Published : 29 Sep 2025, 02:05 PM
পাকিস্তানের পাঁচ বোলার মিলে ১৬ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১০০ রান। হারিস রউফ একাই ৩.৪ ওভারে দিয়েছেন ৫০! এশিয়া কাপের ফাইনালে হারার পর এই ফাস্ট বোলারকে একহাত নিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মতে, লাল বলের ক্রিকেটে রউফ খেলেন না বলেই তার বোলিং এত এলোমেলো।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ১৪৬ রানের পুঁজি নিয়েও পাকিস্তান প্রবল চাপে রেখেছিল ভারতকে। তবে বারবারই সেই ফাঁস আলগা হয়ে যায় রউফের বোলিংয়ে। প্রথম ওভারে সাত রান দিলেও তার পরের তিন ওভারই ছিল খরুচে।
ছয় ওভারে ভারতের যখন প্রয়োজন ৬৪ রান, তখন রউফকে চার মারেন শিভাম দুবে, চার ও ছক্কা মারেন তিলাক ভার্মা। ওভার থেকে আসে ১৭ রান।
এরপর শেষ তিন ওভারে যখন প্রয়োজন ৩০ রান, তখনও রউফের ওভার থেকে আসে ১৩ রান। ওভারের শেষ বলটি ফুল টস পেয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন তিলাক।
শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। এখানেও প্রথম বলে দুই রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে তিলাকের ছক্কায় ম্যাচের উত্তেজনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরে বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করে দেন রিঙ্কু সিং, রান দেওয়ার ফিফটি পূর্ণ হয় রউফের।
এটিই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরের সবচেয়ে স্মরণীয় ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়েও ছিল একই চিত্র। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের জন্য যখন ভারতের প্রয়োজন ৮ বলে ২৮ রান, তখন রউফের বলে ভিরাট কোহলির দুটি ছক্কাই মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল ম্যাচের।
ভারতের বিপক্ষে ৭ টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেট তার, ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৮.৬৬ করে। ওয়ানডেতে চার ম্যাচের একটিতে তিন উইকেট পেলেও বাকি তিন ম্যাচে আর উইকেট পাননি। রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি সাড়ে ছয়ের বেশি।
দুবাইয়ে ফাইনালের পর সনি স্পোর্টসে আলোচনায় সেটিই তুলে ধরলেন আকরাম।
“দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বোলার হিসেবে সে (রউফ) একটা রান মেশিন, বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে। আমি তার সমালোচনা করছি না, গোটা দেশ তার সমালোচনা করছে। সে তো লাল বলের ক্রিকেটেও খেলে না। কাজেই আর উন্নতি হবে না তার।”
পাকিস্তানের হয়ে স্রেফ একটি টেস্ট ম্যাচই খেলেছেন রউফ। এরপর লাল বলের ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন তিনি, যা নিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটে বিতর্ক হয়েছে অনেক। দুই বছর পর গত জানুয়ারিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে মাত্র ১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৩১ বছর বয়সী পেসার।
এখানেই প্রবল আপত্তি আকরামের। সহধারাভাষ্যকার ও আরেক কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক বললেন, লাল বলের ক্রিকেটে না খেলার কারণেই রউফের বোলিং এত এলোমেলো।
“লাল বলের ক্রিকেট খেলতে যে অস্বীকৃতি জানায়, তাকে দলে নেওয়া উচিত নয়। অন্তত চার-পাঁচটি প্রথশ শ্রেণির ম্যাচ তো খেলা উচিত। লাল বলের ক্রিকেট খেলছে না বলেই তার বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ নেই। পিসিবির এটা নিয়ে ভাবতে হবে এবং তাকে বলতে হবে, ‘লাল বলের ক্রিকেটে যদি না খেলো, তাহলে তোমাকে বিদায়, অনেক ধন্যবাদ।”
“তার লেংথে উন্নতি করতে হবে। রান-আপও খুব মসৃণ নয়। ওয়াকারের সঙ্গে কথা বলছিলাম আমি যে, চার-পাঁচ বছর ধরে খেলার পরও কেন রান-আপ ঠিকঠাক করেনি! ওয়াকার বলল, ‘সে তো লাল বলের ক্রিকেটই খেলে না।”
এবারের এশিয়া কাপে ৯টি উইকেট নিলেও ওভারপ্রতি ৯ রান করে দিয়েছেন রউফ। আসরে অন্তত ১০ ওভার বোলিং করা বোলারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে খরুচে।