Published : 07 Jan 2026, 10:54 PM
শ্রীলঙ্কার সাত ব্যাটসম্যান স্পর্শ করলেন দুই অঙ্ক। কিন্তু ২০ ছাড়াতে পারলেন কেবল একজন। ঘরের মাঠে লড়ার মতো পুঁজিই গড়তে পারল না তারা। পেস-স্পিনের যৌথ আক্রমণে লঙ্কান ব্যাটিং ধসিয়ে দেওয়ার পর সাহিবজাদা ফারহানের ঝড়ো ফিফটিতে অনায়াসে জিতল পাকিস্তান।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের জয় ৬ উইকেটে।
ডাম্বুলায় বুধবার দুই বল বাকি থাকতে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ১২৮ রানে। সেই রান পাকিস্তান পেরিয়ে যায় ২০ বল হাতে রেখে।
আঁটসাঁট বোলিংয়ে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার সালমান মির্জা ও লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ।
সাত মাস পর এই সংস্করণে ফিরে নিজের প্রথম ওভারে ২টি উইকেট শিকার করেন শাদাব খান। ২৫ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে ১২ বলে অপরাজিত ১৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতিও পান এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে সবশেষ ম্যাচে ৬৫ রানের ইনিংস খেলে যাওয়া সাহিবজাদা জাতীয় দলের হয়ে করেন ৩৬ বলে ৫১। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় গড়া এই ওপেনারের ইনিংসটি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার কামিল মিশারা ও পাথুম নিসাঙ্কাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। সপ্তম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই তিন বলের মধ্যে কুসাল মেন্ডিস ও ধানাঞ্জায়া ডি সিলভাকে বিদায় করে শাদাব।
দেড় বছর পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ১০ বলে ১০ রান করেন ধানাঞ্জায়া। তখন ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে শ্রীলঙ্কা।
সেখান থেকে দলকে টানেন জানিথ লিয়ানাগে। তিনি দুটি ত্রিশোর্ধ (৩৪ ও ৩৮) জুটি গড়েন চারিথ আসালাঙ্কা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার সঙ্গে। আসালাঙ্কা ও হাসারাঙ্গা, দুজনই গড়েন ১৮ রান করে।
২ চার ও এক ছক্কায় ৩১ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন লিয়ানাগে।
১ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
রান তাড়ায় সাহিবজাদা ও সাইম আইয়ুবের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পায় পাকিস্তান। বিপিএলে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করেন সাহিবজাদা। প্রথম ওভারে তিনি পরপর দুটি চার মারেন নুয়ান থুসারাকে। পরের ওভারে মাহিশ থিকশানাকে ছক্কায় ওড়ান সাইম।
থুসারার পরের ওভারে ঝড় বয়ে যায়। চার মেরে শুরু করেন সাইম। পরপর দুটি ছক্কা মারেন সাহিবজাদা। ওভারে আসে ১৯ রান।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাইমের (১৮ বলে ২৪) বিদায়ে থামে ৫৯ রানের উদ্বোধনী জুটি।
অধিনায়ক সালমান আলি আগা শুরুটা ভালো করলে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। হাসারাঙ্গার ফুল টসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
সাহিবজাদা ফিফটি করেন ৩৪ বলে। এর পরপরই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি জয় থেকে ২৮ রান দূরে থাকতে।
ধানাঞ্জায়াকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন ফাখার জামান। বাকিটুকু অনায়াসে সারেন উসমান খান ও শাদাব।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ১৯.২ ওভারে ১২৮ (নিসাঙ্কা ১২, মিশারা ০, মেন্ডিস ১৪, ধানাঞ্জায়া ১০, আসালাঙ্কা ১৮, লিয়ানাগে ৪০, হাসারাঙ্গা ১৮, শানাকা ১২, চামিরা ০, থিকশানা ১, থুসারা ০*; সালমান মির্জা ৪-০-১৮-৩, ওয়াসিম ২.২-০-৭-২, ফাহিম ১-০-১০-০, শাদাব ৪-০-২৫-২, নাওয়াজ ৪-০-৪০-০, আবরার ৪-০-২৫-৩)
পাকিস্তান: ১৬.৪ ওভারে ১২৯/৪ (সাহিবজাদা ৫১, সাইম ২৪, সালমান আলি ১৬, ফাখার ৫, উসমান ৭*, শাদাব ১৮*; থুসারা ২-০-৩১-০, থিকশানা ৪-০-৩১-১, চামিরা ৪-০-৩৪-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-১৭-১, ধানাঞ্জায়া ২-০-৪-১, ০.৪-০-৭-০)
ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে পাকিস্তান
ম্যান অব দা ম্যাচ: শাদাব খান