তালিকায় ভিরাট কোহলি ও রাইলি রুশোর সঙ্গে যৌথভাবে চারে এখন সাহিবজাদা। তবে কোহলি (৪১৫) ও রুশোর (৩৯৩) চেয়ে অনেক ম্যাচ কম খেলেছেন তিনি (১৬৬)।
১০টি সেঞ্চুরি নিয়ে এই তালিকায় তিন নম্বরে আছেন ডেভিড ওয়ার্নার। একটি সেঞ্চুরি বেশি নিয়ে তার ওপরে বাবর। আর ২২ সেঞ্চুরি করে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেইল।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন সাহিবজাদা। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি। আসরে ছয় ইনিংসে ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেটে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮৩ রান।

বিশ্বকাপের পরপর গত মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচে খুব একটা ভালো তিনি করতে পারেননি। পিএসএলে প্রথম ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে আউট হন চার বলে ২ রান করে।
এবার কিংসমেনের বিপক্ষে বড় রান তাড়ায় প্রথম ৯ বলে সাহিবজাদার রান ছিল ৯। এরপর হাসান খানের টানা তিন বলে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ডানা মেলে দেন তিনি। পরের ওভারে দুটি ছক্কা মারেন স্পিনার মাহিশ থিকশানাকে।
২৫ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। ৫৭ রানে জীবন পান ইরফান নিয়াজি ক্যাচ ফেলায়।
সাহিবজাদা ও স্টিভেন স্মিথের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আট ওভারেই একশ পেরিয়ে যায় মুলতান। চার ছক্কা ও দুই চারে স্মিথ ২০ বলে ৪৬ রান করে ফিরলে ভাঙে ১০৪ রানের শুরুর জুটি।
জশ ফিলিপ ও অ্যাশটন টার্নার টিকতে পারেননি। তাদের মাঝে শান মাসুদ ফেরেন ১৬ বলে ২৯ রান করে।
এক প্রান্ত আগলে রেখে আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যায় সাহিবজাদা। ১৯তম ওভারে ৯৯ থেকে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ওই ওভারেই বিশাল ছক্কায় শেষ করে দেন ম্যাচ।