১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পদ ছাড়লেন জগন্নাথ উপাচার্যও

পদত্যাগ করার জন্য তাদের ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পদ ছাড়লেন জগন্নাথ উপাচার্যও
অধ্যাপক সাদেকা হালিম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2024, 08:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:13 AM

শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক তানভীর আহসান রোববার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উনাদের পদত্যাগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। আগামীকাল অফিসিয়ালি জানানো হবে।”

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। তাছাড়া সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি আমাকে পদত্যাগপত্র দিয়েছে, আমিও পদত্যাগ করেছি। শুধু ট্রেজারার পদত্যাগ করেননি। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না।”

আওয়ামী লীগের সরকারপতনের পর ক্ষমতার পালাবদলের ডামাডোলের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এর ধারাবাহিকতায়  

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়করা রোববার উপাচার্যসহ প্রক্টরিয়াল বডি, প্রভোস্ট, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ও রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগ করতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়।

সোমবার বেলা ৩টার মধ্যে তারা পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের সভা থেকে। এরপর সন্ধ্যায় উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরিয়াল বডির পদ ছাড়ার খবর আসে। 

একজন সহকারী প্রক্টর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটামের জন্য নয়, পদত্যাগ করার চিন্তা ভাবনা অনেক আগে থেকে আমরা নিয়েছি। আজ আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।”

আর উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “রাষ্ট্রপতি বরাবর আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলাদেশের তথ্য কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।  

শিক্ষার্থীরা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক দীপিকা রানী সরকার এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালক জি এম আল আমীনেরও পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে তাদের ইস্তফা দেওয়ার কোনো খবর রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত মেলেনি।