Published : 29 Sep 2025, 05:49 PM
কদিন আগে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেটিই এখন বাস্তব রূপ পেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস।
মাস দুয়েক আগে কাঁধে পাওয়া চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে আছেন ওকস। এই চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সামনের অ্যাশেজ সিরিজ থেকেও। গত মঙ্গলবার তাকে ছাড়াই অ্যাশেজের দল ঘোষণার পর ইংল্যান্ডের ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একদমই নেই ওকস। তার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যতের চিত্রও ফুটে ওঠে তখন।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সোমবার ইংল্যান্ডের হয়ে ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন ওকস। কাউন্টি ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন ৩৬ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
“সময় এসে গেছে এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার এখনই সঠিক সময়।”
“ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন ছিল আমার ছোটবেলা থেকে এবং সেই স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দিতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি আমি। ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা, থ্রি লায়ন্সের জার্সি পরা এবং গত ১৫ বছর ধরে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে নামা, যাদের অনেকেই আজীবনের বন্ধু হয়ে উঠেছে, এসব আমি অনেক বেশি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করব।”
গত ৩১ জুলাই ভারতের বিপক্ষে ওভাল টেস্টের প্রথম দিন ফিল্ডিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে কাঁধের হাড় নড়ে যায় ওকসের। পরে দলের প্রয়োজনে স্লিংয়ে এক হাত ঝুলিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি এক হাতে ব্যাটিং করতে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৬ রানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। জাতীয় দলের হয়ে এটিই হয়ে রইল ওকসের শেষ ম্যাচ।
২০২৩ সালের পর থেকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাননি তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার টিকে ছিল কেবল টেস্টেই। গত অ্যাশেজে তিনি হয়েছিলেন সিরিজ-সেরা। সবশেষ সিরিজে ভারতের বিপক্ষে দলের একমাত্র তিনিই খেলেছিলেন পাঁচ ম্যাচের সবকটি। নাটকীয় মোড়ে মাস দুয়েকের মধ্যে সেই ওকসের নাম উঠে গেল সাবেকদের কাতারে।
৬২ টেস্টে ১৯২ উইকেট নিয়ে থামতে হলো ওকসকে। ইনিংসে পাঁচ উইকেট আছে পাঁচবার, ম্যাচে ১০ উইকেট একবার। ব্যাট হাতে একটি সেঞ্চুরি ও সাতটি ফিফটিতে ২৫.১১ গড়ে তার রান ২ হাজার ৩৪ রান।
১২২ ওয়ানডে খেলে তার উইকেট ১৭৩টি, ব্যাট হাতে ছয়টি ফিফটিতে রান ১ হাজার ৫২৪। ৩৩ টি-টোয়েন্টিতে ৩১টি উইকেটের সঙ্গে রান ১৪৭।
ইংল্যান্ডের ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের অংশ ছিলেন ওকস। বিদায়বেলায় তিনি ফিরে গেলেন অতীতে।
“২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অভিষেক মনে হয় যেন গতকালকের, কিন্তু আনন্দমুখর পরিবেশে সময় কত দ্রুত চলে যায়। দুটি বিশ্বকাপ জয় ও অসাধারণ কিছু অ্যাশেজ সিরিজের অংশ হওয়া এমন কিছু, যা কখনও ভাবিনি যে সম্ভব হবে। সেই স্মৃতি ও আমার সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনগুলো চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে।”
“আমার মা-বাবা, আমার স্ত্রী অ্যামি এবং আমাদের মেয়ে লায়লা ও এভি, বছরের পর বছর ধরে তোমাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, সমর্থন ও ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ। তোমাদের ছাড়া এসবের কিছুই সম্ভব হতো না।”
পাশাপাশি সমর্থক, কোচ ও তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওকস।