Published : 11 Jun 2026, 04:30 PM
আবাসন সুবিধাবঞ্চিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এককালীন ৯ হাজার টাকা করে ‘বিশেষ বৃত্তি’ পাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার প্রতিটি অনুষদের দুজন শিক্ষার্থীর হাতে প্রতীকীভাবে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবগুলোতে বৃত্তির টাকা পাঠানো হবে।
বিশ্ববিদ্যাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ হাজার ১২৪ জন এই বৃত্তির আওতায় এসেছেন। এ জন্য সরকার থেকে পাওয়া ১০ কোটি টাকার তহবিল থেকে প্রযোজ্য ভ্যাট ও অন্যান্য কর্তন শেষে অর্থ বিতরণ করা হবে।
এই বিশেষ বৃত্তির সুবিধা পাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচ (শিক্ষাবর্ষ ২০১৯-২০) থেকে ২০তম ব্যাচ (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫) পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির নেতারা, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, জকসু প্রতিনিধি, ছাত্রসংগঠনের নেতারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমাদের ৪০ কোটির বেশি টাকা পাওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান পর্যায়ে আমরা ১০ কোটি টাকা পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা থাকলে বাকি অর্থও দ্রুত আনার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমীন বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ বৃত্তি সময়মতো বিতরণ করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। অর্থ ও হিসাব দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে না পড়েন। পাশাপাশি আবাসন সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়েও আমরা কাজ করছি।”
গত বছরের মে মাসে আবাসন ভাতা বৃদ্ধি, বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা করেন। মিছিলটি কাকরাইলে পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত অন্তত ২৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
টানা তিন দিনের আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিলে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
সেই আন্দোলনের দাবিগুলোর একটি ছিল আবাসন ভাতা। এ খাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫৬ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। এক বছর পর সরকার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়, যা থেকে শিক্ষার্থীরা এককালীন ৯ হাজার টাকা করে বিশেষ বৃত্তি পাচ্ছেন।