ত্রিদেশীয় সিরিজ
Published : 30 Aug 2025, 12:37 AM
১১ ওভারে ২ উইকেটে ৯৩ রান। বেশ ভালোভাবেই তখন লড়াইয়ে টিকে আফগানিস্তান। কিন্তু ১৭ বলের একটা ঝড়ে বদলে গেল চিত্র। ৪ রানের মধ্যে বিদায় নিলেন পাঁচ জন ব্যাটসম্যান। পরে রাশিদ খান ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চেষ্টা করলেও যথেষ্ট হলো না তা। সালমান আলি আগার ফিফটির পর বোলারদের নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত বড় জয়ই পেল পাকিস্তান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ৩৯ রানে।
সালমানের ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৩ ও কয়েকটি ক্যামিও ইনিংসে ১৮২ রানের পুঁজি গড়ে পাকিস্তান। জবাবে একপর্যায়ে শক্ত অবস্থানে থেকে এক বল বাকি থাকতে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
কেবল তিন জন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে ধরা দিল পাকিস্তানের এই জয়। সেই তিন জন শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও সুফিয়ান মুকিম মিলে শিকার ধরেন ৮টি। ৩১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার রউফ। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান অবশ্য সালমান।
শারজাহতে শুক্রবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে একটি করে ছক্কা ও চার মেরে শুরু করেন সাহিবজাদা ফারহান। তৃতীয় ওভারে আরেকটি ছক্কার পর ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ২৯ বছর বয়সী ওপেনার (১০ বলে ২১)।
খুব একটা স্বস্তিতে খেলতে পারেননি আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুব। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাকে (১৬ বলে ১৪) বিদায় করেন আফগান অধিনায়ক রাশিদ। চোট কাটিয়ে ফেরা ফাখার জামান (১৭ বলে ২০) বিদায় নেন পরের ওভারে।
পাঁচ নম্বরে নেমে ৯ রান করতে ১৩ বল খেলেন হাসান নাওয়াজ। পঞ্চম উইকেটে ইনিংস সেরা ৫৩ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন মোহাম্মদ নাওয়াজ ও সালমান।
২ ছক্কা ও এক চারে ১১ বলে ২১ রান করেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। সালমান চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটি করেন ৩৩ বলে। ১৩ বলে ১৫ রান করে শেষ ওভারে আউট হন মোহাম্মদ হারিস।
একটি করে চার ও ছক্কায় ৫ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ফাহিম আশরাফ। সালমানের ইনিংসে চার ও ছক্কা সমান তিনটি করে।

আফগানিস্তানের তিন স্পিনার রাশিদ, মোহাম্মাদ নাবি ও মুজিব উর রাহমান নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও খরুচে ছিলেন তাদের পেসাররা।
লক্ষ্য তাড়ায় ইব্রাহিম জাদরানকে তৃতীয় ওভারেই হারায় আফগানিস্তান। দারুণ ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেন বাঁহাতি পেসার আফ্রিদি।
দ্বিতীয় উইকেটে ৩০ বলে ৫১ রানের জুটিতে দলকে পথে রাখেন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আটাল। গুরবাজকে (২৭ বলে ৩৮) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ নাওয়াজ।
দারভিশ রাসুলিকে সঙ্গে নিয়ে সেদিকউল্লাহ চালিয়ে যান লড়াই। ৮ উইকেট হাতে রেখে ৫৪ বলে দরকার ছিল ৯০ রান। এরপরই পাঁচ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আফগানরা।
দ্বাদশ ওভারে কোনো রান না দিয়েই সেদিকউল্লাহর (১৯ বলে ২৩) ও কারিম জানাতের উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রউফ। পরের ওভারে রাসুলিকে (১৩ বলে ২১) চমৎকার ফিরতি ক্যাচে বিদায় করেন স্পিনার মুকিম। নিজের পরের ওভারে নাবিকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। মাঝে মোহাম্মদ নাওয়াজের দ্বিতীয় শিকার আজমাতউল্লাহ ওমারজাই।
২ উইকেটে ৯৩ থেকে দ্রুতই আফগানিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৯৭!
রাশিদ উইকেটে গিয়ে চতুর্থ বলেই ছক্কা মারেন আফ্রিদিকে। মুকিমের পরপর দুই বলে মারেন ছক্কা ও চার। পরের ওভারে রউফকে তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় ওই ওভারেই শেষ হয় তার ঝড়ো ইনিংস। আফগানিস্তানের ক্ষীণ আশাও শেষ হয়ে যায় সেখানেই।
৫ ছক্কা ও এক চারে ১৬ বলে ৩৯ রান করেন রাশিদ।
মুজিবকে বোল্ড করে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান আফ্রিদি। ফারিদ আহমাদকে ফিরিয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন রউফ।
এশিয়া কাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এই সিরিজের পরের ম্যাচে শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৮২/৭ (সাহিবজাদা ২১, সাইম ১৪, ফাখার ২০, সালমান ৫৩*, হাসান নাওয়াজ ৯, মোহাম্মদ নাওয়াজ ২১, হারিস ১৫, ফাহিম ১৪*; ফারুকি ৩-০-৩১-০, মুজিব ৪-০-২২-১, আজমাতউল্লাহ ২-০-২৮-১, নাবি ৩-০-১৮-১, রাশিদ ৪-০-২৬-১, ফারিদ ৪-০-৪৭-২)
আফগানিস্তান: ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ (গুরবাজ ৩৮, ইব্রাহিম ৯, সেদিকউল্লাহ ২৩, রাসুলি ২১, জানাত ০, ওমারজাই ০, নাবি ৩, রাশিদ ৩৯, মুজিব ৪, ফারিদ ১, ফারুকি ১*; আফ্রিদি ৪-০-২১-২, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৪-০-২৩-২, ফাহিম ১-০-১৫-০, রউফ ৩.৫-১-৩১-৪, সাইম ২-০-২১-০, সালমান ১-০-৬-০, মুকিম ৪-০-২৫-২)
ফল: পাকিস্তান ৩৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সালমান আলি আগা