Published : 30 Jun 2026, 12:26 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম না সরায় সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর পাঁচ প্রতিনিধি।
সোমবার রাতে সিনেট অধিবেশনের সভাপ উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ওই পাঁচ স্থাপনার নাম পরিবর্তনে সদস্যদের মতামত আহ্বান করেন।
এ স্থাপনাগুলো হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, সুলতানা কামাল হোস্টেল।
অধিবেশনে সিনেট সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান সিদ্ধান্তটি সিনেটে গৃহীত হয়েছে কিনা জানতে চান। জবাবে সিনেটের সভাপতি সিদ্ধান্ত না হওয়ার কথা জানান।
তখন অধ্যাপক লুৎফর রহমান সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত সিনেটে আসার আগে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের কথা বলেন।
তবে সে নিয়ম উপেক্ষা করে সিনেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর সিন্ডিকেট সভায় তোলা যায় কিনা সে দাবি তোলেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক-জিএস এস এম ফরহাদ।
ফরহাদ দাবি করেন, “‘ফ্যাসিবাদের আইকনগুলো’ এখনো থাকায় হলগুলোর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় বঞ্চিত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সিনেট সভায় সে সিদ্ধান্ত (বাদ দেওয়া) নেওয়া যায় কিনা; পরে তা সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদন করা হবে।”
সাদিক কায়েম একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “স্মৃতিসৌধে শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ফুল দিতে গেলে সেখানে পুলিশের সদস্যরা তাদের দৌড়ানি দেয়, শুধুমাত্র এ নাম দেখে। এরপর ডিবেট ক্লাবের নাম হওয়ায় অনেকে ফান্ড না দেওয়ায় কার্যক্রম চালানো যায়নি। এর দ্বারা শিক্ষার্থীরা ‘ভিক্টিমাইজড’ হচ্ছে।”
জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম নিয়ম অনুযায়ী সিন্ডিকেট সভায় এসব স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন। এর প্রতিবাদে ডাকসুর পাঁচ প্রতিনিধি সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান।
ডাকসুর ভিপি ও জিএসের বাইরে ওয়াকআউট করা তিন প্রতিনিধি হলেন এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।
এ সময় উপাচার্য তাদের বারবার বসতে বললেও ছাত্র প্রতিনিধিরা তা শোনেননি। সিনেট সভা থেকে বেরিয়েও ছাত্র নেতারা বিষয়টি নিয়ে আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।