Published : 23 Jul 2026, 03:01 PM
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকায় ৩০ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; আগামী কয়েকদিনও দেশের সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঢাকায় কয়েকদিন ধরেই থেমে-থেমে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩০ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন তো বর্ষাকাল, একটু থেমে একটু বৃষ্টি হবে। খুব ভারি বা অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা ঢাকায় আপাতত নেই। এই একদিন-দুইদিন এরকম বৃষ্টি হবে, একটু ক্লাউডি (মেঘলা) থাকবে।”
তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ১৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
এর ফলে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় মাঝারি ও চট্টগ্রাম জেলায় অপেক্ষাকৃত কম ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দেশের কয়েকটি নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সম্পর্কিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার সকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয়, অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৬৮, খুলনার কয়রায় ৬৬, বাগেরহাটের মোংলায় ৫৬, সন্দ্বীপে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে,৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নারায়ণগঞ্জে ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।