Published : 14 May 2025, 02:33 PM
শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার ঘটনার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন ছাত্রদলের নেতারা।
বুধবার বিশ্বিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত ছাত্রদল নেতা সাম্যর মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবি করে ‘বহিরাগতদের’ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সামবেশ করেছেন নেতা-কর্মীরা।
এ সময় তারা উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসার সময় মঙ্গলবার রাত ১১টার ছুরিকাঘাতে আহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫)।
রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধুরা সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেলা ১২টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিল বের করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সে সময় ‘দফা এক দাবি এক, ভিসির পদত্যাগ’, ‘আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে, প্রশাসন কী করে’, ‘নয় মাসে দুই খুন, ভিসি-প্রক্টরের অনেক গুণ’, 'এক দুই তিন চার, ভিসি তুই গদি ছাড়' ইত্যাদি স্লোগান তোলেন নেতা-কর্মীরা।
ওই মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের সামনে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। মিছিলে মহানগর ছাড়াও ঢাকা কলেজ এবং তিতুমীর কলেজের নেতা-কর্মীরা যোগ দেন।
পরে মিছিল শেষে সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “গত ৯ মাসে যে দুইটা খুন হয়েছে এ দুই খুন হয়েছে তার দায় ভার ভিসি-প্রক্টরকে নিতে হবে। আমরা দেখছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। অথচ সরকার তা নিয়ে নিশ্চুপ।“
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “অতি দ্রুত আমরা এই ভিসি ও প্রক্টরকে সরানোর অনুরোধ করছি সরকারের কাছে। না হলে আমরা এই ইন্টেরিম সরকারকেই সরাতে বাধ্য হব।“
উপাচার্য-প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনও।
মঙ্গলবার রাতে, ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেছিলেন,রাতে বন্ধুরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এরপর চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তার ডান পায়ে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

সাম্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়তেন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।
তার বন্ধুরা জানিয়েছেন, ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত সাম্য এফ রহমান হলের ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।
সাম্যকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাফি ও তার আরেক বন্ধু আবাবিল আহমেদ বিশাল বলেন, রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্ত মঞ্চের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাম্য। এসময় অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়।
এক পর্যায়ে সাম্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান পায়ের উরুতে আঘাত করে পালিয়ে যায় ওই মোটরসাইকেলের আরোহী। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তার মৃত্যু হয়।
সাম্য হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশ এক বার্তায় জানিয়েছে, সাম্য হত্যার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। তবে তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ জানায়নি।
রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
সাম্য খুন হওয়ার প্রতিবাদে হাসপাতালে জড়ো হওয়া তার বন্ধু, সহপাঠী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। রাত পৌনে ২টার দিকে স্যার এফ রহমান হলের সামনে থেকেও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে সব মিছিল ভিসি চত্বরে এসে জড়ো হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা 'আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে', 'আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব দে', 'বিচার বিচার বিচার চাই, সৌম্য হত্যার বিচার চাই' সহ নানা স্লোগান দিতে থাকে।
পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন। তখন অনেকে ভিসির বিরুদ্ধেও 'শেইম-শেইম বলে স্লোগান দিতে থাকে।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন উপাচার্য।
মিছিল শেষে, উপাচার্য ও প্রক্টর নিহত শিক্ষার্থীকে দেখতে ভেতরে ঢুকতে চাইলে শিক্ষার্থীদের বাধায় ঢুকতে পারেননি।
এসময় শিক্ষার্থীরা 'অথর্ব প্রক্টর, মানি না মানব না', 'অথর্ব ভিসি-মানি না , মানব না' সহ নানা স্লোগান দেয়।
পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন। তখন অনেকে ভিসির বিরুদ্ধেও 'শেইম-শেইম বলে স্লোগান দিতে থাকে।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন উপাচার্য।

পরে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গিয়ে শেষ হয়। মাঝপথে মিছিলে যোগ দেন প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ।
মিছিল শেষে, উপাচার্য ও প্রক্টর নিহত শিক্ষার্থীকে দেখতে ভেতরে ঢুকতে চাইলে শিক্ষার্থীদের বাধায় ঢুকতে পারেননি।
এসময় শিক্ষার্থীরা 'অথর্ব প্রক্টর, মানি না মানব না', 'অথর্ব ভিসি-মানি না , মানব না' সহ নানা স্লোগান দেয়।
পরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে হাসপাতাল থেকে অ্যম্বুল্যান্সে করে স্থান ত্যাগ করেন উপাচার্য ও প্রক্টর।
এরপর শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে একটা মিছিল নিয়ে যান।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা।