Published : 29 Jun 2026, 04:49 PM
গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি মৌলিকত্ব ও গবেষণা নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। এ পরিবর্তিত বাস্তবতায় গবেষণার নতুন পদ্ধতি ও মানদণ্ড তৈরির তাগিদ এসেছে এক সেমিনারে।
বাংলাদেশে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার অতীত, বর্তমান প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে এই সেমিনারে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, “স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার বিষয়বস্তু ও প্রবণতায় ধারাবাহিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে গবেষণার বড় চ্যালেঞ্জ হল, কেবল বর্ণনামূলক গবেষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্লেষণধর্মী ও সমালোচনামূলক গবেষণা বাড়ানো। বাংলাদেশকে শুধু জ্ঞানের ভোক্তা নয়, জ্ঞানের উৎপাদক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, “সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় প্রচলিত গবেষণা পদ্ধতির পাশাপাশি এআই ও নতুন প্রযুক্তির প্রভাব এখন বড় বাস্তবতা। গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি মৌলিকত্ব ও গবেষণা নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। এ পরিবর্তিত বাস্তবতায় গবেষণার নতুন পদ্ধতি ও মানদণ্ড তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।”

গত এক যুগে সমাজ ও রাষ্ট্রে যে পরিবর্তন ঘটেছে, শিক্ষার্থী ও তরুণদের মানসিকতা এবং সামাজিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও বার্ধক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা, গবেষণার অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা অবকাঠামো, তথ্যপ্রাপ্তি এবং গবেষণার ফল নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
“গবেষণায় প্রতিযোগিতাভিত্তিক অর্থায়ন, জাতীয় ডেটা আর্কাইভ, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক, গবেষণা নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ গবেষকদের ফেলোশিপ ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণাকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণাকে আরও আত্মপ্রতিফলনশীল, জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে সুদৃঢ় এবং সমাজ-রূপান্তরকারী ধারায় এগিয়ে নিতে হবে, যাতে দেশের গবেষণা বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।”
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এম আসলাম আলম, ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, জাবির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।