Published : 09 Jun 2026, 11:32 PM
বাংলাদেশের ক্রিকেটে মোসাদ্দেক হোসেনের পরিচয় হয়ে গিয়েছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্রিকেটার। মৌসুমের পর মৌসুম অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করেছেন এই টুর্নামেন্টে। সেই সাফল্য তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বয়ে আনবেন, এমন বিশ্বাস করা লোকের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। জাতীয় দলে ফেরার ম্যাচটি দারুণ পারফরম্যান্সে রাঙিয়ে এই অলরাউন্ডার কৃতজ্ঞতা জানালেন সেই ঢাকা লিগের প্রতিই।
প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭০ বলে ৮৬ রানের ইনিংস খেলেই শেষ হয়নি তার ভূমিকা। পরে বল হাতে ৩৭ রানে নেন দুই উইকেট। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতিও পান।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ছাড়া ঘরোয়া অন্যান্য প্রতিযোগিতায় খুব একটা উজ্জ্বল ছিলেন না তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট গত কয়েক মৌসুমে খেলেছেন খুবই কম। বিপিএলেও নেই উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স। সবশেষ বিপিএলে নিলাম থেকে তাকে দলে নেয়নি কোনো ফ্রাঞ্চাইজি। সেসময় খেলছিলেন তিনি ময়মনসিংহ প্রিমিয়ার লিগে!
কিন্ত ঢাকা লিগে ছিল তার ভিন্ন চেহারা। গত তিন মৌসুমে এক হাজার ২৭৮ রান করার পাশাপাশি ৫৮ উইকেট শিকার করেছেন। এবারের চলমান আসরে ৭ ইনিংসে ৬৭.২০ গড়ে ৩৩৬ রান করেছেন ও বল হাতে নিয়েছেন ২০.৩৩ গড়ে ১২ উইকেট। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৪.১২ রান।
এমন পারফরম্যান্সের পর এবার আর তাকে উপেক্ষা করতে পারেননি নির্বাচকরা। তিনিও প্রতিদান দিলেন সেই আস্থার। এরপর দলকে জিতিয়ে বললেন, লিগের পারফরম্যান্সই ছিল তার জ্বালানি।
“অবশ্যই উজ্জীবিত করেছে (লিগের পারফরম্যান্স। পারফর্ম করতে থাকলে ওই বিশ্বাসটা মাথার মধ্যে সবসময় কাজ করে যে, একটা সুযোগ আসতে পারে। আবাহনীতে খেলি আর ঘরোয়া যেখানেই খেলি না কেন, দিনশেষে সবাই চেষ্টা করে দেশকে সার্ভ করার জন্য। এটাই ছিল মূল লক্ষ্য এবং আমি বিশ্বাস করি যে, সবাই এই জিনিসটা বিশ্বাস করে। ওই জায়গা থেকে অবশ্যই বলব যে, প্রিমিয়ার লিগের পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে সবকিছুর একটা মূল্য আছে।”
ঘরোয়া ক্রিকেটে যে আগ্রাসী ব্যাটিং দেখা যায় তার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচেও দেখা গেছে তার সেই ধরনের ব্যাটিং। দলের চাপের মধ্যেও তিনি সহজাত শট খেলে গেছেন। সেখানেও তিনি কৃতিত্ব দিলেন ঢাকা লিগকেই।
“ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি এভাবেই খেলার চেষ্টা করছিলাম। এখনকার ক্রিকেট যদি আমরা দেখি, সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি বা স্ট্রাইক রেটের কথা যদি আসে, ঐ জিনিসটা সবসময় মাথায় কাজ করতো, যখন ঘরোয়াতে খেলতাম। ওই ব্যাপারটিই আমরা ওখান (ঘরোয়া) থেকে এখানে (আন্তর্জাতিক) নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।”
“প্রথম ম্যাচটায় এমন একটা শুরু পাওয়া এবং দলের জন্য যা দরকার ছিল, সেখানে আমার কাজটা করতে পেরে ভালো লাগছে। চেষ্টা করব পরের ম্যাচগুলোতে যেন এরকম চালিয়ে যেতে পারি।”
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গত কয়েক মৌসুমে যে ধরনের উইকেটে খেলা হয়েছে, সেটির কথা উল্লেখ করতেও ভুললেন না ৩০ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“ঘরোয়াতে আমরা যেখানেই খেলি না কেন এবং যে সংস্করণেই খেলি, উইকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যদি আমরা ভালো উইকেটগুলোতে খেলতে পারি, তাহলে ব্যাটসম্যান যারা আছে এবং বাংলাদেশে ওই ধরনের ক্রিকেটার অনেক আছে, হয়তোবা উইকেটে ভরসা করতে পারে না বলে অনেক ধরনের শটস খেলতে পারে না। একটা ব্যাটসম্যান যখন ওই শটগুলো খেলা বন্ধ করে, তখন আস্তে আস্তে তার শটসের রেঞ্জও কমে যায়।”
“ভালো উইকেটগুলোতে খেলতে থাকলে আমার কাছে মনে হয় যে, খুবই চান্স থাকে তার শটগুলোর ওপর আস্থা রাখার এবং দিনশেষে ভালো একটা ফলাফল আশা করা যায়।”