Published : 21 Jul 2026, 06:47 PM
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র্যাব-১ ও ডিবির গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’পরিদর্শন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতিরা।
প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের এ আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।
এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি), উত্তরায় র্যাব-১ এর টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) এবং ডিবির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের আবেদন জানান।
শুনানিতে প্রধান কৌঁসুলি আওয়ামী লীগ শাসনামলে এসব বন্দিশালায় বিরোধী মতাদর্শের লোকদের তুলে নিয়ে গুম ও নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি বৈধতা ও নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা (ফৌজদারি কার্যবিধি) এবং রোম স্ট্যাটিউটের ৭ ও ৭৩ নম্বর রুলে মামলার স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে।
রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়ার উদাহরণ টেনে আমিনুল ইসলাম বলেন, সেখানে বিচারকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন এবং মেমোরেন্ডাম হিসেবে তা বিচারকাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ঢাকার কচুক্ষেতের জেআইসি, র্যাব-১ এর টিএফআই এবং ডিবি কার্যালয়ের বন্দিশালা পরিদর্শন করতে তিনি আর্জি জানান। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের বক্তব্য ও আবেদন আমলে নিয়ে পরিদর্শনে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।

পরে নিজ কার্যালয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিগত স্বৈরশাসনে বাংলাদেশে অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের জেআইসি, টিএফআই বা আয়নাঘর নামে পরিচিত এসব জায়গায় বন্দি করে রাখা হতো। এসব জায়গা পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।”
আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারক যেকোনো সময় পরিদর্শনের দিন ও তারিখ নির্ধারণ করবেন। পরিদর্শনের আগে প্রসিকিউশন এবং আগ্রহী আসামিপক্ষকে নোটিস করা হবে এবং সবার উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তার বিচার চলছে।
এই তিন মামলার ২৮ আসামির মধ্যে বাকিদের পলাতক দেখিয়ে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ছাড়া বাকি ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকীও আছেন তাদের মধ্যে।