Published : 08 Feb 2026, 03:13 PM
দুর্দান্ত দুটি ডেলিভারিতে টানা দুই বলে বোল্ড ফিন অ্যালেন ও রাচিন রাভিন্দ্রা। পরের বলে হ্যাটট্রিক হলো না একটুর জন্য। রান তাড়ার দ্বিতীয় ওভারেই এভাবে টালমাটাল নিউ জিল্যান্ড। তারপরও ভড়কে গেল না তারা। রেকর্ড রান তাড়ায় টিম সাইফার্টের ফিফটি আর দারুণ পেশাদার ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত জিতে গেল তারা বেশ সহজেই। বিফলে গেল আফগানিস্তানের সব প্রচেষ্টা।
গত বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডকে ৭৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮৪ জয় পেয়েছিল আফগানিস্তান। এবার হলো উল্টো। আফগান চ্যালেঞ্জকে হারিয়ে ৫ উইকেটের জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল নিউ জিল্যান্ড।
বরাবরই আফগানদের বড় শক্তি বোলিং। কিন্তু এই ম্যাচে তাদের হার মূলত বোলারদের ব্যর্থতায়ই।
চেন্নাইয়ে রোববার গুলবাদিন নাইবের প্রথম বিশ্বকাপ ফিফটিতে আফগানিস্তান তোলে ২০ ওভারে ১৮৩ রান। প্রথম ১০ ওভারে ৭২ রান তোলা দল পরের ১০ ওভারে তোলে ১১০।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সব আসর মিলিয়ে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটিই। রান তাড়ায় তাদের সামনে তখন তাই রেকর্ড গড়ার পরীক্ষা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এত বেশি রান তাড়ায় জয়ের নজির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই আর নেই।
একসঙ্গে দুটিই করে ফেলে নিউ জিল্যান্ড। জবাব দেয় তারা টিম সাইফার্টের প্রথম বিশ্বকাপ ফিফটিতে। সঙ্গে অন্যদের অবদানে ম্যাচ শেষ করে দেয় তারা ১৩ বল বাকি রেখেই।
জাতীয় দলের হয়ে আগে ৮১ টি-টোয়েন্টি খেললেও সাইফার্ট বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলেছিলেন স্রেফ দুটি। ২০২১ আসলে ওই দুই ম্যাচেই ফিরেছিলেন ৮ রান করে। এবার ৪২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে তিনি ম্যাচের সেরা।
চেন্নাইয়ের উইকেট নানা সময়েই দেখা গেছে মন্থর, গ্রিপ করেছে বল। তবে এবারের উইকেট নতুন করে বানানো, খানিকটা ঘাসের ছোঁয়া থাকা ব্যাটিং সহায়ক ২২ গজ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তান পাওয়ার প্লে সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।
রাহমানউল্লাগ গুরবাজ ভালো শুরু করলেও ইব্রাহিম জাদরান স্বস্তিতে শুরু করতে না পারায় প্রথম ৫ ওভারে রান ওঠে ৩৫। পরের ওভারে আক্রমণে এসে দুজনকেই ফেরান লকি ফার্গুসন।
স্টাম্পের বাইরে আলগা বল পয়েন্টে তুলে দেন ইব্রাহিম (১২ বলে ১০)। লেগ কাটারে বল স্টাম্পে টেনে আনেন গুরবাজ (২২ বলে ২৭)।
তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়েন গুলবাদিন নাইব ও সেদিকউল্লাহ আটাল।
জুটিতে অগ্রণী ছিলেন গুলবাদিন। ফিফটি করে তিনি ২৯ বলে। টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশে পা রাখলেন তিনি ১৬ ইনিংস পর।
জ্যাকব ডাফির স্লোয়ার বাউন্সারে আটাল ফেরেন ২৪ বলে ২৯ রান করে। পরে দারভিশ রাসুলির ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ২০ রান।
অষ্টাদশ ওভারে রাচিনা রাভিন্দ্রাকে বোলিংয়ে এনে ঝুঁকি নেয় নিউ জিল্যান্ড। তার প্রথম বলে ছক্কা মেরে পরের বলে আউট হয়ে যান গুলবাদিন। তার ৩৫ বলে ৬৫ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ার সেরা। ছক্কা আছে সেখানে ৪টি।
শেষ দিকে দুই ছককায় ১৪ রান করেন আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, শেষ ওভারে ছক্কা আসে মোহাম্মদ নাবির ব্যাট থেকে।

ফাজালহাক ফারুকির প্রথম ওভারে সাইফার্টের তিন বাউন্ডারিতে শুরু হয় নিউ জিল্যান্ডের রান তাড়া। পরের ওভারেই তাদেরকে নাড়িয়ে দেন মুজিব। স্কিড করা বলে ক্রস ব্যাটে খেলে বোল্ড হন অ্যালেন। রাভিন্দ্রা তো বুঝেই উঠতে পারেননি মুজিবের সুইং।
হ্যাটট্রিক বলটি মুজিব করেছিলেন গুগলি। গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় ক্যাচ। কিন্তু শর্ট লেগে কেউ না থাকায় রক্ষা পান তিনি।
দ্রুতই পাল্টা আক্রমণে চাপ সরিয়ে দেন সাইফার্ট ও ফিলিপস। ৪৭ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন দুজন।
পাওয়ার প্লে শেষ হতেই আক্রমণ আসেন রাশিদ। তাকে চার ও ছক্কা মেরে সরিয়ে দেন ফিলিপস। দশম ওভারে আবার আক্রমণে ফিরে ফিলিপসকে (২৫ বলে ৪২) বিদায় করে হুঙ্কার ছোড়েন আফগান অধিনায়ক।
রাশিদ পরের ওভরে হাতছাড়া করেন সুযোগ। তিনবারের চেষ্টায়ও নিজের বলে ক্যাচ নিতে পারেননি তিনি। ৪৮ রানে জীবন পেয়ে পরের ওভারে নাবিকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে সমীকরণ সহজ করেন সাইফার্ট।
ইনিংসটির পথে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২হাজার রান পূর্ণ করেন এই কিপার-ব্যাটার।
আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় ওই ওভারেই বিদায় নেন সাইফার্ট। তবে নিউ জিল্যান্ডের জিততে সমস্যা হয়নি।
মুজিবের শেষ ওভারে চার ও ছক্কা মেরে মার্ক চ্যাপমান পরে আউট হন ১৭ বলে ২৮ রান করে। ফর্মে থাকা ড্যারিল মিচেল অপরাজিত থাকেন ১৪ বলে ২৫ রান করে।
দারুণ বোলিংয়ের পর শেষ দিকে ৮ বলে ১৭ রান করে দলকে দ্রুতই জিতিয়ে দেন মিচেল স্যান্টনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (গুরবাজ ২৭, ইব্রাহিম ১০, গুলবাদিন ৬৩, আটাল ২৯, রাসুলি ২০, ওমারজাই ১৪, নাবি ১০*; হেনরি ৪-০-২৭-১, ডাফি ৩-০-৩০-১, ফার্গুসন ৪-০-৪০-২, নিশাম ৩-০-৩৩-০, স্যান্টনার ৪-০-২৩-১, ফিলিপস ১-০-১২-০, রাভিন্দ্রা ১-০-১৪-১)।
নিউ জিল্যান্ড : ১৭.৫ ওভারে ১৮৩/৫ (সাইফার্ট ৬৫, অ্যালেন ১, রাভিন্দ্রা ০, ফিলিপস ৪২, চ্যাপম্যান ২৮, মিচেল ২৫*, স্যান্টনার ১৭*, ফারুকি ২-০-২৫-০, মুজিব ৪-০-৩১-২, ওমারজাই৩.৫-০-৪০-১ , রাশিদ ৪-০-৩৬-১, জিয়াউর ৩-০-৩৩-০, নাবি ১-০-১৮-১)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: টিম সাইফার্ট।