Published : 29 May 2026, 09:48 AM
আইপিএলের প্রমাণের তেমন কিছু আর বাকি নেই। যে সংশয় আর কৌতূহল নিয়ে এবারের আসর শুরু হয়েছিল, ব্যাটের দাপটে সব উড়িয়ে দিয়েছেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পালা। সুনিল গাভাস্কার তো একদম নিশ্চিতই, জাতীয় দলের জন্য তৈরি হয়েই গেছেন ভারতের এই কিশোর ব্যাটিং সেনসেশন। ১৫ বছর বয়সী তারকার বয়স নয়, খেলা দেখে বিবেচনা করতে বললেন ভারতীয় কিংবদন্তি।
আইপিএলের গত আসরে আবির্ভাবেই চমকে দিয়েছিলেন সুরিয়াভানশি। এরপর তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সব কীর্তি গড়েছেন, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে একগাদা রেকর্ড গড়ে যুব বিশ্বকাপ জিতেছেন, ভারতের হয়ে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে আলো ছড়িয়েছেন। যেহেতু তার ব্যাটিং সবাই যথেষ্ট দেখেছে গত এক বছরে এবং ভিডিও বিশ্লেষণের সুযোগ মিলেছে, অনেকেই মনে করেছিলেন, এবারের আইপিএলে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে এই কিশোর প্রতিভাকে।
কিন্তু তিনি প্রশ্নগুলোকে যেন একটির পর একটি আছড়ে ফেলেছেন মাঠের বাইরে। জবাব দিয়েছেন এক আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডসহ আরও অনেক অর্জন দিয়ে। ২৪২.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ৬৮০ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে, এখনও পর্যন্ত যা আসরের সর্বোচ্চ। এবার আরও অন্তত একটি ম্যাচ তিনি খেলতে পারবেন, দল ফাইনালে উঠলে পাবেন দুটি ম্যাচ।
এলিমিনেটর ম্যাচে ২৯ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটির পর তাকে নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা ছুঁয়েছে ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে। বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি ও গ্রেটরা তাকে স্তুতির জোয়ারে ভাসাচ্ছেন। সেখানেই গাভাস্কার তুলে আনলেন জাতীয় দলের প্রসঙ্গ।
আইপিএল শেষেই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আছে ভারতের, এরপর আছে জিম্বাবুয়েতে। এই সফরগুলির মধ্যেই সুরিয়াভানশিকে জাতীয় দলে দেখতে চান গাভাস্কার।
“টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সে প্রস্তুত (জাতীয় দলের জন্য)। আশা করি, ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে তাকে দলে নেওয়া হবে। এই পারফরম্যান্সের পর তাকে যদি দলে জায়গা দেওয়া না হয়, তাহলে কখন জায়গা দেবেন?”
“তার বয়সের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। তার দ্বিগুণ বয়সী ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বোলারদের সে ক্রমাগত গ্যালারিতে আছড়ে ফেলছে। বয়স নয়, স্রেফ দেখুন সে কীভাবে খেলছে, কোনো ভয়ডর নেই। বাচ্চারা যেভাবে গলিতে খেলে, আপনি-আমি যখন গলিতে খেলতাম, তখন কি ডিফেন্স করতাম? সুরিভানশি সেভাবেই ব্যাট করছে আইপিএলে। আশা করি, ছেলেটির এই খেলার ধরন কখনোই হারিয়ে যাবে না।”
সুরিভানশিকে টি-টোয়েন্টি দলে নিলে বাদ যাবেন কে, সেই প্রশ্নটিও খুব যৌক্তিক। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের ওপেনিং জুটিতে আছেন এখন সাঞ্জু স্যামসন ও আভিশেক শার্মা। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে বড় অবদান ছিল স্যামসনের। আভিশেক অবশ্য বিশ্বকাপ রাঙাতে পারেননি। তবে আইপিএলে তিনিও ফিরেছেন স্বরূপে। সুরিয়াভানশির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে অনেকেই আড়ালে পড়ে গেছেন। কিন্তু আভিশেকও ৫৬৩ রান করেছেন ২০৪.৭২ স্ট্রাইক রেটে।
এছাড়া ইয়াশাসবি জয়সওয়ালের মতো ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দারুণ পারফর্ম করেও এখন আর সুযোগ পাচ্ছেন না। ঘরোয়া ক্রিকেটে ও আইপিএলে আরও অনেকেই পারফর্ম করেও জাতীয় দলে ফিরতে বা ঢুকতে পারছেন না। ভারতীয় দলে প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র। সেখানে সুরিয়াভানশি কার জায়গায় ঢুকবেন?
সেই উত্তরও খোঁজার চেষ্টা করলেন গাভাস্কার।
“প্রশ্ন হলো, তাকে (সুরিভানশি) জাতীয় দলে নিলে কাকে বাইরে রাখা হবে। এটা একটা সমস্যা বটে। তবে মধুর সমস্যা। কাউকে নেওয়া সমস্যা নয়, কাকে বসানো হবে, সেটাই সমস্যা।”
“তাদের (নির্বাচক কমিটি) হাতে বিকল্পের অভাব নেই। অনেকেই আছে। তবে তাকে (সুরিয়াভানশি) অন্তত ১৫-১৬ জনের স্কোয়াডে রাখতে পারে। এরপর একাদশে রাখা হচ্ছে নাকি হচ্ছে না, সেটা পরে দেখা যাবে। কিন্তু ভারতীয় দলে থেকে যে অভিজ্ঞতা সে অর্জন করবে, তা হবে অমূল্য।”
সর্বকালের সেরা ওপেনারদের একজন গাভাস্কার নিশ্চিত, আইপিএলের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এই বছরটি রাঙাবেন সুরিয়াভানশি।
“এই বছর নিশ্চিতভাবেই তার অভিষেক হবে (জাতীয় তলে)… সেটা ইংল্যান্ডে হোক বা জিম্বাবুয়ে। ২০২৬ সালে সে ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবে। ২০২৬ সালকে মনে রাখা হবে বৈভাব সুরিয়াভানশির বছর হিসেবে।”