Published : 08 Oct 2025, 11:39 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বসানোর বরাদ্দ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সমালোচনা করছেন।
কারো কারো অভিযোগ, ‘কোষাধ্যক্ষকে ডিঙ্গিয়ে’ ডাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর ‘চাপ সৃষ্টি করে’ এসি কেনার বরাদ্দ আদায় করে নিয়েছেন।
এসি বসানোকে ডাকসু নেতাদের ‘বিলাসিতা’ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।
এদিকে এসি বরাদ্দ দেওয়ার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউই নিতে চাচ্ছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী বলছেন, উপ-উপাচার্য এসি লাগানোর অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু উপ-উপাচার্য বলছেন, তিনি রুটিন দায়িত্বে ছিলেন। ফাইলটি তিনি উপাচার্যের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ বলছেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. আকরাম হোসেন বলেন, “গত ৩০ সেপ্টেম্বর এসি কেনার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। টাকার বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমদ।”
তিনি জানান, ৯টা এসি বসাতে ৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এসি কেনার সমালোচনা করে বুধবার ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন সবশেষ ডাকসু নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের।
তিনি লেখেন, “বাস্তবতার আলোকে ডাকসু নেতাদের থেকে এমন বিলাসিতা অপ্রত্যাশিত। সেই জায়গায় কোনো প্রকার নিয়মের তোয়াক্কা না করে, কোষাধ্যক্ষকে ডিঙ্গিয়ে নিজে বারবার ফোন দিয়ে প্রেশারাইজ করা আরো অ্যালার্মিং।
“যেটা উনিশের ডাকসুতে ছাত্রলীগ চাইলেও লীগের তাবেদারী করা প্রশাসন অনুমোদন দেয়নি, সেটা পঁচিশে এসে নিরেপক্ষ প্রশাসন ফোন কল পেয়েই চাপে পড়ে দিয়ে দিলেন!”
তিনি লেখেন, “ভিসি আসলেই নিরপেক্ষ, কারো চাপ তিনি আমলে নেন না। নিয়মের বাহিরে কিছু করেনও না। তবে এই এসি কেনা নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না বা তার অনুমোদন দেওয়াটা বেআইনি কিনা, সেটা তিনি প্রক্টর স্যার থেকে শিগগিরই জেনে নেবেন। আশা করি, ভিসি স্যার এ বিষয়ে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করবেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।”
বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি কোনো টাকা অনুমোদন দিইনি।
“কোষাধ্যক্ষ দেশের বাইরে থাকায় আমি রুটিন দায়িত্বে ছিলাম। ফাইলটি আমার কাছে যখন এসেছে, আমি উপাচার্যের কাছে পাঠিয়েছি।”
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এসব বিষয়ে অবগত নই। আমি যখন ছুটিতে ছিলাম, তখন এ কাজ হয়েছে। আমি এ বিষয়ে জানি না।”
ডাকসু নির্বাচনে বাম ধারার সাত সংগঠন থেকে এজিএস প্রার্থী হওযা জাবির আহমদ জুবেল লিখেছেন, “চলতি বছরের ডাকসুর জন্য প্রশাসনের বরাদ্দকৃত বাজেট ৩০ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গত এক মাসে ডাকসুর উদ্যোগে ঠিক কত টাকার কাজ হয়েছে, তার কোনো হিসাব আমরা পাইনি। কিন্তু ডাকসু নেতাদের কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে এসি স্থাপনে ৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়সহ ডাকসু ভবনের সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনে ২৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
“প্রতিটি কাজ উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিপিএম পদ্ধতিতে করা হয়েছে। তারা প্রতিটা কাজেই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন। ডাকসুর এই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করার প্রতিটি পদক্ষেপেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে অনিয়ম এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।”
তিনি বলছেন, “ডাকসু নেতারা নিজেদের ব্যক্তিগত যে কোনো চেম্বার নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থে, সংগঠনের অর্থে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের স্পনসরে যা ইচ্ছে করতে পারেন। কিন্তু ডাকসু কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কাজ প্রশাসনের মধ্যে থেকে, নিয়মনীতির মধ্যে থেকেই করতে হবে। স্পনসর নেওয়ার নাম করে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনীর জায়গাও করা যাবে না।”
দরপত্র আহ্বান না করার বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে দ্রুত এ কাজটি করতে; আমরা করছি।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
অভিযোগের বিষয়ে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ দাবি করেন, “এসি বসানোর বিষয়ে ডাকসু নেতাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যা করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করেছে।”
গত ৯ সেপ্টম্বর ডাকসু নির্বাচন হয়। এতে ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পান ৯টিতে। বাকি তিনটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পান।