Published : 11 Jun 2026, 06:15 PM
টেস্ট দলে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছিলেন নির্বাচকরা। সেখানেই তাদের নজর পড়েছে রবিউল হকের ওপর। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পারফরমারকে বাজিয়ে দেখতে চান তারা। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের খেলার ধরন বদলের যে চেষ্টা চলছে, সেটির প্রয়াসেই দলে নেওয়া হয়েছে তাওহিদ হৃদয়কে।
জিম্বাবুয়ে সফরের বাংলাদেশ টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে এই দুজনকে। রবিউল সুযোগ পেয়েছেন প্রথমবার, হৃদয় দ্বিতীয়বার।
২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছিলেন হৃদয়। খেলার সুযোগ পাননি। এরপর আর কখনও স্কোয়াডে ঠাঁই মেলেনি। প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খেলেছেন মোটে ১৬টি। তার পরও তাকে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
“তাওহিদ হৃদয় সাদা বলে নিয়মিতই খেলে। আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই…টেস্ট ম্যাচে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ভিন্ন ধরনের খেলা খেলছি। আমার মনে হয়, সে ভালো একটা অপশন হতে পারে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কিন্তু তার রেকর্ড খারাপ নয় এবং সে যখন ব্যাটিং করে, যখন যেখানে ব্যাটিং করে, খুব ইম্প্যাক্টফুল ইনিংস খেলতে পারে।”
“বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি সে। আমি তার ব্যাপারে খুব আত্মবিশ্বাসী, লাল বলে সুযোগ পেলে ভালো করবে।”
‘ভিন্ন ধরনের’ ক্রিকেট বলতে হাবিবুল বোঝাচ্ছিলেন একটু আগ্রাসী ঘরানার কথা, যে ভাবনা থেকে গত সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তানজিদ হাসানকে।
রবিউলের দলে ডাক পাওয়াকে বলা যায় সত্যিকার অর্থেই চমক। এমনিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি মোটামুটি পারফর্ম করেন। তবে জাতীয় দলের বিবেচনায় সেভাবে কখনও ছিলেন না। হাবিবুলদের আশা, ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে দিয়ে দলের একটি শূন্যতা দূর হবে।
“রবিউল আমাদের সম্ভাব্য বোলিং অলরাউন্ডার। আমরা একজন বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছি। তো এই সিরিজটাতে একটু যদি দেখার সুযোগ থাকে, তাকে দেখে নেব। সে ভালো ফর্মে আছে। গত বিসিএলও ফাইনালেও খুব ভালো খেলেছে। গত তিন-চার বছর ধরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে একজন পরীক্ষিত অলরাউন্ডার। তাকে আমরা একটু সুযোগ দিয়ে দেখতে চাই এই সিরিজটাতে।”
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রবিউলের ব্যাটিং পরিসংখ্যান দেখে অবশ্য তাকে অলরাউন্ডার মনে হবে না। ৩২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার ফিফটি দুটি, গড় ২০.৭৫। তবে ব্যাটের হাত তার খারাপ নয়। গত জাতীয় লিগে এক ম্যাচে ৭০ রানের ইনিংস খেলেছেন।
বল হাতে গত জাতীয় লিগে উইকেট নিয়েছেন তিনি ৫ ম্যাচে ২২টি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে এক ম্যাচ খেলে ইনিংসে পাঁচটিসহ উইকেট নিয়েছিলেন ৬টি।