Published : 16 Jul 2025, 05:16 PM
অভিষেক টেস্টে ৬ রানে ৭ উইকেট। প্রায় চার বছর আগের ওই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সাদা পোশাকে আর কেবল ১৩টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছেন স্কট বোল্যান্ড। অবশ্য যখনই সুযোগ পেয়েছেন, বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। এরপরও কখনোই নিয়মিত হতে পারেননি দলে। তাইতো, জ্যামাইকায় সবশেষ টেস্টে যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পরও, আবার কবে তিনি টেস্ট খেলার সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়।
কারণ, অভিজ্ঞ পেসত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউডের ওপরই যে আস্থা রেখে আসছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের কাউকে বসিয়ে কেবল একবারই বোল্যান্ডকে সুযোগ দিয়েছিলেন দলটির নির্বাচকরা।
২০২১ সালে বক্সিং ডে টেস্ট দিয়ে ৩২ বছর বয়সে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে পথচলা শুরু করেন বোল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে চমক দেখান ডানহাতি পেসার।
তার অভিষেক থেকে ৩৯টি টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। যার মধ্যে কেবল ১৪টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন বোল্যান্ড। এই অল্প সুযোগেই টেস্টে গত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে একটি জায়গায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ৩৬ বছর বয়সী বোলার।
টেস্টে বোল্যান্ডের উইকেট সংখ্যা ৬২, বোলিং গড় ১৬.৫৩। এই সংস্করণের ইতিহাসে অন্তত ৫০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে ষষ্ঠ সেরা বোলিং গড় বোল্যান্ডের। আর গত ১১০ বছরের মধ্যে এত কম বোলিং গড়ে তার চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেননি কেউ।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে গড়ের হিসেবে সেরা টেস্ট বোলার হয়েও অস্ট্রেলিয়া দলে নিয়মিত নন বোল্যান্ড। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে কিংস্টনে দিবা-রাত্রির টেস্টটি খেলেন তিনি ৬ মাস বিরতির পর। গত ৬০ বছরের মধ্যে ৩৬তম জন্মদিনের পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলা দ্বিতীয় পেসার বোল্যান্ড, আরেকজন গ্লেন ম্যাকগ্রা।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন বোল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে স্টার্কের ৯ রানের ৬ উইকেটের রেকর্ডগড়া বোলিংয়ের মাঝে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম তিন বলে ফেরান জাস্টিন গ্রিভস, শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিক্যানকে।
স্টার্ক ও বোল্যান্ডের নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে গুটিয়ে ১৭৬ রানের জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের সিরিজটিতে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে কামিন্সের দল।
বোল্যান্ডের সৌজন্যে প্রায় ১৫ বছর পর টেস্টে হ্যাটট্রিকের দেখা পেল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন দলটির পেসার পিটার সিডল।
সব মিলিয়ে হ্যাটট্রিক করা অস্ট্রেলিয়ার দশম বোলার বোল্যান্ড। আর দিবারাত্রির টেস্টের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বোলার তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গোলাপি বলের এই টেস্টে চারজন পেসার খেলায় অস্ট্রেলিয়া। তাই ম্যাচটি খেলার সুযোগ পান বোল্যান্ড। আর তাকে জায়গা দিতে ১২ বছরে প্রথমবার অভিজ্ঞ স্পিনার ন্যাথান লায়নকে চোট সমস্যা ছাড়াই বাইরে রাখে দলটি।
ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয়ের পর বোল্যান্ডের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতা স্টার্ক। তার মতে, ব্যাগি গ্রিন পরা সবচেয়ে দুর্ভাগা ক্রিকেটার বোল্যান্ড।
“অন্য দলের হলে সে অনেক বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারত। তবে যখনই সে দলে আসে দারুণ পারফরম্যান্স করে, যেমনটা এই সপ্তাহে আমরা দেখলাম। বল হাতে নিখুঁত লেংথ থেকে সে কখনই দূরে থাকে না।”
“খেলার জন্য সে সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখে। এই সপ্তাহে সে সুযোগ পেয়েছে এবং দেখিয়েছে কতটা অসাধারণ টেস্ট বোলার সে।”
আসছে অ্যাশেজ সিরিজে সুযোগ পেতে পারেন বোল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী এই লড়াইয়ের শেষ তিনটি টেস্ট ২৩ দিনের মধ্যে হবে। এটাই তার খেলার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। কামিন্স, হেইজেলউড ও স্টার্কের কাউকে বিশ্রাম দিয়ে তাকে খেলাতে পারে অস্ট্রেলিয়া।
পার্থ টেস্ট দিয়ে আগামী নভেম্বরে শুরু হবে অ্যাশেজ সিরিজ। এর আগে আর কোনো টেস্ট সিরিজ নেই অস্ট্রেলিয়ার।