Published : 17 Dec 2025, 01:53 AM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চলমান পরিস্থিতি নিয়ে পাল্টাপাল্টা বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শাখা।
চাকসু বিবৃতিতে ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনির ওপর হামলার চেষ্টা ও গালাগালাজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদল তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবু হাসনাত মো. রুকনুদ্দিন বিবৃতি দুটি সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
চাকসুর বিবৃতিতে বলা হয়, “গতকাল (সোমবার) ছাত্রদল কর্তৃক প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানোর ঘটনায় সমাধান করার জন্য চাকসু নেতৃবৃন্দ প্রশাসনিক ভবনের সামনে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদল সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান চাকসু ভিপিকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন। এটি দেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য লজ্জাজনক। ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এতে বলা হয়, “ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করার পরও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও উদ্ধতপূর্ণ ভঙ্গিতে আমাদের ভিপির দিকে তেড়ে আসেন। একটি ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতার এমন আচরণ নিন্দনীয়।”
অপরদিকে ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “উপ-উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্যের পর শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করেছিল, চাকসু সরাসরি যৌক্তিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও তারা কোনো বক্তব্য দেননি। বরং প্রশাসনের সহযোগিতায় আন্দোলনে বাধা প্রদান করা হয়। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
“পরে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়, এমনকি নারী সাংবাদিকদেরও হেনস্থা করা হয়।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, সহ-উপাচার্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থী হবেন এবং পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেবেন না। কিন্তু তিনি সভায় উপস্থিত থাকায় বাংলাদেশপন্থি শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন সভা বর্জন করতে বাধ্য হয়।”
ছাত্রদল বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “সন্ত্রাসী কায়দায় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাধা দিলে ছাত্রশিবিরকেও ছাত্রলীগের মত পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
এরআগে বুদ্ধিজীবী দিবসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসন আয়োজিত ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিষয়টি ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।
তিনি বলেন, “যে সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছে, সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, আমি মনে করি এটি রীতিমত অবান্তর। কারণ, ওই সময় তারা তাদের জীবন শঙ্কায় ছিলেন।”
অধ্যাপক শামীমের এ বক্তব্য ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে’ রোববার রাত সাড়ে ৯টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
এরপর সোমবার দুপুরে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শামীম উদ্দিন খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে বলেন। বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাত সাড়ে ১০টায় ভবনের সব ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীমের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে।
এক পর্যায়ে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন।