Published : 08 Jan 2026, 12:27 AM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণার মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়টির আশাপাশে ভিড় করেছেন বহিরাগত অনেকে; রয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও।
বুধবার বিকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে ভিড় বেড়ে যায়, রাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভিড় ছিল মঙ্গলবার রাতেও।
উপস্থিত বহিরাগতদের কেউ কেউ নিজেদের ‘সচেতন নাগরিক’ পরিচয় দিয়ে বলছেন, নির্বাচন আয়োজন দেখতেই তারা হাজির হয়েছেন।
বহিরাগতদের সঙ্গে সাবেক শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসের সামনের ভিড়ে দেখা গেছে। ‘সতর্ক অবস্থানে’ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার রাতে ভিড়ের মধ্যে মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে দেখি লোকজন ভিড় করছে, সেজন্য দেখার জন্য আসলাম। নির্বাচনের ফলের অপেক্ষা করছি, দেখতেসি।”
নির্বাচনের অংশ নেওয়া কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আছেন কি-না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “যে পাস করে, সেই আমাদের দল।”
অপর এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা আসছি নির্বাচন দেখতে। উৎসবমুখর নির্বাচন দেখে খুব ভালো লাগতেসে।”
মধ্যবয়স্ক আরেকজন বলেন, “আমরা ভোট দেখতে এসেছি। ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলে জেনেছি, কিন্তু এখনও ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? আমরা চিন্তার মধ্য আছি।”
ওই ব্যক্তি কামরাঙ্গীর চর থেকে এসেছেন জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে আমাদের কোনো প্যানেল নাই। সচেতন নাগরিক হিসাবে আমরা যেকোনো ইলেকশনকে ‘অ্যাপ্রিসিয়েট’ করি, সেজন্য এখানে এসেছি।”
তিনি বলেন, “যারা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে, তারাই জয়ী হবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে আসছে, দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে যারা কাজ করেছেন, জাতি তো দেখছে, ছাত্রশিবির অভাবনীয় কাজ করছে। আমরা তো চাইব এরকম কোনো দল বিজয়ী হয়।”
নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কথা বলেন তিনি।
অপরদিকে সুত্রাপুর থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নির্বাচন দেখতে এসেছি। ছাত্রদের নির্বাচন হলেও এটা দেখার অধিকার আমাদেরও আছে।”
মধ্যবয়স্ক আরেকজন বললেন, তিনি এসেছেন গুলিস্তান থেকে। তার ভাষ্য, “নির্বাচন দেখতে এসেছি। কখন ঝগড়াঝাটি লাইগা যায়, তা দেখার জন্য এসেছি।”
মোহাম্মদপুর থেকে আসা এক যুবক নিজেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বলেন, “প্রথমবারের মত জকসু নির্বাচন হচ্ছে। আমি সাবেক শিক্ষার্থী, তাই আগ্রহের জায়গা থেকে দেখতে এসেছি।”
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জকসুর ভোটগ্রহণ হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ফল প্রকাশ শুরু হয়। রাত পর্যন্ত ২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
এ কেন্দ্রগুলোর ভোটে শীর্ষ তিন পদেই এগিয়ে গেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। অপরদিকে জিএস ও এজিএস পদে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা আগের মতই এগিয়ে রয়েছেন।
এ ছাড়া অন্যান্য সম্পাদকীয় পদেও শিবিরের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। সদস্য পদের শীর্ষ সাতে এগিয়ে আছেন এ প্যানেলের পাঁচজন।