অপহরণ করে ঢাবির হলে রেখে নির্যাতন, ছাত্রলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৪

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবসার সূত্রে জলিলের কাছে কয়েক লাখ টাকা পাওনা শাহাবুদ্দিনের। সেই টাকা আদায়ে তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে তিনি ব্যবহার করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2024, 12:03 PM
Updated : 25 Feb 2024, 12:03 PM

হাতিরঝিল এলাকা থেকে দুইজনকে অপহরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগে তিন ছাত্রলীগ কর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে হল থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করার পর রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হয় বলে হাতিরঝিল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানান।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাসান সাঈদি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার উপসম্পাদক মুনতাসির হোসাইন, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও মুহসীন হল ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ উপসম্পাদক আল শাহরিয়ার মাহমুদ তানসেন এবং মুনতাসিরের আত্মীয় শাহাবুদ্দিন।

আব্দুল জলিল নামের এক ব্যবসায়ী এবং তার বন্ধু হেফাজ উদ্দীনকে হাতিরঝিল এলাকার বাসা থেকে বুধবার তুলে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়েছে ওই চারজনের বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবসার সূত্রে জলিলের কাছে কয়েক লাখ টাকা পাওনা শাহাবুদ্দিনের। সেই টাকা আদায়ে তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে তিনি ব্যবহার করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক পাওনাদার আমাদের ছাত্রদের সহায়তা নিয়ে দেনাদারকে ধরে নিয়ে আসে। ওদিক থেকে সমঝোতা করে টাকা নিতে চাচ্ছিল তার কাছ থেকে। আমরা মনে করি এটা অপহরণ।

“আমরা খবর পেয়ে রুমে (৫৪৪ নম্বর কক্ষ) গিয়ে তাদের পেয়েছি। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে নিয়ে আসে। যেটা হলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, সেটা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনা করে বাকি ব্যবস্থা নেবে।”

হাতিরঝিল থানার ওসি আওলাদ হোসেন বলেন, অপহরণ ও ‍নির্যাতনের অভিযোগে ওই চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন আব্দুল জলিলের স্ত্রী আনজুমান আকতার। সেই মামলায় চারজনকে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ বলছে, শাহাবুদ্দিন তার পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য তার আত্মীয় মুনতাসিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মুনতাসির তখন অন্যদের সঙ্গে নিয়ে জলিল ও তার ব্ন্ধু হেফাজ উদ্দিনকে অপহরণ করেন এবং মুহসীন হলের ৫৪৪ নম্বর কক্ষে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সেখান থেকে দুজনকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। তখনই চারজনকে আটক করে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়।